• ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৬শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

মির্জাগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থীর অফিস ভাংচুরের অভিযোগ আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত নভেম্বর ২২, ২০২১, ১৮:২২ অপরাহ্ণ
মির্জাগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থীর অফিস ভাংচুরের অভিযোগ আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে
স্বপন কুমার ঢালী // পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মজিদবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে পাল্টাপাল্টি উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গত  সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থীর সমর্থকেরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর একাধিক নির্বাচনী অফিসে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, গত দুইদিন আগে নির্বাচনী প্রচারনা করার সময়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এতে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর  সর্মথকের কমপক্ষে ৬ জন আহত হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থীর ৩ জন সমার্থক এখনও মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উত্তেজনাকর ও ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গতকাল রবিবার দুপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সহিদুল্লাহ সানু মোল্লা  তাঁর নির্বাচর্নী ক্যাম্প ও তাঁর কর্মীদের জীবন নাশের হুমকি এবং দোকান ভাংচুর করে মালামালের ক্ষয়-ক্ষতির অভিযোগ দিয়েছেন দ্বায়িত্বরত রিটানিং কর্মকর্তা মো. তানজিমুল ইসলামের কাছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সহিদুল্লাহ সানু মোল্লা সাংবাদিকদের বলেন,’ গত ২০ নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যার  প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার মো. গোলাম সরোয়ার কিচলু হাওলাদারের দুই ছেলের নেতৃত্বে শতাধিক মটরসাইকেল বহর নিয়ে মহড়া দেয়। এ সময় আমার বাড়ির সামনে কুদবারচর হাবিব বাজার থেকে মিছিলের পাশাপাশি দোকানে ও নির্বাচী ক্যাম্পে হামলা চালায়। ‘

তিনি আরো বলেন,’ খলিশাখালী বাজারের নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা করে অফিস ঘরের চেহার ভাংচুর করে এবং সাউন্ডবক্স সড়কের পাশে ফেলে দেয় নৌকার সমর্থকরা।’

এ বিষয় নৌকার  প্রার্থী মো. গোলাম সরোয়ার কিচলু এ ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে তাঁরা নানা কথা রটাচ্ছে। আমি এবারে এমন একটি নির্বাচন করতেছি তা আমি স্বপ্নেও ভাবেনি। আজকে একটি স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার পরিবার ও শান্তি কমিটির লোকের সাথে নির্বাচন করতেছি।

তাকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নামধারী কিছুসংখ্যক লোকের ইন্দনে তাঁরা এটা করতেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন আমার ইউনিয়নের হাবিব বাজার ও কুদবারচরের পাগলা বাজারে একটি ফার্মেসি, দোকান ঘর,চায়ের দোকান, নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করেছে গত কয়েকদিন আগে।

আমার কর্মী নির্বাচনী পোষ্টার লাগানোর সময়ে ৩ জনকে পিটিয়ে আহত করেছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন। স্বতন্ত্র প্রার্থী এলাকার বাইর থেকে লোকজন ভাড়া করে এলাকার মানুষের মধ্যে ভীতের সৃষ্টি করছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা দায়িত্বরত রিটানিং কর্মকর্তা ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. তানজিমুল ইসলাম বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস ভাংচুরের অভিযোগ দিয়েছেন নৌকা মার্কা প্রার্থী ও  সমর্থকদের বিরুদ্ধে। অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ‘

মির্জাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, ‘ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন শৃংঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ওই ইউনিয়নে পুলিশের টহল জোরদার রয়েছে।

    এদিকে টহল পুলিশ গতকাল (২১ নভেম্বর) বিকেলে হাবিব বাজার এলাকা থেকে দেশীয় অস্ত্র ছোরাসহ একজনকে আটক করে।