• ২৭শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২১শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

বোরহানউদ্দিনে ইলিশ ধরার জন্য প্রস্তুত ১৮ হাজার জেলে

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত অক্টোবর ২৫, ২০২১, ১৭:৪৫ অপরাহ্ণ
বোরহানউদ্দিনে ইলিশ ধরার জন্য প্রস্তুত ১৮ হাজার জেলে

বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল: ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ১৮ হাজার জেলে ইলিশ ধরার জন্য সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। নদ-নদী ও সমুদ্রে ইলিশ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় আজ রাত ১২টা থেকেই তাঁরা মাছ ধরতে যাবেন।

আজ সোমবার সকালে বোরহানউদ্দিন উপজেলার গঙ্গাপুর, পক্ষিয়া, হাকিমুদ্দিন, জয়া সহ বিভিন্ন মাছ ঘাট এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় জেলেরা মহাখুশি। নতুন করে উৎসবমুখর পরিবেশে সমুদ্র ও নদীতে ইলিশ মাছ শিকারের জন্য ফিশিং বোট ও জাল প্রস্তুতের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

ফিশিং বোটের ইঞ্জিন ঠিক আছে কি-না তা পরীক্ষা করতে নদীতে চালিয়ে দেখছেন অনেকে। কেউ কেউ ট্রলারে জাল, রশি ও প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী তুলতে ব্যস্ত। আবার অনেকেই ব্যস্ত বোটে বরফ ও খাদ্যসামগ্রী বোঝাই করায়। যদিও এর আগেই ট্রলারগুলো রং করে ও ধুয়ে মুছে প্রস্তুত করা হয়েছে।

বোরহানউদ্দিন জয়া, স্বরাজগঞ্জ, পক্ষিয়া হাকিমুদ্দিন মাছ ঘাট এলাকার জেলে জামাল, সিরাজ ও ছাদেক মাঝি জানান, সমুদ্র এবং নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের দেওয়া ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা মেনে তারা নদীতে যাননি। তারা আশা করছেন, দীর্ঘদিন পর সমুদ্র ও নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশসহ বিভিন্ন মাছ তাদের জালে ধরা পড়বে। ফলে বিগত দিনের লোকসান অনেকটাই কাটিয়ে উঠবেন।

অন্যদিকে ইলিশ শিকার করে আয়ের মাধ্যমে বিগত দিনের দেনা পুষিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন বোরহানউদ্দিন উপজেলার আলিমুদ্দিন বাংলা বাজারের জেলে রফিক, ইয়াকুব, ও নুরে আলম মাঝি।

তারা জানান, ২২ দিন সমুদ্রে ও নদীতে মাছ ধরতে না পারায় মহাজন, এনজিও ও মুদি দোকানে তাদের অনেক টাকা দেনা হয়ে গেছে। স্বপ্ন দেখছেন, নদীতে গিয়ে ইলিশসহ বিভিন্ন মাছ শিকার করে সব দেনা পরিশোধ করার।

মা ইলিশ রক্ষায় এবার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি উল্লেখ করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমেদ আখন্দ বলেন, নিষেধাজ্ঞার আগে থেকেই আমরা উপজেলার বিভিন্ন মৎস্যঘাটে গিয়ে জেলে ও ফিশিং বোটের মালিকদের নিয়ে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ব্যাপকভাবে সচেতনতামূলক সভা করেছি।

ফলে জেলেরা সমুদ্রে বা নদীতে ইলিশ শিকারে যায়নি। এ ছাড়া যারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেছে তাদের জরিমানা করা হয়েছে। তবে আইন অমান্যকারীর সংখ্যা খুবই কম ছিল। আশা করছি, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার শেষে জেলেরা সমুদ্রে গিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ শিকার করে তাদের ধার-দেনা পরিশোধ করতে পারবেন।