বাংলাদেশ জাতীয় যুব পরিবার পরিকল্পনা সম্মেলন অনুষ্ঠিত

৫:৫০ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ১৭, ২০২০ জাতীয়, শিরোনাম

বিডি ক্রাইম ডেস্ক ::

পরিবার পরিকল্পনা, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার এবং নারী প্রতি সহিংসতা কেন্দ্রিক সরকারি ও বেসরকারি প্রোগ্রামসমূহে তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও নেতৃত্ব তৈরির মাধ্যমে তরুণ এবং পরিবার পরিকল্পনা নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সম্প্রীতি তৈরি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার লক্ষ্যে ৫০০ তরুণ অ্যাডভোকেটকে সংযুক্ত করে একটি প্রতিশ্রুতিমূলক জায়গা তৈরির উদ্দেশ্যে রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট এ অনুষ্ঠিত হল ২ দিন ব্যাপী ভার্চুয়াল পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক জাতীয় যুব সম্মেলন। সিরাক-বাংলাদেশ ২০১৬ সাল থেকে নিয়মিত এই পরিবার পরিকল্পনা যুব সম্মেলনটি আয়োজন করে আসছে। ৫ম পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক জাতীয় যুব সম্মেলনটি উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে মেরী স্টোপস বাংলাদেশ কোভিড-১৯ মহামারী ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে সেশনে অংশগ্রহণ করে। সেশনটি পরিচালনা করেন মেরী স্টোপস বাংলাদেশের অ্যাডভোকেসি ও কমিউনিকেশন ম্যানেজার এবং এএফপি অ্যাডভোকেসি কার্যক্রমের ফোকাল পারসন মনজুন নাহার। এছাড়াও আলোচনায় আরও অংশগ্রহণ করেন তরুণ অ্যাডভোকেট তাসনিয়া দিয়া। আলোচনায় আরও অংশগ্রহণ করেন মেরী স্টোপস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মাসরুরুল ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের যুগ্ম সচিব ডা. আব্দুস সালাম খান, এমসিএইচ-এফপি লাইন ডিরেক্টর ডা. মোহাম্মদ শরীফ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সাবেক ডিজি মহিউল হক, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজের গাইনী প্রধান ডা. শেহরিন।

আলোচনার শুরুতে মনজুন নাহার বাংলাদেশে পরিবার পরিকল্পনা সেবার প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করেন এবং পোস্ট আইসিপিডি২৫+ কমিটমেন্ট এবং এফপি২০২০ কমিটমেন্ট বিষয়ে আলোচনা করেন। তারপর তরুণদের পরিবার পরিকল্পনা চাহিদা বিষয়ে একটি ভিডিও দেখান। ভিডিওর মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা সেবায় বাংলাদেশে বিদ্যমান বাধাগুলো তুলে ধরা হয় যেমন- পরিবার পরিকল্পনা সেবায় তরুণ নেতৃত্বের কোন সুযোগ নেই, পরিবার পরিকল্পনা সেবার প্রাপ্তির অন্যতম পূর্বশর্ত হলো বিবাহিত হওয়া, পরিবার পরিকল্পনা সেবা বিষয়ে গণমাধ্যমে কম প্রচারণা, দুর্গম এলাকায় পরিবার পরিকল্পনা সেবার অপ্রতুলতা ইত্যাদি।

মাসরুরুল ইসলাম তার বক্তব্যে তুলে ধরেন যে, করোনা মহামারীতে সবেেচয়ে বড় সমস্যা তৈরী হয়েছে তা হল বাল্যবিয়ে। স্কুল কলেজ বন্ধ থাকার দরুণ অনেক অভিভাবকই তাদের মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন। অপরদিকে বাংলাদেশে নব বিবাহিত দম্পতিদের মধ্যে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার মাত্র ৪৭%। যার ফলে অনেক অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণের ঘটনা ঘটবে।

ডা. শেহরিন বলেন, ৬৫% মেয়েদের ১৮ বছর হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। এতে করে অনিরাপদ গর্ভধারণ, অনিরাপদ এমআর বেড়ে যাচ্ছে যা মাতৃ ও শিশু স্বাসেস্থ্যর জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। মহিউল হক তার বক্তব্যে বলেন, যে তরুণরা হল আমাদের সমাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যাদের ওপর নির্ভর করছে আমাদের দেশের ভবিষ্যত। তরুণদেরহ হাত ধরেই গড়ে উঠবে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব এবং তরুণদের মাধ্যমে বিদ্যমান সামাজিক বাধাগুলোর ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হবে। তরুণদের জন্য বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো হল অপুষ্টি, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত তথ্যের অভাব এবং তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য। তরুণদের কাছে প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বার্তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তিনি ডিজিটাল মাধ্যমগুলো ব্যবহার করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। ডা. মোহাম্মদ শরীফ কিশোর-কিশোরীদের জন্য প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে বলেন। তিনি বলেন, সারাদেশে ৬০৩টি কৈশোরবান্ধব সেবাকেন্দ্রের মাধ্যমে সেবা দেয়া হচ্ছে।

তরুণ অ্যাডভোকেট তাসনিয়া দিয়া বাল্যবিয়ের করুণ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে কিশোরীদের কিভাবে বাল্য বিয়ে হচ্ছে। বাল্যবিয়ের দরুণ কিশোরী গর্র্ভধারণ, গর্ভপাত, অপরিণত শিশুর জন্ম ইত্যাদি ঘটনা ঘটছে যা কিশোরী মা ও শিশুর উভয়ের জন্যই মারাত্মক হুমকি। এছাড়াও কিশোরীরা মায়েরা কিভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন সে ঘটনাগুলোও তুলে ধরেন।

যুগ্ম সচিব আব্দুস সালাম খান বলেন, করোনা মহামারীর প্রেক্ষিতে পরিবার পরিকল্পনা সেবাকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। কমিউনিটি পর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা প্রদান করছে। তাছাড়াও পরিবার পরিকল্পনা সেবার সামগ্রীসমূহ সরবরাহও অব্যাহত রাখা হয়েছে।

আলোচকরা আরও বলেন, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে তরুণদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা এবং প্রজনন শিক্ষা তথ্য পৌঁছানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়াও সকলের জন্য পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে নীতি নির্ধারকদের সাথে তরুণদের সম্পৃক্ত এবং তরুণদের প্রজনন চাহিদার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।