• ১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ৬ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

বরিশাল মহানগর বিএনপির নেতাকে ধাক্কা দিয়ে চুলকাটাতে গেলেন কেন্দ্রীয় নেতা

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৩, ১৫:৫২ অপরাহ্ণ
বরিশাল মহানগর বিএনপির নেতাকে ধাক্কা দিয়ে চুলকাটাতে গেলেন কেন্দ্রীয় নেতা

বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল ॥ কেন্দ্রীয় বিএনপি আয়োজিত বরিশালের জরুরী সংবাদ সম্মেলনে নেতাদের সামনে মহানগর বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুকের গায়ে ধাক্কা দিয়ে সম্মেলন স্থল থেকে চুলকাটাতে বেরিয়ে গেলেন কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু। এরআগে সংবাদ সম্মেলনে বসার জায়গা নিয়ে নগর বিএনপির সদস্য সচিব মীর জাহিদের সঙ্গে বাকবিত-ায় জড়ায় নান্নু। এমন ঘটনায় সাংবাদিকদের সামনে বিব্রত বোধ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতারা। বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির নগরীর সদর রোডে দলীয় কার্যালয়ে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর বিএনপির বিভাগীয় রোডমার্চ কর্মসূচি উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের পূর্বে এই ঘটনা ঘটেছে।

ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল বিভাগীয় রোডমার্চের নেতা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, রোডমার্চের দলনেতা ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিছ আক্তার জাহান শিরিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, সদস্য মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ, বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুলহোসেন খান ও সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহীন, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক, সদস্য সচিব মীর জাহীদুল কবির জাহীদ, উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক দেওয়ান মোহাম্মাদ শহীদুল্লাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আগত সভাপতি ও সম্পাদক বৃন্দ। ইতি পূর্বেও দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে মাহাবুবুল হক নান্নুর অনেক নেতাকর্মির সাথে খারপ আচরন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার দৃশ্যমান কোন আয়ের উৎস না থাকলেও বেশ আয়েশি জীবন কাটান সে। এসব নিয়েও দলের মধ্যে রয়েছে বেশ আলোচনা ও সমালচনা।

এবিষয় কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুল হক নান্নু বলেন, গন্ডোগোল হয়নি কোন। প্রোগ্রাম শুরু হতে দেরি হওয়ায় চুল কাটতে চলে আসছি। কারণ আমি নাপিতকে বসিয়ে রেখেছি। চলে আসার সময় আমাকে কে যেনো থামালো, আমি তাকে বলে এসেছি যে, আমার কাজ আছে। তাদের তো বলা যায় না চুল কাটতে যাবো। ভাই ভাই এমন হয়। জাহিদের সঙ্গে আমার কিছু হয়নি, কারও সঙ্গেই কিছু হয়নি।

মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদ বলেন, প্রোগ্রামে দক্ষিণ জেলা বিএনপির আবুল হোসেন খান ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক প্রধান অতিথির চেয়ারের উত্তর পাশে বসেছেন। দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহিনসহ আমরা বসছি দক্ষিণ পাশের দর্শকসারিতে। কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু বসেছিলেন দক্ষিন জেলা বিএনপির আহবায়ক আবুল হোসেন খানের পাশে। এর মধ্যে উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক দেওয়ান মো. শহিদুল্লাহ চলে আসছেন। সাধারণত আহ্বায়করা প্রধান অতিথির পাশের চেয়ারের সাড়িতে এক সঙ্গে বসেন। তখন নান্নু বলেন, ওই পাশে বসলে অসুবিধা কি? তারপর মিটিং আছে বলে নান্নু চলে গেছে। কিছুই হয়নি।

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক বলেন, কিছুই হয়নি। বসা নিয়ে একটু কথা কাটাকাটি হয়েছে। এটা নিজস্ব ব্যাপার। পরে তাদের মিলিয়ে দিয়েছি।

কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, এক ঘরের মধ্যে থাকলে ভাই ভাই-এর মধ্যে এরকম ঘটনা হতেই পারে। এটা তেমন কিছু নয়।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, বিভিন্ন সময় আমাদের মধ্যে মতানৈক্য হতেই পারে। এটা কোন নতুন জিনিস না। আজকে আমরা একসাথে থাকি। এক সময় না হয় ওর কথা পছন্দ হলো না। বিষয়টি ওখানেই শেষ হয়ে গেছে।