• ৬ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ১৪ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি

বাবুগঞ্জে মুখোমুখি আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপ

admin
প্রকাশিত জুলাই ২৮, ২০১৯, ১৬:১৩ অপরাহ্ণ
বাবুগঞ্জে মুখোমুখি আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপ

জেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে সদস্য পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রিফাত জাহান তাপসীর পরাজয়কে কেন্দ্র করে বরিশালের বাবুগঞ্জে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরাজয়ের দায়ভারকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপ। এরই মধ্যে লাঞ্ছিত হয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যানসহ একজন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান। ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধসহ দু’পক্ষের সংঘর্ষও হয়েছে। সবমিলে বিস্ফোরণোন্মুখ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যে কোনো মুহূর্তে ঘটতে পরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা।

গ্রুপ দুটির নেতৃত্বে আছেন বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী ইমদাদুল হক দুলাল এবং সাধারণ সম্পাদক ও সদ্য সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরদার খালেদ হোসেন স্বপন।

গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয় বরিশাল জেলা পরিষদের ৭নং ওয়ার্ড তথা বাবুগঞ্জ উপজেলার সদস্য পদে উপ-নির্বাচন। এতে আওয়ামী লীগের সমর্থন পান সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রিফাত জাহান তাপসী। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামেন যুবলীগ নেতা মাইনুল হোসেন পারভেজ। নির্বাচনে পারভেজ জয়ী হলে প্রকাশ্য বিরোধে জড়িয়ে পড়েন কাজী দুলাল ও সরদার স্বপন।

বিকালে ফল ঘোষিত হলে তাপসীর পরাজয়ের জন্য কাজী দুলাল ও তার লোকজনকে দায়ী করেন স্বপন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে কাজী দুলালের ওপর হামলা চালিয়ে তাকেসহ একজন ভাইস চেয়ারম্যানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে স্বপনের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ ও রহমতপুরে গিয়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা এবং সরদার স্বপনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। পাল্টা হিসেবে স্বপনের কিছু অনুসারী রহমতপুরে গিয়ে অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করলে বাধা দেয় দুলালের লোকজন। সেখানে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শুক্রবার আবারও বাবুগঞ্জে দলীয় কার্যালয়ের সামনে স্বপনবিরোধী সমাবেশের ডাক দেয় দুলালের অনুসারীরা। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান মিলনের সঞ্চালনায় সেখানে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহিন সিকদারসহ পদধারী প্রায় সব নেতা ও বেশ কয়েকজন উপজেলা চেয়ারম্যান। সমাবেশে সরদার স্বপনকে বাবুগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং তাকে ৭ দিনের মধ্যে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়। এ সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সব নেতাকর্মী পদত্যাগ করবেন বলেও ঘোষণা দেয়া হয়। পরে উপজেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন নেতাকর্মীরা।

এদিকে এসব কর্মসূচির পাল্টা হিসেবে আজ বাবুগঞ্জে কাজী দুলালবিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছেন সরদার স্বপন। এ নিয়ে সেখানে বিরাজ করছে তীব্র উত্তেজনা। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী ইমদাদুল হক দুলাল বলেন, আমরা দল-সমর্থিত প্রার্থী তাপসীর পক্ষে মাঠে নেমে জান দিয়ে কাজ করেছি। কিন্তু স্বপনের কারণে তিনি হেরে গেছেন। সরদার স্বপন একসময় সশস্ত্র সর্বহারা কামরুল গ্রুপের আঞ্চলিক নেতা ছিলেন। তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কথা এই উপজেলার সবার জানা। উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে ৫ বছরে অনিয়ম, দুর্নীতি, পার্সেন্টেজ বাণিজ্যের কারণে তাকে বর্জন করে সবাই। দুর্নীতির কারণে দুদক তার বিরুদ্ধে মামলা পর্যন্ত করেছে। এসব কারণেই মূলত আমরা তাপসীকে জয়ী করতে পারিনি। অথচ এখন তিনি বলছেন, আমাদের কারণে নাকি তাপসীর পরাজয় হয়েছে। এ নিয়ে বাবুগঞ্জে চরম অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন তিনি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান মিলন বলেন, সমস্যা যাই হোক তা দলীয় ফোরামে সমাধান করা যেত। কিন্তু প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করা মেনে নেয়া যায় না। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সরদার খালিদ হোসেন স্বপন বলেন, দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও দুই ভাইস চেয়ারম্যান। আমি স্রেফ প্রতিবাদ জানিয়েছি। দলের বিরুদ্ধে যারা কাজ করে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া নিশ্চয়ই অন্যায় নয়। তারা আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার ষড়যন্ত্রে নেমেছে। আমি টানা ১৭ বছর ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। জনগণের ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যানও হয়েছি। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে তার একটাও সত্যি নয়। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি করিনি। সর্বহারা পার্টির আঞ্চলিক নেতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা প্রসঙ্গে

তিনি বলেন, যদি এসব বিষয়ে কেউ কিছু বলে থাকে তাহলে দলীয় ফোরামে তাদের বিরুদ্ধে নালিশ জানাব। দলই সিদ্ধান্ত নেবে। আমি আমাদের অভিভাবক আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর কাছে নালিশ দিয়েছি। তিনি যে বিচার করবেন তা মাথা পেতে নেব।