বরিশালে স্বামীর ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে দুই সন্তানের জননী উধাও

প্রকাশিত: ৯:৩৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২২, ২০১৯

বরিশালে স্বামীর ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে দুই সন্তানের জননী উধাও

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল নগরীর বিমান বন্দর থানাধীন সারসী এলাকায় পরকীয়ার টানে প্রবাসী স্বামীর ৩৫ লাখ টাকা, স্বর্নালঙ্কারসহ অন্যান্য আসবাবপত্র নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে দুই সন্তানের জননী। স্বামীর জমানো অর্থ লুটে নেয়া এই প্রতারকের নাম শামীমা আক্তার কোকলা।

 

 

এবং তার পরকীয়া প্রেমিকের নাম মো: স্বপন। কাউনিয়া মুকন্দপট্টি এলাকার আ: জলিল এর পুত্র সে। পরবর্তীতে দেশে এসে প্রবাসী স্বামী এ বিষয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

 

মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছেন। মামলার বাদী সারসী এলাকার বাসিন্দা মৃত : হাশেম খানের পুুত্র মো: আলমগীর হোসেন খান।

 

মামলার আসামীরা হলো কাউনিয়া মুকন্দপট্টি এলাকার আ: জলিল এর পুত্র পরকীয়া প্রেমিক মো: স্বপন, স্বামীর ঘর ছেড়ে অর্থ সম্পদ নিয়ে উধাও হওয়া পরকীয়ায় মক্ত শামীমা আক্তার কোকলা,৩ নং ওয়ার্ডের গাওয়াসসার এলাকার মৃত: নুর মোহাম্মদ হাওলাদারের পুত্র মো: সাহেদ হাওলাদার, বিহঙ্গল এলাকার মোসা: নুরজাহান বেগম, গাওয়াসার এলাকার মোর্শেদা বেগম।

 

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন- ১ নং আসামী মো: স্বপন আমার প্রতিবেশি। ২ নং আসামী শামীমা আক্তার কোকলার সাথে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক ২৫ বছর পূর্বে রেজিষ্ট্রিকৃত কাবিন মূলে আমরা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হই।

 

বিয়ের সময় ৫ লাখ টাকা দিয়ে আমি শামীমা আক্তার কোকলাকে আমার বাসায় আনুষ্ঠানিকভাবে উঠিয়ে আনি। বিয়ের পরে স্ত্রীর কথামত সংসারের সুখের কথা চিন্তা করে আমি থাইল্যান্ডে দীর্ঘ বছর চাকুরী করে স্ত্রী অর্থাৎ ২ নং আসামীর একাউন্টে টাকা প্রেরণ করি।

 

তাকে চাহিদা মাফিক সকল কিছু সরবরাহ করতে থাকলে তার চাহিদা আরো বৃদ্ধি পেতে থাকে। কোকলা অন্যান্য আসামীর কু প্ররাচনায় আমার নিকট নানান অন্যায় দাবী করে সংসারে বিশৃঙ্খলা করতে থাকে।

 

এবং ১ নং আসামী স্বপনের সাথে ২ নং আসামী শামীমা আক্তার কোকলা অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করতে থাকে। আমি বিষয়টি স্বাক্ষীদের মাধ্যমে অবগত হয়ে থাইল্যান্ড হতে দেশে আসার কিছুদিন পূর্বে অর্থাৎ চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারী সকালে ২ নং আসামী ১ নং আসামীর প্ররোচনায় আমার বসত বাড়ি হতে থাইল্যান্ড থেকে পাঠানো ২৫ লাখ টাকা ৪ ভরি স্বর্নালঙ্কার ও আসবাবপত্র নিয়ে কোকলা স্বপনের কাছে চলে যায়।

 

 

আমি থাইল্যান্ড হতে দেশে এসে ২ নং আসামী শামীমা আক্তার কোকলাকে ফোন দিলে সে আমার সাথে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। পাশাপাশি উক্ত ঘটনা স্বীকার করে প্রকাশ করে যে- স্বপনের হাত ধরে সংসার ছেড়েছি। সে আরো প্রকাশ করে যে, সে আমার নিকট আর ফিরে আসবে না।

 

 

এমনকি ২ নং আসামীর সাথে আমার বৈবাহিক সম্পর্ক থাকাবস্থায় আসামী স্বপনের সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে। উক্ত বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আপোষ মিমাংসায় ব্যর্থ হয়ে চলতি বছরের ৮ এপ্রিল আসামীদের বরাবরে একটি লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করি।

 

 

উক্ত লিগ্যাল নোটিশ প্রাপ্ত হয়ে আসামীরা আমাকে খুন জখমসহ অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। এরইপরিপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালতে আসামীদের বিরুদ্ধে নালিশী করা হয়। আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য পিবিআইকে আদেশ দেন। পিবিআই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলও করেছেন।

