• ২৩শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

মঠবাড়িয়ায় সেতু নয়, যেন পুলসিরাত

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত নভেম্বর ২০, ২০২৩, ১৬:৫৮ অপরাহ্ণ
মঠবাড়িয়ায় সেতু নয়, যেন পুলসিরাত

বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল ॥ নদীমাতৃক বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অজস্র নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়। এসব নদ-নদীতে রয়েছে ছোট বড় অসংখ্য সেতু। বিভিন্ন সময় প্রতিবেদকের পাঠানো সংবাদ ও ছবিতে দেখা গেছে, কোনোটির নেই সংযোগ সড়ক। কোনোটি আবার নদীর মাঝখানে। এমনকি খাল-বিল নদী নেই এমন জায়গাতেও রয়েছে সেতু। মই বেয়ে উঠতে হয়, এমন সেতুও রয়েছে বেশকিছু। তবে লোহার বিমের ওপর সুপারিগাছ ও বাঁশ দিয়ে সাঁকো বানানো পিরোজপুরের এ সেতুটি যেন সেতু নয়, সাক্ষাৎ পুলসিরাত।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার গোলবুনিয়া ও জানখালী গ্রামের সীমান্তবর্তী সাংরাইল খালের ওপর নির্মিত সংযোগ সেতুটির বেহাল অবস্থা। লোহার সেতুর পাটাতনের স্ল্যাবগুলো এক যুগ আগে ভেঙে গেছে। নিজেরা লোহার বিমের ওপর সুপারিগাছ ও বাঁশ দিয়ে সাঁকো বানিয়েছেন স্থানীয়রা। এভাবে ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হচ্ছেন ৬ গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষ।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩০ বছর আগে সাংরাইল খালের ওপর লোহার সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ২০০৭ সালের নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড় সিডরে গাছ পড়ে সেতুটির পাটাতন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর পর থেকে বিভিন্ন সময়ে পাটাতনের রড ও সিমেন্টের তৈরি স্ল্যাবগুলো ভেঙে যেতে থাকে। ১৩ বছর আগে সেতুটির স্ল্যাবগুলো ভেঙে যাওয়ায় সুপারিগাছ বিমের ওপর দেওয়া হয়। মেরামত না হওয়ায় এভাবেই লোকজন চলাচল করে আসছে।সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির লোহার বিমের ওপর থাকা পাটাতনের স্ল্যাবগুলো ভেঙে গেছে। শুধু লোহার খুঁটির ওপর বিম রয়েছে। বিমের ওপর সুপারিগাছ ও বাঁশ দিয়ে সরু সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। লোহার খুঁটি ও বিমে মরিচা ধরে জরাজীর্ণ হয়ে গেছে।

স্থানীয় একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীসহ সেতু দিয়ে প্রতিদিন জানখালী উলুবাড়িয়া হামিদিয়া দাখিল মাদরাসা, জানখালী সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৭৮ নম্বর জানখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঘোপখালী, জানখালী, উলুবাড়িয়া, নিজানিয়া এবং কালিকাবাড়ি, হোগলপাতি ও গোলবুনিয়া শত শত মানুষ চলাচল করে সেতুটি দিয়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা কবির হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় সিডরে সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেতু নির্মাণের জন্য জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার দাবি জানিয়ে আসছি। তবে কোনো ফল মেলেনি। নিরুপায় হয়ে সেতুর ওপর এক পাশে সুপারিগাছ ও বাঁশ দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করেছি। শিশুশিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় যেতে সেতুটি পার হতে গিয়ে অনেক সময় দুর্ঘটনায় পড়ে। সেতু দিয়ে পড়ে এক শিশুশিক্ষার্থীর হাত ভেঙে যায় ও এক বৃদ্ধ মহিলা আহত হন। তা ছাড়া কৃষিনির্ভর এ এলাকার মানুষ কৃষিপণ্য ঘাড়ে-মাথায় করে ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারাপার হয়ে বেতমোর বাজারে যাতায়াত করেন।

উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের প্রকৌশলী মো. জিয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগে সেতুটি উপজেলা পরিষদ নির্মাণ করেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রধান কার্যালয়ে মঠবাড়িয়ায় একটি জরাজীর্ণ সেতু তালিকা চেয়েছেন সেগুলো আমরা করে পাঠিয়েছি। উপজেলা ইউনিয়ন ও গ্রামীণ সড়কের সেতু নির্মাণ প্রকল্প ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) তালিকা পাঠানো হয়েছে। যদি অনুমোদন হয়ে তালিকা আসে তাহলে আরসিসি সেতু নির্মাণ করব।