• ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৬ই রমজান, ১৪৪২ হিজরি

ভোলার মেঘনায় চলাচলকারী বালুবাহী বাল্কহেড থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত এপ্রিল ৬, ২০২১, ১৭:৫২ অপরাহ্ণ
ভোলার মেঘনায় চলাচলকারী বালুবাহী বাল্কহেড থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ

আকতারুল ইসলাম আকাশ,ভোলা ॥ ভোলার মেঘনা নদী দিয়ে চলাচলকারী বালুবাহী বাল্কহেড থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন এসব বাল্কহেড থেকে হাজার হাজার টাকা চাঁদা উত্তোলন করেন পূর্ব ইলিশা ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউছুফ পাটোয়ারী।

নদীটির কয়েকটি পয়েন্টে অভিযুক্ত ইউছুফ পাটোয়ারী নিজেই এই চাঁদা উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিদিনই বাল্কহেড প্রতি ৩’শো থেকে ৭’শো টাকা পর্যন্ত চাঁদা তুলছেন তিনি। আর দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দিলে মারধরের শিকার হন বলেও অভিযোগ করেছেন বাল্কহেডগুলোর ভুক্তভোগী শ্রমিকরা।

জানা গেছে, ভোলার মেঘনা নদী দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে শত শত বালুবাহী বাল্কহেড।

জোয়ারের অনুকূল প্রতিকূলে বিভিন্ন সময় এসব বাল্কহেডগুলো নদীতে নোঙর করে রাখলে ট্রলারযোগে সে-সকল বাল্কহেড থেকে চাঁদা উত্তোলন করে এই চক্রটি।

কখনো ইউছুফ পাটোয়ারী নিজে আবার কখনো তাঁর লোকজন এই চাঁদা উত্তোলন করেন।

বাল্কহেডগুলোর ভুক্তভোগী শ্রমিকরা জানান, জোয়ারের অনুকূল প্রতিকূলে বাল্কহেড গুলো নদীতে নোঙর করা মাত্রই ট্রলারযোগে ইউছুফ পাটোয়ারী নিজে এসেই এই চাঁদাবাজিগুলো করে থাকেন।

কোনো কারণে তিনি না আসতে পারলে জসিম মাঝি ও রাসেল এই চাঁদা উত্তোলন করেন।

জসিম মাঝি জানান, ইউছুফ পাটোয়ারীর নির্দেশে তিনি এই চাঁদা উত্তোলন করেন। তিনি আরও জানান, ১৫টি ২০টি বাল্কহেড থেকে চাঁদা উত্তোলন করে দিতে পারলে বিনিময়ে তাকে ৫০ কিংবা ১০০ টাকা দেওয়া হয়।

কিন্তু টাকা প্রদানকারী বাল্কহেডের সুকানি, সারেং ও বালু শ্রমিকরা জানালেন, তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলেও কোনো রসিদ দেওয়া হচ্ছে না।

একটি বাল্কহেডের ভুক্তভোগী সুকানি রিয়াজ বলেন, ‘ তিনি পাথর বোঝাই করে সিলেট থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন।

মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে নদীতে জোয়ারের কারনে ইলিশা সোনাডগী এলাকায় তাঁর বাল্কহেডটি নোঙর করা হওয়া মাত্রই জসিম মাঝি তাদের কাছ থেকে ৪০০ টাকা নিয়েছেন। তবে তাদেরকে কোনো রসিদ দেয়নি।

এবিষয়ে অভিযুক্ত ইউছুফ পাটোয়ারী জানান, তিনি কোনো চাঁদা নিচ্ছেন না। নাদের মিয়ার হাট লঞ্চঘাটের ইজারাদার তিনি নিয়েছেন।

সেই সূত্রে তিনি বাল্কহেড থেকে টাকা নিচ্ছেন। তবে স্থানীয়রা বলছেন, নাদের মিয়ার হাট লঞ্চঘাট প্রায় ১৫ বছর আগে মেঘনা নদীর গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এখন ওই ঘাটের কোনো অস্তিত্ব নেই।

প্রভাবখাটিয়ে ভূয়া রসিদ দিয়ে ইউছুফ পাটোয়ারী চাঁদাবাজি করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

ভোলা জেলা প্রশাসক তৌফিক ই-লাইহি জানান, বিষয়টি তদন্ত করে খতিয়ে দেখা হবে।