 

 

তদন্ত প্রতিবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন- আমার সার্বিক তদন্তকালে প্রাপ্ত তথ্য ও স্বাক্ষ্য প্রমাণে এবং মামলার ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় জানা যায় যে, অত্র এমপি মামলার বাদী ও ২ নং বিবাদী স্বামী স্ত্রী। ১ নং বিবাদী ডিস ব্যবসায়ী ও বাদীর প্রতিবেশী। ৩ নং বিবাদী ২ নং বিবাদীর বোনের স্বামী। ৪ নং বিবাদী বাদীর শ্বাশুরী।

 

 

৫ নং বিবাদী ২ নং বিবাদীর বোন। বাদী বিগত ১৯৯০ সালের ১২ মার্চ ২ নং বিবাদীকে ৪০ হাজার টাকা দেন মোহর ধার্যে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় বাদী ২০ হাজার টাকা দেনমোহর পরিশোধ করেন। বিয়ের পর বাদী মূল্যবান স্বর্নালঙ্কার,জিনিসিপত্র, কাপড় চোপড়, ইত্যাদি দিয়ে ২ নং বিবাদীকে তার বাড়িতে আনুষ্ঠানিকভাবে উঠিয়ে আনে।

 

 

বাদী ও ২ নং বিবাদীর সংসারে ২ টি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। তাদের নাম মো: নাঈম শিহাব (২৫) বিবাহিত এবং মো: সাজ্জাদুর রহমান সৌরভ (১৭) কলেজে অধ্যায়নরত।

 

 

বাদী একটি হিসেবের মাধ্যমে জানায়, ২০০৩ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ২ নং বিবাদীর নামে ৩৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা পাঠিয়েছে। উক্ত হিসেবের তালিকায় বাদী ও তার ছেলেরা স্বাক্ষর করে। ১ নং বিবাদী ডিস লাইনের ব্যবসা করার সুবাধে ডিস লাইনের মাসিক টাকা উত্তোলন করার সময় ২ নং বিবাদীর বৈবাহিক সম্পর্ক থাকাবস্থায় ১ নং বিবাদীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে।

 

 

বাদী আরো জানায় থাইল্যান্ডে ব্যাংকের মাধ্যমে ২ নং বিবাদীর নামে টাকা পাঠাতো। স্বাক্ষীরা জানায়- দুই বছর পূর্বে বাদীর বসত ঘরের একটি রুমে ২ নং বিবাদী ও ১ নং বিবাদীকে আটক করে রাখে। তখন ১ নং বিবাদীর মামা সারসী বাজারের দোকানদার বাবুল মৃধা ১ বিবাদীকে মারধর করে নিয়ে যায়। এবং ১ নং বিবাদীর স্ত্রী এসে ২ নং বিবাদীকে মারধর করে চলে যায়।

 

স্বাক্ষীদের মধ্যে থাইল্যান্ডে বসে বাদী বিষয়টি জানার পর ২ নং বিবাদীকে জিজ্ঞাসা করলে ২ নং বিবাদী বাদীর সাথে ঘর সংসার করবে না বলে জানায় এবং বাদীর সংসারের মালামাল সরাতে থাকে।

 

 

বাদী ও তার ২ ছেলের দেয়া তালিকামতে ২ নং বিবাদী বাদীর ঘর থেকে ১ টি স্টিলের আলমারী,বিদেশ থেকে আনা শাড়ি,কম্বল,চাঁদর,লেপ,স্বর্নালঙ্কার,বাদীর বাড়ির বড় বড় গাছপালা বিক্রির টাকা ও বাদীর ৪ টি পুকুর লিজ দিয়ে লাগানো টাকাসহ ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

 

 

গত ১৯ মার্চ বাদী থাইল্যান্ড থেকে দেশে আসেন। বাদী খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পরে ২ নং বিবাদী ৩ ও ৫ নং বিবাদীর বাড়িতে আছে।

 

 

পরে বাদী তার নিকাহ রেজিষ্ট্রি কাজী অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পরে যে ২ নং বিবাদী বাদীকে ২০১৮ সালের ২২ নভেম্বর তালাক দিয়েছে।

 

১ নং বিবাদীকে ২ নং বিবাদীসহ বাদীর বসত ঘরের একটি কক্ষে আটকে রাখা এবং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাদীর বিয়ের ২৯ বছর পর বাদীকে ২ নং বিবাদী তালাক দেয়ায় ১ নং বিবাদী ব্যভিচার করেছে বলে স্বাক্ষীদের জিজ্ঞাসা বাদে ও ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় প্রতীয়মান হয়।

 

 

প্রসঙ্গত : পরকীয়া প্রেমিক স্বপন দীর্ঘদিন ধরে ডিস লাইনে কাজের আড়ালে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে।

Shares