• ১৩ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৪শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

মনপুরায় শ্রেণীকক্ষ দখল করে বসবাস করছে সুপার ও ছাত্রাবাস দখল করে বসবাস করছে শালা

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫, ১৮:১২ অপরাহ্ণ
মনপুরায় শ্রেণীকক্ষ দখল করে বসবাস করছে সুপার ও ছাত্রাবাস দখল করে বসবাস করছে শালা

Oplus_16908288

মনপুরা প্রতিনিধি॥ ভোলার মনপুরায় হাজিরহাট হোসাইনিয়া আলিম মাদ্রাসার সুপার দুইটি শ্রেণী কক্ষ দখল করে বসবাস করছে। পাশাপাশি ওই সুপারের আপন ছোট শালা ( স্ত্রীর ভাই) মাদ্রাসার ছাত্রাবাস দখল করে পরিবার নিয়ে বসবাস করছে। এতে ওই মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ব্যাহত হচ্ছে।

মাদ্রাসার সুপারের ক্ষমতার প্রভাবে অসহায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তারা জানান (নাম প্রকাশে অনিইচ্ছুক), দীর্ঘদিন ধরে সুপার মাও. মোসলেহউদ্দিন ও তার শালা তানভীর মাদ্রাসার শেণীকক্ষ ও ছাত্রাবাস দখল করে বসবাস করছে। এতে শ্রেণী কক্ষের সমস্যায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানে সমস্যা হচ্ছে। এছাড়াও ছাত্রবাস দখল করে সুপারের শালা তানভীর পরিবার নিয়ে বসবাস করায় বহিরাহত শিক্ষকরা থাকতে পারছেনা।

জানা যায়, গত আওয়ামীলীগ সরকারের সময় মাদ্রাসার সুপার মাও. মোসলেহউদ্দিন উপজেলা ওলামালীগের সভাপতি পদ দখল করে নেন জেলা কমিটির মাধ্যমে।

তারপর থেকে তিনি হয়ে উঠেন ক্ষমতাধর। তার ক্ষমতার প্রভাবে তার শালা দখল নেন ছাত্রাবাস। পরে সেখানে পরিবার নিয়ে আজ অবধি বসবাস করছেন।

সরজমিনে মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা গেছে, মাদ্রাসার সুপার মাও.মোসলেহ উদ্দিনসহ চার শিক্ষক নতুন নির্মিত বিল্ডিংয়ের দুইটি কক্ষ দখল করে বসবাস করছে।

সুপারের শালা মাদ্রাসা সংলগ্ন টিনসেড ছাত্রাবাস দখল করে পরিবার নিয়ে বসবাস করছে। আর এদিকে বিল্ডিং দখল করে সুপার বসবাস করলেও ছাত্ররা ক্লাস করছেন টিনসেড কক্ষে।

এই ব্যাপারে মনপুরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি মোঃ নুরনবী ও উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি একরাম কবির জানান, মাদ্রাসার সুপার মোসলেহউদ্দিন ও তার শালা তানভীর শ্রেণীকক্ষ ও ছাত্রাবাস দখল করে বসবাস করায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ব্যাহত হচ্ছে।

এই ঘটনাটি শিক্ষা আইনের পরিপন্থী। কতৃপক্ষ শ্রেণীকক্ষ ও ছাত্রাবাস দখলমুক্ত করে মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন তারা।

এই ব্যাপারে হাজিরহাট হোসাইনিয়া আলিম মাদ্রাসার সুপার মাও. মোসেলহ উদ্দিন জানান, তিনজন শিক্ষক বাহিরের তাই তাদের শ্রেণীকক্ষে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে তার শালা তানভীর মাদ্রাসার ছাত্রাবাস দখল করে বসবাসের বিষয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি নন।

এই ব্যাপারে মনপুরা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, শ্রেণীকক্ষ ও ছাত্রাবাস দখল করে বসবাস করার এখতিয়ার কারও নেই। এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এই ব্যাপারে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আবু মুছা জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।