• ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২০শে সফর, ১৪৪৩ হিজরি

বেতাগীতে যুবলীগ নেতা হত্যা নেপথ্যে স্থানীয় দলীয় কোন্দল ৩ আসামী আটক

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত জুলাই ২৩, ২০২১, ১৭:৫৬ অপরাহ্ণ
বেতাগীতে যুবলীগ নেতা হত্যা নেপথ্যে স্থানীয় দলীয় কোন্দল ৩ আসামী আটক

স্বপন কুমার ঢালী, বেতাগী : বরগুনার বেতাগী উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ওই একই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. আনোয়ার ইসলাম টিটু হাওলাদার (৩৮) কে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

রাজনৈতিক সহিংসতার জের ধরে গত সোমবার (১৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩ টায় এ হত্যাকান্ড ঘটেছে বলে জানা যায়।

আজ সকালে নিহতের স্ত্রী শিল্পী বেগম ৩৮ জনকে আসামী করে বেতাগী থানায় মামলা করেন। থানা পুলিশ দুপরের মধ্যে ৩ আসামীকে গ্রেফতার করে।

নিহত সরিষামুড়ি ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ারুল ইসলাম টিটু জোমাদ্দার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ভোড়া গ্রামের মৃত আব্দুল কাদের হাওলাদারের ছেলে।

নিহত টিটুর মেয়ে ডলি আক্তার জানায়, গত সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তাঁর বাবা টিটুকে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. ইমাম হাসান শিপন জোমাদ্দারের লোকজন তাঁর বাবা টিটুকে ধরে নিয়ে যায়।

এলাকার লোকজনের কাছে জানতে পেরে তিনি বেতাগী থানা পুলিশকে জানান এবং থানা পুলিশ অনেক খোঁজাখুঁজি করে রাস্তার সাড়ে ৩ টার সময় ছোট গৌরিচন্না নামক স্থান থেকে রাস্তার পাশ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন।

থানা সূত্রে জানা গেছে , গতকাল শুক্রবার (২৩ জুলাই) সকালে নিহতের স্ত্রী শিল্পী বেগম ৩৮ জনকে আসামী করে বেতাগী থানায় মামলা করেন।

এ ঘটনায় পুলিশ এ রিপোর্ট লেখার শেষ অবদি গতকাল বিকেল ৫টা পর্যন্ত থানা পুলিশ ৩ আসামীকে গ্রেফতার করেন।

এ বিষয় বেতাগী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন,‘ এ ঘটনায় পুলিশ যথারীতি তৎপর ছিলো।

থানার পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করতে বারবার বলা সত্তে¡ও নিহতের স্ত্রী শিল্পী বেগম শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থতার কারণে বিলম্ব হয়।

ঘটনা সঠিক রহস্যে এবং খুনের সাথে সম্পৃক্ত বাকী আসামীদের খুঁজে বের করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

খুনের নেপথ্যে স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ইমাম হাসান শিপন জোমাদ্দার ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইউসুফ শরীফ উভয়ই সরকার দলীয় লোক।

গত ২০১৬ সালের স্থানীয় সরকারের ইউপি নির্বাচনে ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান শিপন জোমাদ্দারকে।

দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীকে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন শিপন এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ইউসুফ শরীফ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিলেও পরাজিত হয়।

এরপর থেকে শিপন জোমাদ্দার ও ইউসুফ শরীফের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আভ্যন্তরিন দলীয় কোন্দল তীব্র হতে থাকে।

শিপন জোমাদ্দার গত বছরের ২০ নভেম্বর ২০২০ খ্রি. তারিখ এক বিবাহ অনুষ্ঠানে দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে ইউসুফ শরীফের সর্মথিতরা কুপিয়ে জখম করে।

বেতাগী থানায় মামলা হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন শিপন। এরপর ইউনিয়নের সরকার দলীয় আওয়ামী লীগের নেতাকমীরা শিপন ও ইউসুফ দুটি গ্রæপে ভিভক্ত পড়ে।

সদ্য সম্পন্ন গত ২১ জুন ২০২১ তারিখের ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় আবারো শিপন জোমাদ্দারকে।

ইউসুফ শরীফ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও নির্বাচনের পূর্বে তাঁকে অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। নির্বাচনে শিপন জোমাদ্দার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

নিহতের স্ত্রী শিল্পী বেগম জানায়, ‘সদ্য সমাপ্ত ইউপি নির্বাচনে নিহত টিটু হাওলাদার স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউসুফ শরীফের পক্ষে কাজ করেন।

এর কারণে বর্তমান চেয়ারম্যান ইমাম হাসান শিপন জোমাদ্দারের রোষানলে পড়েন এবং তাঁর সর্মথকেরা টিটু হাওলাদারকে পিটিয়ে হত্যা করে।