হেলাল উদ্দিন লিটন, তজুমদ্দিন॥ ভোলা-৩ (লালমোহন–-তজুমদ্দিন) আসনে নবীন-প্রবীনের নির্বাচনী প্রচারণায় জমে ভোটের রাজনীতি। প্রধান দুইদল বিএনপি তথায় ধানের শীষের প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহাম্মেদের কর্মি সমর্থক ও বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী সমর্থিত এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির প্রার্থী নিজামুল হক নাঈমের কর্মিরা কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত প্রচারণার মাধ্যমে নির্বাচনের মাঠকে আনন্দমুখর করে তুলছেন।
দুইদলের প্রচারণায় দীর্ঘ ১৭ বছর পর নির্বাচনের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরী হয়েছে। যে কারণে সাধারণ ভোটাররা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঈদের আনন্দেরমত উপভোগ করছে।
দীর্ঘদিন ভোলা-৩ আসনটি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম তথায় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
এ আসন থেকে ৬বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দুইবার মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব পালন করেন এই প্রবীন রাজনীতিবিদ। সব মিলিয়ে ভোটের মঠে রাজনীতির দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও শক্ত প্রার্থী হিসেবে মাঠে মেজর হাফিজ।
মেজর হাফিজের সেই শক্তঘাঁটি দখলে নিতে মরিয়া ১০ দলীয় জোট সমর্থিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) প্রার্থী মুহা. নিজামুল হক।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে ফুলকপি প্রতীকে নির্বাচন করছেন তিনি। ভোলা-৩ আসনটিতে মোট পাঁচজন প্রার্থী থাকলেও ভোটাররা মনে করছেন মূল লড়াইটা হবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহাম্মেদ বীর বিক্রম ও নিজামুল হক নাঈমের মধ্যে।
প্রবীন বয়সে এসেও মেজর হাফিজ শুরু থেকেই নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ নিয়ে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত চষে বেড়াচ্ছেন।
প্রচারনায় অংশ নিয়ে তিনি নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন ও অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ শেষ করার অঙ্গীকারের পাশাপাশি তুলে ধরছেন বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১দফাও।
তিনি সপ্তমবারের মতো নির্বাচিত হতে পারলে তজুমদ্দিন-লালমোহন থেকে মাদক, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস ও দূর্ণীতি নির্মুলে কাজ করে দুই উপজেলাকে মডেল উপজেলা হিসেবে রুপান্তরিত করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন সাধারণ ভোটারদের।
ইতোপূর্বে তিনি মন্ত্রী থাকাকালী তজুমদ্দিন উপজেলায় ভূমিহীন ১০ হাজার পরিবারকে বিনামূল্যে খাস জমি দিয়েছেন। পুনরায় নির্বাচিত হলে ভূমিহীন মানুষকে আবারও চরের খাসজমি বন্ধবস্তের ব্যবস্থা করবেন।
ভোলা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ বীর বিক্রম বলেন, যদি ভোটাররা আমাদের দল বা আমাকে নির্বাচিত করেন তাহলে লালমোহন-তজুমদ্দিন অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপশি নিন্মগামী শিক্ষার ব্যবস্থাকে ঢেলে সাঁজানো হবে আগামীদিনে দেশে সু-নাগরিক গঠনের লক্ষে।
অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের রাজনীতি থেকে উঠে আসা নিজামুল হক নাঈম বর্তমানে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি। এই নবীন রাজনীতিবিদ চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, সুশাসন এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
জামায়াতের নেতাকর্মীরাও তাঁর পক্ষে মাঠে সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন। জানতে চাইলে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ও জামায়াত ইসলামি সমর্থিত ভোলা-৩ আসনের প্রার্থী মো. নিজামুল হক নাঈম বলেন, আমগামী নির্বাচনে ভোটাররা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে এই এলাকার সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও প্রশাসনে যে দূর্ণীতি আছে সেগুলি নির্মূল করে একটি সুন্দর লালমোহন ও তজুমদ্দিন গড়ে তুলবো।
এছাড়াও ভোলা-৩ আসনে রয়েছে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী মাও. মোসলেহ উদ্দিন (হাত পাখা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাও. মো. কামাল উদ্দিন (লাঙ্গল), গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আবু তৈয়ব (ট্রাক) ও আদালতে আপির করে ৪ ফেব্রুয়ারী প্রার্থীতা ফিরে পান স্বতন্ত্রপ্রার্থী এডভোকেট রহমত উল্যাহ সেলিম।
এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. মোসলেহ উদ্দীন সাংগঠনিক শক্তির ওপর ভর করে টুকিটাকি প্রচার প্রচারনা করলেও অন্য তিন প্রার্থী প্রচার প্রচারণা নেই বললেই চলে।
তবে আগামী ১২ ফ্রেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ধানের শীষের প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি সমর্থিত ফুল কপির প্রার্থী নিজামুল হক নাঈমের মধ্যে বলে সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন।
ভোলা-৩ আসনে (তজুমদ্দিন-লালমোহন) মোট ভোটার ৩ লক্ষ ৮৮ হাজার ৫৫০জন।পুরুষ ভোটার ২লক্ষ ৪৯৭জন, নারী ভোটার ১লক্ষ ৮৮ হাজার ৫০জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৩জন।