বেতাগী পৌরসভা নির্বাচনে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়নের আশায় দৌড়ঝাঁপ শুরু

৩:১১ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০ প্রতিদিনের বরিশাল, বরগুনা, বরিশাল বিভাগ, শিরোনাম

স্বপন কুমার ঢালী, বেতাগী ॥ ডিসেম্বর মাসে বরগুনার বেতাগী পৌরসভা নির্বাচন। নিয়মানুযায়ী এ বছরের ডিসেম্বর মাসে পৌরসভার মেয়াদ শেষ হবে। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে দলীয় পর্যায়ে এবং ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময় করছেন।

 

 

নির্বাচন কমিশনসূত্রে জানা যায়, গত ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন হয়।

 

 

মহামারি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে (নিয়ন্ত্রনে থাকলে) এবং বড় কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে মেয়াদোর্ত্তীন পৌরসভাগুলো ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে পৌরসভা নির্বাচন হবে।

 

এ বছরের ডিসেম্বর মাসে বরিশাল বিভাগের মেয়াদোর্ত্তীন ১৭ টি পৌরসভার নির্বাচন হবে। আগামী বছরের মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত ধাপে ধাপে ইউপি নির্বাচন হতে হবে। ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় হাতে রেখে- এসব পৌরসভা নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। এ বছরও দলীয় প্রতীকে পৌরসভা নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

 

 

বরগুনার বেতাগী পৌরসভার নির্বাচনে ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা তোড়জোড় শুরু করেছেন। সম্ভাব্য মেয়র, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা করোনা পরিস্থিতির কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময় এবং খোঁজ খবর নিচ্ছেন।

 

 

মহামারি করোনাকালীন সময় কেহ কেহ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রান বিতরণ করছেন। পৌরসভা নির্বাচন অংশ নিতে ইচ্ছুক মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা করোনার সময় খাদ্য সামগ্রী হিসেবে চাল, ডাল. আলু, তেল , পেয়াঁজ ও রসুন এবং সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাজার বিতরণ করতে দেখা গেছে।

 

তবে করোনার কারণে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটারদের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেইসবুক ও মোবাইল ফোনে খোঁজ খবর নিতে দেখা যায়।

 

 

আসন্ন বেতাগী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ থেকে ৩ জন, বিএনপি থেকে ২ জন এবং জাতীয় পাটি থেকে ১ জন দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

আওয়ামী লীগ থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বর্তমান পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব এবিএম গোলাম কবির, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, নব্বইয়ের এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ও পৌরসভার দুইবার প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব হাদিছুর রহমান পান্না এবং অপর সম্ভাব্য প্রার্থী হলেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও বর্তমানে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান মহসিন। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় আওয়ামী লীগ থেকে সম্ভাব্য এ উভয় প্রার্থীই কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের সাথে জোড় তদবির করছেন।

 

 

বিএনপি থেকে জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র মো. শাহজাহান কবির এবং বেতাগী পৌর বিএনপি’র আহবায়ক ও সাবেক প্যানেল মেয়র মো. হুমায়ুন কবির মল্লিক। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় বিএনপি থেকে সম্ভাব্য এ উভয় প্রার্থীই দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যার যার অবস্থান তুলে ধরছেন।

 

বিএনপি থেকে অপর সম্ভাব্য প্রার্থী হলেন জেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও থানা বিএনপি’র আহবায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম লাভলু।

 

শুধুমাত্র একক সম্ভাব্য মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে উপজেলা জাতীয় পাটির সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন পিযুস দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

 

এছাড়া আরো কিছু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে এমন সম্ভাবনা রয়েছে।

 

 

আওয়ামী লীগ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বর্তমান পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব এবিএম গোলাম কবির, তিনি পৌরসভায় ব্যাপক উন্নয়নের কাজ করেছেন বলে দাবী করে তিনি বলেন,‘ বেতাগী পৌরসভাকে তৃতীয় শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি এবং দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণিতে রুপান্তর করেন।

 

গত নির্বাচনের ইশতেহারের প্রায় আমি ৮০ শতাংশ কাজ করেছি। বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য, বঙ্গবন্ধ পৌর অডিটোরিয়াম, অত্যাধুনিক ডাক বাংলো, পৌরসভার সকল রাস্তাঘাট, ফায়ার সার্ভিস, কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারসহ ব্যাপক উন্নয়নের কাজ করছি।’ তিনি আরো বলেন, দল ও জনগণ যদি সুযোগ দেয় তবে আমি অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করব।

 

 

পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, নব্বইয়ের এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ও পৌরসভার দুইবার প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব হাদিছুর রহমান পান্না বলেন, ‘ আমার জনগনের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। আমি কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী । মেয়র নির্বাচিত হলে সকলের সহযোগিতা নিয়ে বেতাগী পৌরসভাকে মডেল ও আধুনিক পৌরসভা করা হবে।

 

 

এছাড়া আওয়ামী লীগ থেকে অপর সম্ভাব্য প্রার্থী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান মহসিন মেয়র পদে নির্বাচনে মতামত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন,‘ জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণির জনগণের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে।

 

 

কথায় নয় আমি কাজে বিশ্বাস করি এবং নির্বাচিত হলে মুরব্বীদের যথোপযুক্ত সম্মান প্রতিষ্ঠা করব। আল্লাহ যদি আমাকে পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত করে তবে জনসাধারণের কোন কাজের জন্য বেগ পেতে হবে না। তিনি আরো বলেন,‘ সকল ওয়ার্ডের জনসাধারণ আমাকে মেয়র পদে নির্বাচন করার জন্য আশ্বাস্ত করেন এবং জনসাধারণের আন্তরিক ভালোবাসা ও ¯েœহভাজন মহসিন হয়ে সব সময় তাঁদের পাশে থাকতে চাই।

 

 

উপজেলা জাতীয় পাটির সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন পিযুস দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণে আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি গত নির্বাচণেও জাপা দলীয় সমর্থনে মেয়র পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। তিনি বলেন,‘ নির্বাচন সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হলে আমি জয়লাভ করব এবং আমার জনগেণের প্রতি আমার পূর্নবিশ্বাস আছে , জনগণ আমাকে মূল্যায়ন করে নির্বাচিত করবে।

 

 

বিএনপি থেকে জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র মো. শাহজাহান কবির বলেন,‘ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ নির্বাচন হলে , জনগণ আমাকে মূল্যায়ন করবে এবং বিপুল ভোটে জয়লাভ করব।

 

 

এদিকে বিএনপি থেকে অপর সম্ভাব্য প্রার্থী বেতাগী পৌর বিএনপি’র আহবায়ক ও সাবেক প্যানেল মেয়র মো. হুমায়ুন কবির মল্লিক দলীয় সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে মতামত প্রকাশ করেন। তিনি গত নির্বাচনেও বিএনপি দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।

 

তিনি বলেন,‘ দল ও জনগণ আমাকে সমর্থন দিলে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমি জয়লাভ করব । ’ তিনি আরো বলেন,‘ পৌরসভার জনগণের প্রতি আমার শতভাগ আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে এবং নির্বাচিত হলে জনসাধারণের সকল প্রকার নাগরিক সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হবে।

 

 

জেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও থানা বিএনপি’র আহবায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম লাভলু বলেন,‘ দলের দুর্র্দিনে আমরা শক্ত হাতে দলের জন্য কাজ করছি । দলের জন্য অনেক ত্যাগ রয়েছে। আশা করি দল আমাকে মূল্যায়ণ করবে এবং ভোটাররা ভোট দিয়ে মেয়র নির্বাচিত করবে। আধুনিক পৌরসভা গড়ে তুলব।’