• ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ , ১০ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

বরিশালে ১৫ লক্ষ টন শীতকালীন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে মাঠে কৃষকরা

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৪, ১৫:২১ অপরাহ্ণ
বরিশালে ১৫ লক্ষ টন শীতকালীন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে মাঠে কৃষকরা

বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল॥ ঘূর্ণিঝড় মিধিলি ও সিত্রাং-এর বয়ে আনা অকাল বর্ষণে এবার বরিশাল কৃষি অঞ্চলে আবাদ বিলম্বিত হবার সাথে মধ্যসত্ত্বভোগীদের নানা কারসাজিতে বাজারে শীতকালীন শাক-সবজির দাম অতীতের যেকোন সময়ের  তুলনায় দ্বিগুনেরও বেশী। কিন্তু যে কৃষক এ সবজি উৎপাদনে মাথার ঘাম পায়ে ফেলছেন তারা দাম না পাওয়ায় তাদের ভাগ্যের তেমন পরিবর্তন হচ্ছে না। চলতি রবি মৌসুমেও দেশে উৎপাদিত প্রায় দেড় কোটি টন শীতকালীন সবজির  প্রায় ১৫ লাখ টনই উৎপাদন হচ্ছে বরিশাল অঞ্চলে। নিকট অতীতেও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবজির ওপর যে নির্ভরতা ছিল বরিশাল অঞ্চলের, তা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেকটা হ্রাস পেলেও এবার অক্টোবর ও নভেম্বরে বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা দুটি ঘূর্ণিঝড়ের বয়ে আনা অকাল বর্ষণে শীতকালীন শাক-সবজি সহ রবি ফসলের আবাদ যথেষ্ট বিলম্বিত হওয়ায় এ অঞ্চলে সবজির প্রাপ্যতা বিলম্বিত হচ্ছে।

ফলে পশ্চিমাঞ্চলের সবজি বরিশালের বাজারে যোগান দিতে পরিবহন ব্যয়ের সাথে কয়েক দফার হাত বদলে দাম আকাশ চুম্বি। এখনো বরিশালের বাজারে ফুলকপির কেজি ৪৫-৫০টাকা, বাঁধাকপি’ও প্রায় একই দামে বিক্রী হচ্ছে। বেগুনের কেজি ৮০ টাকার ওপরে। অন্যন্য সবজির দামও বেশি। অথচ গত বছর এ সময়ে এসব সবজির কেজি ২০-২৫ টাকার বেশী ছিল না।

গত দু দশকে বরিশাল অঞ্চলে সবজির আবাদ ও উৎপাদন তিনগুনের বেশী বাড়লেও তা সম্পূর্ণভাবেই প্রকৃতি নির্ভর। তবে কৃষিবীদদের মতে, ‘বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট-বারি’ উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ও উন্নত মানের সবজি বীজ সহ আবাদ প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের কাছে পৌঁছলে উৎপাদন প্রায় দ্বিগুনে পৌঁছান সম্ভব হবে।
চলতি রবি মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে প্রায় ৭৫ হাজার হেক্টরে শীতকালীন সবজির আবাদ হচ্ছে। উৎপাদন লক্ষ্য রয়েছে প্রায় ১৫ লাখ টন। ভাটি এলাকার পাশাপাশি এবার অগ্রহায়ণের অকাল বর্ষণে এ অঞ্চলে এখনো শীতকালীন সবজির আবাদ হচ্ছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন বাড়ীঘরের আঙিনায়ও বিপুল পরিমান সবজির আবাদ হচ্ছে। ডিএই’র মতে, বিগত অগ্রহায়ণের শেষভাগে অকাল বর্ষণে এ অঞ্চলে শতাধীক কোটি টাকার ফসল বিনষ্ট হওয়ায় কৃষকরা মারাত্মক ধাক্কা খেলেও সে ধকল অনেকটাই সামাল দিয়ে উঠতে সহায়ক হবে শীতকালীন সবজি সহ রবি ফসল। ইতোমধ্যে মাঠে মাঠে সবজির অবাদ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ফলে উৎপাদন ১৫ লাখ টনে পৌঁছবে বলেও আশাবাদি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের।

এ ব্যাপারে ডিএই’র বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক জানান, অগ্রহায়ণের অকাল বর্ষণ আমনের উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত করার পাশাপাশি শীতকালীন শাক-সবজি সহ রবি ফসল আবাদও বিলম্বিত করেছে। তবে তার পরেও কৃষকরা সব কিছু সামলে নিয়ে শীতকালীন সবজি সহ রবি ফসল আবাদে যথেষ্ট মনযোগী বলেও জানান তিনি।

ইতোমধ্যে বরিশাল অঞ্চলে উৎপাদিত লালশাক, পালংশাক, শালগম, গাজর, ও মূলা সহ বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরো নতুন সবজি আসবে। তবে এর বাইরে এখন লাউ সহ বেশ কিছু সবজি বার মাসই আবাদ ও  উৎপাদন হচ্ছে। যা বাজারে রয়েছে। তবে এবার অগ্রহায়ণের অকাল বর্ষণের রেশ ধরে আবাদ বিলম্বিত হবার বিষয়টি পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে মধ্যসত্বভোগিরা শীতকালীন কৃষি পণ্য নিয়ে ভোক্তাদের জিম্মী করে ফেলেছে। বাজারে সব ধরনের সবজির দাম গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশী হলেও কৃষকরা সে তুলনায় দাম পাচ্ছে না।

বরিশালের কৃষকরা শীতকালীন সবজি ছাড়াও বোরো ধান, গম ও ভুট্টা সহ বিভিন্ন দানাদার খাদ্য ফসল উৎপাদনের লক্ষেও মাঠে রয়েছেন। চলতি রবি মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ১২ লাখ হেক্টরেরও বেশী  বিভিন্ন ধরনের ফসল আবাদ হচ্ছে। এরমধ্যে শুধু সাড়ে ৩ লাখ ৮২ হাজার হেক্টরে বোরো ধান আবাদের মাধ্যমে প্রায় ১৮ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।
ডিএই’র দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, চলতি রবি মৌসুমে দেশে প্রায় দেড় কোটি টনের মত শীতকালীন সবজি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি ‘অভ্যন্তরীণ পূর্ণ চাহিদা মিটিয়েও বিদেশে রপ্তানী বাজার ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হচ্ছে’ বলে আশা করছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র। ডিএই’র মতে ‘বিশে^র শতাধিক দেশে বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষি পণ্য রপ্তানী হচ্ছে। এরমধ্যে শীতকালীন সবজি অন্যতম। এ কারণে সরকার দেশে সবজি আবাদ সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে’ বলেও জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়েল একটি সূত্র।
আমাদের ‘বারী’ মাঠ পর্যায়ে গবেষনা কার্যক্রমের মাধ্যমে অন্যসব ফসলের মত বিভিন্ন ধরণের শীতকালীন সবজির উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছে। ফলে কম জমিতে অধীক ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। এতে করে কৃষকরা লাভবান হবার কথা থাকলেও বরিশালে মাঠ পর্যায়ে তার কাঙ্খিত সম্প্রসারণ ঘটছে না। অথচ বারি উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল বীজ ও আবাদ প্রযুক্তি এ অঞ্চলের কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে সবজির আবাদ ও উৎপাদনে নিরব বিপ্লব ঘটে যেতে পারে বলেও মনে করছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষিবীদরা।