• বরিশাল, আজ রবিবার, ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ১৩ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

বেতাগীতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে লাখ লাখ টাকার বানিজ্যের অভিযোগে

৩:৫৬ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ২১, ২০২০ প্রতিদিনের বরিশাল, বরগুনা, বরিশাল বিভাগ, শিরোনাম

স্বপন কুমার ঢালী, বেতাগী ॥ বরগুনার বেতাগী সবুজ কানন নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অর্থ বানিজ্যের প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে বঞ্চিত প্রার্থীরা এবং বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। মেধার যথাযথ মূল্যায়ন ও যোগ্যতা সম্পন্ন দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ না দেওয়ার ফলে বর্তমানে বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক , কর্মচারী এবং অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

 

 

লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে জানা গেছে, বেতাগী সবুজ কানন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদে ২০১৯ সালে ১০ অক্টোবর ইত্তেফাকে প্রথম বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।

 

 

এতে কাঙ্খিত প্রার্থী না পাওয়ায় বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক গত ১৫/০১/২০২০ খ্রি. সমকালে দ্বিতীয়বার এবং সর্বশেষ ১৫/০৭/২০২০ খ্রি তারিখে ইত্তেফাকে তৃতীয়বার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।

 

 

বিধিমোতাবেক ১৩ জন প্রার্থী আবেদন করেন। গতকাল শুক্রবার (২০ নভেম্বর) সকাল ১০ টায় বরগুনা জেলা স্কুলে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আরিফ হোসেন, মামুন অব-রশিদ, জাকির হোসেন, আল মামুন, জাহাঙ্গীর হোসেন লাভলু ও সানু মিয়াসহ ৬ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

 

 

ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আক্তার লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে মেধা ও যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষক উপেক্ষা করে সহকারি শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম লাভলুকে নিয়োগ দিয়েছে।

 

 

তারা আরো বলেন, অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষার দুই দিন পূর্বে প্রশ্ন পত্র দিয়ে দেওয়া হয় ওই একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম লাভলুকে।

 

 

এসব অনিয়মের বিষয় বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষকরা ও বঞ্চিত প্রার্থীরা গতকাল রাত সাড়ে ৭ টায় সাপ্তাহিক বিষখালী কার্যালয়ে এসে লিখিত অভিযোগ এনে সাংবাদিকদের সংবাদ সম্মেলন করেন।

 

 

এ সময় উপস্থিত সিনিয়র সহকারি শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম, আব্দুস সালাম সিদ্দিকী, মো. আসলাম, মো. ফারুখ হোসেন লিখিত অভিযোগে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা সহকারি শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম লাভলুর সাথে চাকুরি করি কিন্তু প্রধান শিক্ষক পদে অন্য যে ৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে তাদের সামনে জাহাঙ্গীর আলম লাভলু প্রথম হতে পারে না।

 

 

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি বাবুল আক্তার ও অন্যান্য কতিপয় সদস্য যোগসাজসে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া পরিকল্পনা করে।

 

 

পরীক্ষার কেন্দ্র মুঠোফোনে উত্তর সংরক্ষিত ছিল এবং মুঠোফোন দেখেই উল্টর লিখে নেয়। পরীক্ষা চলাকালীন সময় কমিটির কোন সদস্য ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

 

 

এ বিষয় নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহনকারী মো. আল মামুন নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এনে বলেন, সুপরিকল্পিতভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

 

আমি শতভাগ নিশ্চিত করে বলতে পারি পুনরায় পরীক্ষা হলে নিয়োগকৃত শিক্ষক অকৃতকার্য হবে। পরিক্ষার্থী আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমার ধারনা লিখিত পরীক্ষায় আমি প্রথম হয়েছি।

 

 

মৌখিক পরীক্ষায় অপ্রসাংগিক ও অবান্তর প্রশ্ন করে আমাকে কম নম্বর দেয়া হয়েছে।’ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি বাবুল আক্তার বলেন,‘ কোন অনিয়ম হয়নি। অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই । চাকুরিবিধি অনুসারে যোগ্যতা সম্পন্ন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।