• ৯ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২৬শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৬শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি

ভুল আসামির মুক্তিতে ডেপুটি জেলার বরখাস্ত, জেলার প্রত্যাহার

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত এপ্রিল ৮, ২০২১, ১৯:৩৮ অপরাহ্ণ
ভুল আসামির মুক্তিতে ডেপুটি জেলার বরখাস্ত, জেলার প্রত্যাহার

বিডি ক্রাইম ডেস্ক ॥ শরীয়তপুর জেলা কারাগার থেকে লিটন সিকদারের বদলে জামিনে ছেড়ে দেয়া হয় লিটন ফরাজী (২৮) নামের আরেক আসামিকে। এ ঘটনায় ডেপুটি জেলার হোসেনুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আর কারাগারের জেলার আমীরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে ঢাকা বিভাগীয় কারা উপ-মহাপরিদর্শকের দফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বুধবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এ-সংক্রান্ত চিঠি শরীয়তপুর জেলা কারাগারে পৌঁছায়। এর আগে ৬ এপ্রিল দুপুরে কারারক্ষী মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মো. পারভেজ হাসান ডেপুটি জেলারকে বরখাস্ত ও জেলারকে প্রত্যাহারের তথ্য নিশ্চিত করেন।

শরীয়তপুর জেলা কারাগার সূত্র জানায়, গোসাইরহাট থানার একটি চুরির ঘটনার মামলার আসামি লিটন ফরাজি ও লিটন সিকদার। তারা দুজন রাজবাড়ী ও খুলনার দুটি মামলারও আসামি। লিটন ফরাজি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার দামুরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা। আর লিটন সিকদার খুলনার খালিশপুরের বাসিন্দা। গত ১১ মার্চ তাদের শরীয়তপুর জেলা কারাগারে আনা হয়।

গত ৪ এপ্রিল শরীয়তপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে গোসাইরহাট থানার ওই মামলায় তাদের জামিন দেয়া হয়। আর খুলনা ও রাজবাড়ীর মামলায় লিটন সিকদার জামিনে থাকলেও লিটন ফরাজি জামিনে ছিলেন না। আদালত থেকে ওই জামিনের কাগজ কারাগারে পৌঁছালে কারা কর্তৃপক্ষ লিটন সিকদারকে না ছেড়ে লিটন ফরাজিকে সন্ধ্যায় মুক্তি দেয়। লিটন সিকদারকে আটক রাখা হয়।

লিটন সিকদারের স্বজনেরা বিষয়টি নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। তখন তাদের নজরে আসে নামের ভুলে লিটন ফরাজি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। পরে ৫ এপ্রিল রাতে লিটন সিকদারকে জেলা কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়। তবে লিটন ফরাজিকে এখনো খুঁজে পায়নি কারা কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় ৫ এপ্রিল পালং মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শরীয়তপুর কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার আমিরুল ইসলাম।

ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষকে জানান শরীয়তপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার গোলাম হোসেন। কারা কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্তের জন্য বরিশাল বিভাগের ডিআইজি (প্রিজন) টিপু সুলতানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন। ৬ এপ্রিল তারা শরীয়তপুর জেলা কারাগার পরিদর্শন করে ঘটনাটির তদন্ত করেন। ৭ এপ্রিল কারা মহাপরিদর্শক মোমিনুর রহমান ডেপুটি জেলার হোসেনুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। আর কারাগারের জেলার আমিরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করেন। তাকে ঢাকা বিভাগীয় কারা উপ-মহাপরিদর্শকের দফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে।