• ২৮শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৩ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৭ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

বেতাগীর হোসনাবাদে খুনের ঘটনায় ইউপি সদস্য গ্রেফতার, আদালতে জবানবন্দি

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত জুন ২০, ২০২১, ১৫:১২ অপরাহ্ণ
বেতাগীর হোসনাবাদে খুনের ঘটনায় ইউপি সদস্য গ্রেফতার, আদালতে জবানবন্দি

স্বপন কুমার ঢালী, বেতাগী॥ বরগুনার বেতাগীর হোসনাবাদে চাঞ্চল্যকর হত্যার ঘটনায় ইউপি সদস্যসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। গতকাল শনিবার দুপুরে বেতাগী হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা থেকে ইউপি সদস্য বশির আলমকে আটক করা হয়েছে। বেতাগী থানার ওসি কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু গতকাল রাত আটটায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বশির আলম উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপ সদস্য ও আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ফুটবল প্রতীক নিয়ে ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী ছিলেন। গ্রেফতারের পর আদালতে প্রেরণ করলে বিজ্ঞ বিচারিক আদলতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে হত্যায় জড়িত থাকার বিষয়টি ইউপি সদস্য সহ দুজনই স্বীকার করেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও থানা সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে প্রার্থীর বাড়ি থেকে ফেরার পথে কর্মী খুন হওয়ার ঘটনায় বেতাগীতে বেশ চাঞ্চল্যকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। গত ১১জুন শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় ওই খুনের ঘটনাটি ঘটে। অজ্ঞাতনামায় থানায় মামলা রুজু হয়। পরে এ হত্যা মামলার তদন্তে নামে পুলিশ, সিআইডি, র‌্যাব,ডিবি পিবিআইসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয় ওই এলাকার একাধিক ব্যাক্তিকে। তবে শুরু থেকেই বর্তমান ইউপি সদস্য’র দিকে ছিলো সন্দেহের তীর। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয় ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা আমজেদ মীরের ছেলে হুমায়ন কবীরকে পরপরই বেপাত্তা হন ইউপি সদস্য বশির আলম। জিজ্ঞাসাবাদের শেষ পর্যায়ে হুমায়ন কবীর স্বীকার করেন ইউপি সদস্য বশির আলম এ ঘটনায় জড়িত পরে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে (মোবাইল ট্র্যাকিংয়ে) এলাকা ত্যাগ কারার আগেই তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বেতাগী থানার পরিদর্শক ও ওই হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুস সালাম বলেন,‘ইউপি সদস্য বশির আলমের সাথে মৃত ইউসুফ আলীর স্ত্রীর কোন পরকীয়ার সর্ম্পক ছিলো আছে কিনা, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখবে পুলিশ এবং অন্য কোন আসামী খুনের সাথে জড়িত থাকলে তাদেরকেও গ্রেফতার করা হবে।’

উল্লেখ্য যে, বরগুনার বেতাগীতে প্রার্থীর বাড়ি থেকে গভীর রাতে ফেরার পথে গত ১১ জুন শুক্রবার ইউসুফ আলী নামের এক কর্মী খুন হন। উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সংলগ্ন উত্তর করুণা গ্রামে খাল থেকে পরের দিন শনিবার বেলা ১১টায় ওই কর্মীর লাশ উদ্ধার করেন পুলিশ। ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী আ.মোতালেব মধু’র কর্মী ছিলেন তিনি। পরে ওই ঘটনায় বেতাগী থানায় অজ্ঞাতনামায় মামলা রুজু করা হয়।

বেতাগী থানার ওসি কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, ঘটনার সপ্তাহ না যেতেই পুলিশ হত্যা রহস্য উদঘাটন ও জড়িত থাকা দুইজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। এখনো তদন্ত চলছে হত্যার সম্পূর্ণ রহস্য বের করে জড়িত থাকা সকল আসামীদের গ্রেফতার করা হবে।’