• ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ , ১০ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

বরিশালে হাসানাত-পংকজের আসনে অস্বাভাবিক ভোট নিয়ে নানা প্রশ্ন

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত জানুয়ারি ৯, ২০২৪, ১৯:১৪ অপরাহ্ণ
বরিশালে হাসানাত-পংকজের আসনে অস্বাভাবিক ভোট নিয়ে নানা প্রশ্ন

বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল॥ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে অস্বাভাবিক ভোট প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। নামকাওয়াস্তে প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দীতায় এ আসনে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। প্রদত্ত ভোটের ৯৬ ভাগই পেয়েছেন হাসানাত। একই তথ্য পাওয়া গেছে বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে এমপি নির্বাচিত হওয়া পংকজ নাথের ক্ষেত্রে। এ নিয়ে দুটি আসনেই নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বরিশাল-১ আসনের আগৈলঝাড়া ১০২ নম্বর রত্নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১ হাজার ৬৫৬ জন ভোটারের মধ্যে রোববার ১ হাজার ৪২৫ জন ভোট দিয়েছেন। প্রদত্ত ভোটের হার ৮৬ দশমিক ৫১ ভাগ। জেলার ৬টি আসনের মধ্যে ভোট প্রদানের হারে বরিশাল-১ এ সর্বোচ্চ ৬০ দশমিক ৪৮ ভাগ। প্রদত্ত ভোটের ৯৬ ভাগই পেয়েছেন বিজয়ী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ।

আসনটিতে তিন প্রার্থীর অসম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিট ভোটের হার অস্বাভাবিক মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখানে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী প্রার্থী আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন অখ্যাত দুই প্রার্থী জাতীয় পার্টির সেরনিয়াবত সেকান্দার আলী ও এনপিপির মো. তুহিন। দুই দুর্বল প্রার্থীর বিরুদ্ধে হেভিওয়েট প্রার্থীর লড়াইয়ে ভোটার উপস্থিতির হার প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল-১ আসনে ৩ লাখ ৪ হাজার ৩০৪ জন ভোটারের মধ্যে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৪ জন ভোট প্রদান করেছেন। হাসানাত আবদুল্লাহ একাই পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭৭৭। লাঙ্গলের সেরনিয়াবাত সেকান্দার আলী ৪ হাজার ১২২ ভোট ও আম প্রতীকের মো. তুহিন ১ হাজার ২১৮ ভোট পেয়েছেন।

ভোটারদের তথ্যানুযায়ী, কেন্দ্রগুলোতে ভোটের দীর্ঘ লাইন ছিল না। দুপুরের পরে ভোট কেন্দ্র ছিল ফাঁকা। যে কারণে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ও প্রদত্ত ভোটের হার অস্বাভাবিক মনে হয়েছে ভোটারদের।

এ আসনের আম প্রতীকের প্রার্থী মো. তুহিন বলেন, ‘ভোট প্রদানের হারের বিষয়ে বলার কিছু নাই। বলতেও পারছি না। তবে আমার স্ত্রী গৌরনদীর ভুরঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গেলে তাঁর ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করেন নৌকার এজেন্ট হেলেনা বেগম। নৌকার প্রার্থীর এতটা ভোট পাওয়ার কথাও নয়।’

তবে এমপি হাসানাতের ঘনিষ্ঠজন গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এইচ এম জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘এখানকার কেন্দ্রগুলোতে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে এসেছে। তফসিলের পর থেকেই আমরা ইউপি নির্বাচনের মতো ঘরে ঘরে সচেতনতা করেছি। যে কারণে ভোটার উপস্থিত ভালো হয়েছে।’

এদিকে বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী পঙ্কজ নাথ পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৪৬৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাপার মিজানুর রহমান পেয়েছেন ৭ হাজার ৬৭৫ ভোট। মুক্তিজোটের হৃদয় ইসলাম চুন্নু পেয়েছেন ১ হজার ৮৮৯ ভোট। ভোট প্রদানের হার ৪৩ দশমিক ৯৮ ভাগ।

এ আসনের মেহেন্দীগঞ্জের সুলতানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার ১ হাজার ২৮৭। এ কেন্দ্রে ঈগল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী পংকজ নাথ এমপি পেয়েছেন ৬৯৬ ভোট। কিন্তু তার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী জাপার মিজানুর রহমান পেয়েছেন ১৪ ভোট এবং মুক্তিজোটের হৃদয় ইসলাম চুন্নু পেয়েছেন ১ ভোট। এ কেন্দ্রে ভোট প্রদানের হার ৫৯ ভাগ। এছহাক স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৫২১। এর মধ্যে পংকজ নাথ ১ হাজার ৬৫৮, জাপার মিজানুর রহমান পেয়েছেন ৮৬ ভোট এবং মুক্তিজোটের হৃদয় ইসলাম চুন্নু পেয়েছেন ২২ ভোট। এ কেন্দ্রে ভোট প্রদানের হার ৭০ ভাগ।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এ আসনে পংকজের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকার প্রার্থী ড. শাম্মী আহমেদের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় ফাঁকা মাঠে গোল দিয়েছেন তিনি। ড. শাম্মীর ঘনিষ্ঠজন আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সদস্য সৈয়দ মনির বলেন, ‘ভোটে ১০টার পর একেকজনে ৩০-৪০টি করে দিয়েছে। পংকজের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল নামমাত্র। তিনি যে ভোট পেয়েছেন তা স্বাভাবিক নয়। এ আসনে ভোটের যে হার দেখানো হয়েছে সেই পরিমাণ ভোটার তো কেন্দ্রে আসেনি।’

তবে এমপি পংকজের ঘনিষ্ঠজন হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হাওলাদার বলেন, ‘মানুষ উৎসমুখরভাবে ভোট দিয়েছে। নৌকা বাতিল হওয়ায় নির্বাচন একচেটিয়া হয়ে গেছে।’

ভোটের হার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রত্যন্ত চরে বিদ্যুৎ সংযোগ, নদী ভাঙনে ব্লকের মতো উন্নয়নের প্রতিদান হিসেবে জনগণ ভোট দিয়েছেন।’

এ ব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) মহানগর সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, ‘বরিশাল-১ আসনটিতে হেভিওয়েট প্রার্থী হাসানাত আবদুল্লাহর সঙ্গে অখ্যাত দুই প্রার্থীর অসম প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। এখানে প্রদত্ত ভোটের হার জাতীয় পর্যায়ের দ্বিগুণ হওয়ায় প্রশ্ন ওঠা খুব স্বাভাবিক। এত অস্বাভাবিক ভোটার আসলো কোথা থেকে। বরিশাল-৪ আসনেও পংকজ নাথের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। গ্রহণযোগ্যতা পেতে ইসির এসব আসনের ভোটের হার খতিয়ে দেখা উচিত।