• ৯ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২৬শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৬শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি

বরিশালে শিশু বলাৎকার: আ. লীগ কর্মীকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা!

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত এপ্রিল ৩০, ২০২১, ১২:০৭ অপরাহ্ণ
বরিশালে শিশু বলাৎকার: আ. লীগ কর্মীকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা!

শামীম আহমেদ ॥ বরিশালের মুলাদী উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের বড়কান্দি গ্রামে কলা পাতা কাটার কথা বলে চতুর্থ শ্রেনীর এক ছাত্রকে (১২) ডেকে বাগানে নিয়ে বলাৎকারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এ ঘটনা ধামা চাপা দেয়ার চেস্টা করছেন। পাশাপাশি নির্যাতনের শিকার শিশুটির পরিবারকে আইনের আশ্রয় নিতে বাধা দেয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে এ ঘটনায় সালিশ বৈঠক করে অভিযুক্ত জলিল হাওলাদারকে (৫৫) বলাৎকারের শাস্তি হিসেবে ছয় হাজার টাকা জরিমানা করেন। পাশাপাশি নির্যাতনের শিকার শিশুটির পরিবারকে এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন। অনেকটা বাধ্য হয়েই সালিশ বৈঠকের এ বিচার মেনে নিতে হয়েছে বলে জানিয়েছে শিশুটির পরিবার ।

 

অভিযুক্ত জলিল হাওলাদার চরকালেখান ইউনিয়নের বড়কান্দি মৃত আব্দুর রহিম হাওলাদারের ছেলে। তিনি আওয়ামী লীগ কর্মী ও তার এক ছেলে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

 

শিশুর মা জানান, জলিল হাওলাদার আমাদের প্রতিবেশী। বুধবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে জলিল হাওলাদার কলাগাছের পাতা কাটার জন্য তার ছেলেকে ডেকে নেন। বাগানে নিয়ে তার ছেলেকে মুখ চেপে জোরপূর্বক বলাৎকার করেন জলিল হাওলাদার। ছেলে ব্যথায় চিৎকার দিলে তার দাদী সেখানে গেলে জলিল হাওলাদার পালিয়ে যান। স্থানীয়রা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানালে মুলাদী থানার এএসআই বাদল হোসেন তার ছেলে উদ্ধার করে বুধবার সন্ধ্যায় মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক তার ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।

 

শিশুর মা বলেন, এসময় গ্রামের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সালিশ বৈঠক করে জলিল হাওলাদারকে শাস্তি দেয়ার কথা বলেন এবং আমার ছেলেকে বরিশাল মেডিকেলে না নিয়ে বাড়িতে চিকিৎসা করানো কথা বলেন। তারা এ নিয়ে থানায় অভিযোগ দিতে নিষেধ করেন। তারা বলেন, বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তাদের সমস্যা হতে পারে। ক্ষতির আশঙ্কা আছে। এ জন্য সালিশ বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত দেয়া হবে, তারা যেন মেন নেন। এতে তাদের পরবর্তীতে সমস্যা হবে না।

 

শিশুর মা অভিযোগ করেন, বিকেল ৪ টার দিকে তার বাড়িতে সালিশ বেঠক বসে। সেখানে জলিল হাওলাদার, তার ছেলে ছাত্রলীগ নেতা মো. ফেরদৌস ছাড়াও দিদার তালুকদার, সবুজ মেম্বার, মালেক মেম্বার, মামুন সরদার ও নাসির সরদার সহ গ্রামের কয়েকজন গন্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। সালিশ বেঠকে জলিল হাওলাদারকে আমাদের কাছে ক্ষমা চাওয়ানো হয়। এরপর তাকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করেন সালিশদাররা। সেই ৬ হাজার টাকা আমাদের কাছে দেয়া হয়।