কলাপাড়া প্রতিনিধি ॥
জ্যেষ্ঠতা লংঘন করে সহকারী অধ্যাপক পদে তিন শিক্ষকের কাগজপত্র অন-লাইনে সেন্ট করার অভিযোগে মাউশি পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ কালিম উল্লাহাকে ব্যাখ্যা চেয়ে সাত দিনের সময় দিয়েছে। এতে অধ্যক্ষ কালিম উল্লাহ একই কলেজের পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ের প্রভাষক চঞ্চল সাহাকে সাম্প্রদায়িক কথা উচ্চারন করে কি ভাবে চাকুরি করেন তা দেখিয়ে দেবার হুমকি দিয়েছে ।
বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে কলাপাড়া পৌরশহরের রাডার ষ্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে বাড়ী ফেরার পথে তাকে হুমকি দেয়া হয়। এ ঘটনায় ওই দিন বিকেলে প্রভাষক চঞ্চল সাহা কলাপাড়া থানায় ৭১৪ নং একটি সাধারন ডায়েরী করেছেন।
ডায়েরী সূত্রে জানা গেছে, প্রভাষক চঞ্চল সাহা মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল কলেজে ২০০০ সালে চাকুরিতে নিয়োগ পেয়ে দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে বিরতিহীন ভাবে কর্মরত আছেন।
তার মধ্যে ১০ বছর বিনাবেতনে চাকুরি করেছেন। ২০১০ সালের মে মাসে কলেজটি এমপিও ভুক্ত হয়।
২০১৮ সালের মে মাসে এমপিও’র আট বছর পূর্ন হলে সহকারী অধ্যাপকের জন্য তিনি সহ আরো দু’জন শিক্ষক কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বরাবরে আবেদন করেন। কমিটি তাদের পদোন্নতির সকল কাগজপত্র সরবরাহ করে অন-লাইনে সেন্ট করার অনুমতি দেন।
পরবর্তীতে অধ্যক্ষ তাদের কাছে খরচ বাবদ টাকা দাবী করে। এতে ওই শিক্ষকরা তার দাবী কিছুটা পূরন করলেও ,অধ্যক্ষ’র চাহিদা মত করতে পারেনি।
ইতো মধ্যে আরো একজন শিক্ষক পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করলে অধ্যক্ষ ১ নং জ্যেষ্ঠ শিক্ষক চঞ্চল সাহাকে বাদ দিয়ে গোপনে অপর তিনজন জুনিয়র শিক্ষকের কাগজপত্র মাউশি বরাবরে সেণ্ট করেন।
বিষয়টি সম্পর্কে প্রভাষক চঞ্চল সাহা জানতে পেরে এর প্রতিকার চেয়ে মাউশি বরাবরে আবেদন করেন। মাউশির উপপরিচালক মো.এনামুল হক স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে (স্মারক নং ৭জি/১৫৪(ক-৩) /১০(অংশ-১) ২০৮১/৩) অধ্যক্ষ কালিম উল্ল্হাকে জ্যেষ্ঠতা লংঘন করে জুনিয়র তিন শিক্ষকের কাগজপত্র অন-লাইনে সেন্ট করা এবং চাহিদা অনুযায়ী অনৈতিক দাবী করার ব্যাখ্যা চেয়ে সাত দিনের সময় দিয়েছেন।
এ চিঠি ৮ জুলাই প্রাপ্তির পর বুধবার (১৭ জুলাই) প্রভাষক চঞ্চল সাহা কলেজ শেষে বাড়ী ফেরার পথে অধ্যক্ষ অকথ্য ভাষায় তাকে গালাগাল ও সাম্প্রদায়িক কথা উল্লেখ করে কিভাবে কলেজে চাকুরী করেন তা দেখিয়ে দেবার হুমকি দেয়। এমনকি মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে চাকুরি থেকে বরখাস্তের হুমকি দেন।
এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ কালিম উল্লাহ হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।