• ২৭শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ২রা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

বরিশালে মালিকানাধীন সম্পত্তি দখলের পায়ঁতারা

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২, ১৯:০৩ অপরাহ্ণ
বরিশালে মালিকানাধীন সম্পত্তি দখলের পায়ঁতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নে হাবিবুর রহমান মিন্টু মেম্বরের সম্পত্তি দখলের পায়ঁতারার অভিযোগ উঠেছে রফিকুল ইসলাম গং এর বিরুদ্ধে।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক রফিক ও তার ১০/১২জন সহযোগী নিয়ে সম্পত্তিতে বসবাসরত মিন্টু মেম্বরের লোকদের হুমকি ধামকি প্রদর্শন করে বাড়ি ঘর ছেড়ে চলে যেতে বলে।

জানা যায, হাবিবুর রহমান মিন্টু মেম্বরের রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ৩ নং শিপপাশা মৌজার জেএল নং ৩, ১৫ একর ৭৩ শতাংশ পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে রফিকুল ইসলাম গং দের সাথে। মিন্টু মেম্বরের পৈতৃক সম্পত্তি জালজালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ২০১৮ সাল থেকে ওই সম্পত্তি দখলের পায়তারায় লিপ্ত হয় রফিকুল ইসলাম।

এরইধারাবাহিকতায় রফিক গং ওই সম্পত্তি নিজেদের দাবি করে ২০১৮ সালে একই সাইনবোর্ড সেটে দেয়। বিষয়টি সম্পত্তির মূল মালিক মিন্টু গং দের নজরে আসলে প্রতিবাদ করে।

এবং সাইনবোর্ডটি উপরে ফলে। এর মাসখানের পর আবারো ওই সম্পত্তি রফিক গং নিজেদের মালিকানা দাবি করে সাইনবোর্ড দিলে সেটিও সম্পত্তির মালিক মিন্টু মেম্বর উপরে ফেলে। একপর্যায়ে জমি দখলের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে মিন্টু মেম্বরের বিরুদ্ধে বেশ কয়েটি মিথ্যা মামলা দেয়।

হাবিবুর রহমান মিন্টু বলেন, স্বাধীনের আগে আমার পিতা জমি চাষাবাদের জন্য বর্গাইত হিসেবে রফিকের পিতা মৃত: আমজাদ আলী সরদারকে সেখানে থাকতে দেওয়া হয়। আমজাদ আলী মারা যাওয়ার পর রফিক বিদেশ থেকে ফিরে এসে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ওই সম্পত্তি নিজের বলে দাবী করতে থাকে।

 

সরেজমিন পরিদর্শনে জানা যায়, রফিকের দায়েরকৃত ল্যান্ড সার্ভে ৩২৯/২০২০ এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন হাবিবুর রহমান মিন্টু। যার রিটপিটিশন নং ৩০৪৪/২০২২।

গত ২৯ আগষ্ট রিটপিটিশনের বিষয়ে হাইকোর্টের দৈত্ব বেঞ্জ বিচারপতি মো: কাউসারউজ্জামান ও বিচারপতি ইকবাল কবির আদেশ প্রদান করেন।

আদেশে বলা হয়, রফিকের দায়েরকৃত ল্যান্ড সার্ভে ৩২৯/২০২০ এর কার্যক্রম ৬ মাস বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়। একইসঙ্গে জমিতে স্থিতিবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।

 

এদিকে, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক রফিক ও তার ১০/১২জন সহযোগী নিয়ে সম্পত্তিতে বসবাসরত মিন্টু মেম্বরের লোকদের হুমকি ধামকি প্রদর্শন করে বাড়ি ঘর ছেড়ে চলে যেতে বলে। ওই সময়ে রফিকের সাথে সাংবাদিক পরিচয়দারী এক ব্যক্তি তার নাম মিন্টু মেম্বার বলে আশরাফ সুমন।

মিন্টু মেম্বরের লোক জমিতে বসবাসরত শহিদুল ইসলাম, হুমায়ুন কবির, আব্দুর রাজ্জাক টোটন সহ অন্যান্যদের হুমকি ও নানা ধরণের ভয়ভীতি দেখায় এবং প্রকাশ করে হাইকোর্টের আদেশ আমরা মানিনা। এর কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে রফিকের পক্ষ হয়ে বিমানবন্দর থানার এসআই আক্তার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে আসে।

এবং সেখানে বসবাসরত মিন্টু মেম্বরের লোকজনকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পাশাপাশি হুমায়ুন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে জমির মূল মালিক মিন্টু মেম্বর এসে প্রতিবাদ করেন।

এবং হাইকোর্টের আদেশের কাগজ পুলিশকে দেখায়। তখন এসআই আক্তার হাইকোর্টকে অবমাননার সুরে বলে উঠেন এসব আদেশ ৫ মিনিটে আনা যায়। পাশাপাশি মিন্টু মেম্বরকে বলেন, আপনি আর এই সম্পত্তির কাছে আসবেন না।

মিন্টু মেম্বর তখন থানার ওসিকে ফোন দেন। ওসি ফোন রিসিভ করে বলেন আমি এখন মসজিদে আছি। ওসির সঙ্গে মিন্টুর মেম্বর কথোপকথনোর বিষয়টি দেখে এসআই আক্তার কৌশলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।