• ২৩শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১২ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

মাকে নিয়ে কালজয়ী সেই চারটি গান

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত মে ৯, ২০২১, ১৭:০০ অপরাহ্ণ
মাকে নিয়ে কালজয়ী সেই চারটি গান

বিনোদন ডেস্ক॥ আজ রোববার (৯ মে) বিশ্ব মা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে মায়েদের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা, সম্মান ও ভালোবাসা প্রকাশ করছেন সারা পৃথিবীর সন্তানেরা। সামাজিকমাধ্যমেও ছড়িয়ে গেছে সেই ভালোবাসার রেশ। মাকে নিয়ে তৈরি জনপ্রিয় চারটি গানের গল্প নিয়ে এই আয়োজন।

 

মাগো মা, ওগো মা:

মাকে নিয়ে মো. খুরশিদ আলমের গাওয়া কালজয়ী গান। গাজী মাজহারুল আনোয়ারের কথায় গানটির সুর করেছিলেন সত্য সাহা। মো. খুরশিদ আলম জানান, ১৯৭৬ সাল গানটি তৈরি হয়। সত্য সাহা তখন কলাবাগানে থাকতেন। প্রায়ই তার বাসায় গিয়ে গানের চর্চা করতেন খুরশিদ আলম। একদিন সত্য সাহা তাকে বললেন, দীলিপ বিশ্বাসের ‘সমাধি’ সিনেমায় মাকে নিয়ে একটা গান গাইতে হবে। রেকর্ডিংয়ের দিন বেশ সেজেগুজে কাকরাইলের স্টুডিওতে হাজির হন তিনি। গিয়ে দেখেন যন্ত্রশিল্পীরা বসে আছেন। তখন সরাসরি গান রেকর্ডিং হতো। যন্ত্রশিল্পীরা বাজাচ্ছেন, তিনি গাইছেন। রেকর্ডিং চলছে। প্রায় ২০ বার গানটির টেক দিতে হয়েছিল তাকে। সারা রাত চলে রেকর্ডিং শেষ হয় সকালে। গাইতে বেশ কষ্ট হয়েছিল তার। তবে প্রকাশের পর গানটির সাফল্যে সব কষ্ট দূর হয়ে গেছে।

একটা চাঁদ ছাড়া রাত:

এই গানটি দিয়ে শ্রোতাদের মনে দারুণভাবে নাড়া দিয়েছিলেন কুমার বিশ্বজিৎ। গানটিতে তিনি কণ্ঠ দেন নিজের সুরে। গীতিকার কবির বকুল। কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, ‘আমার খুব বেশি আবেগ দিয়ে গাওয়া কয়েকটি গানের মধ্যে এটি একটি। ২০০৯ সালে গানটি যখন করছিলাম, আমার মা তখন অসুস্থ। ‘স্বামী স্ত্রীর ওয়াদা’ সিনেমার এ গানটির সুর করার জন্য সময় দেওয়া হয় অল্প কয়েক দিন। কারণ শুটিংয়ের তারিখ নির্ধারণ করা ছিল। একদিকে মাকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া-আসা, অন্যদিকে গানের জন্য তাড়াহুড়া। কথা পাওয়ার পর একদিন গভীর রাতে গানটির মুখের অংশ সুর করি। অন্তরার সুর করি পরদিন দুপুরে। এরপর অনেক কাটছাঁট করা হয়। যখন গাইছিলাম, মায়ের কথা খুব মনে পড়ছিল। চোখে জল চলে আসছিল। প্রকাশের পর গানটির জন্য মানুষের অগণিত ভালোবাসা পেয়েছি।’

দশ মাস দশ দিন (মা):

‘এখনো দুচোখে বন্যা’ অ্যালবামে মাকে নিয়ে জেমসের গাওয়া তুমুল জনপ্রিয় গান। বিভিন্ন স্টেজ শোতেও গানটি নিয়মিত গেয়ে থাকেন জেমস। গানটির কথা ও সুর করেছেন প্রিন্স মাহমুদ। তিনি জানান, ‘১৯৯৭ সালে তার মা মারা যান। মাকে নিয়ে তখন কষ্টের অনুভূতির মধ্যে ছিলেন। তখনই গানটির কথা তার মাথায় আসে। প্রথম দুই-তিন লাইন লেখার পর তা আর এগোয়নি। পরে ১৯৯৯ সালে ‘এখনো দুচোখে বন্যা’ অ্যালবামের কাজ করতে গিয়ে গানটি নিয়ে নতুন করে ভাবেন। এক সন্ধ্যায় লেখাটি সম্পন্ন হয়। রেকর্ডিং হয় হাতিরপুলের সাউন্ড গার্ডেন স্টুডিওতে। এখন যে রিদমটা গানে বাজে শুরুতে এটা ছিল না। তিন-চারবার মিউজিক বদল করা হয়েছে। শুরুতে অন্য একজনকে দিয়ে গাওয়ানোর কথা ভেবেছিলেন তিনি। পরে তার মনে হলো জেমসই সবচেয়ে বেশি ভালো গাইবেন। প্রকাশের পর গানটির প্রতি শ্রোতাদের রেসপন্স দেখে তিনি বিস্মিত হন! যখনই কেউ গানটির কথা বলে, প্রশংসা করে তার ভালো লাগে।’

মা তুমি আমার আগে যেয়ো নাকো মরে:

মাকে নিয়ে পলাশ সাজ্জাদের গাওয়া জনপ্রিয় গান। কথা ও সুর করেছেন মিল্টন খন্দকার। পলাশ বলেন, “২০০০ সালে আমি ‘ভুল করেছি ভালবেসে’ অ্যালবামের কাজ করছিলাম। কথা ও সুর করছিলেন মিল্টন খন্দকার। আমাদের পরিকল্পনা ছিল প্রেমের গান দিয়েই অ্যালবামটি করার। কিন্তু কাজের মাঝখানে একদিন মিল্টন ভাইয়ের গ্রামের বাড়ি থেকে ফোন আসে—তার মা খুব অসুস্থ। এ খবরে তিনি খুব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। মায়ের জন্য প্রার্থনা আর ভালোবাসা থেকেই লিখে ফেলেন—‘মা তুমি আমার আগে যেয়ো নাকো মরে’। পুরো লেখাটি সম্পন্ন হওয়ার পর বলেন অ্যালবামে গানটি রাখতে। রেকর্ডিং হয় তান স্টুডিওতে। গাইতে গিয়ে মনে হচ্ছিল কথাগুলো যেন আমার মাকেই বলছি। অ্যালবাম প্রকাশের পর গানটির জন্য সবাই প্রশংসা করতে থাকেন। ২০১৩ সালে শাহীন-সুমন ‘খোদার পরে মা’ সিনেমায় গানটি ব্যবহার করেন। এরপর জনপ্রিয়তা আরও বাড়ে। গানটির জন্য গীতিকার হিসেবে মিল্টন খন্দকার আর শিল্পী হিসেবে আমি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করি।”