• ১৯শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১২ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

বরিশালে ভোক্তাদের সাথে আলাউদ্দিন সুইটসের অভিনব প্রতারণা!

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১, ২৩:২৭ অপরাহ্ণ
বরিশালে ভোক্তাদের সাথে আলাউদ্দিন সুইটসের অভিনব প্রতারণা!
বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল: বরিশাল নগরীর অখ্যাত বিখ্যাত প্রায় মিষ্টির দোকানে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ ক্রেতারা। এমন অভিযোগ শোনা যায় হারহামেশাই। এরই ধারাবাহিকতায় এবার অভিযোগ পাওয়া গেছে, বরিশাল নগরীর নতুন বাজার এলাকার আলাউদ্দিন সুইটস এন্ড রেস্ট্রুরেন্ট’র বিরুদ্ধে।
এ দোকানে ১০ টাকার নিম্নমানের রসমালাই ৪০ টাকা করে বিক্রি হয় বলে অভিযোগ করেছেন প্রতারণার শিকার হওয়া একাধিক ক্রেতারা।
আলাউদ্দিন সুইটস থেকে মিষ্টি কিনে প্রতারণার শিকার হওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান,‘ নিম্নমানের রসমালাই আলাউদ্দিন সুইটস এন্ড রেস্ট্রুরেন্টে বিক্রি হয় ৪০ টাকা দরে। এছাড়াও বেশি মুনাফার আশায় ভারী মিষ্টির প্যাকেট ব্যবহার করে ওজনে ঠকাচ্ছে ক্রেতাদেরকে।কিছু কিছু প্যাকেটের দাম পড়ে ১৫ থেকে ৪০ টাকা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরও একাধিক ক্রেতারা বলেন, ‘অসাধু কর পরিবেশে তৈরি করা নিম্নমানের কমদামি মিষ্টি ও রসমালাই গ্লাসের ভিতরে সাজিয়ে রেখে বিক্রি করছেন চড়া দামে। বর্তমান ডিজিটেল স্কেলের ব্যবহারে পরিমাপে প্রতারণা করার সম্ভব না হলেও প্রতারকদের প্রতারণার ধরণ বদলে গেছে।
শুধু আলাউদ্দিন সুইটস এন্ড রেস্ট্রুরেন্ট একাই নয়। এমন প্রতারণা করছেন আরো অনেকেই। মিষ্টি দোকানগুলোতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী যেসব মিষ্টি প্যাকেট রাখে তা ১০০ গ্রাম থেকে শুরু করে ২০০ গ্রাম পর্যন্তও ওজন হয়ে থাকে। ভারী এ প্যাকেটে মিষ্টি ওজন করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়তই প্রতারণা করে আসছে সাধারণ ক্রেতাদের সাথে।
একজন ক্রেতা সাধারণত ১ কেজি মিষ্টি কিনে পাচ্ছেন ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম মিষ্টি। অন্য দিকে একজন ক্রেতা নিজের অজান্তেই ১৭০/১৮০ থেকে ২৫০/৩০০ টাকা দরে কেনা মিষ্টির সাথে একই দামে কিনে নিচ্ছে কাগজের তৈরি মিষ্টির প্যাকেটও।
১টি প্যাকেট ২০ থেকে ৬০ টাকায় কিনে প্রতিনিয়ত নিজের অজান্তেই প্রতারিত হচ্ছে ক্রেতারা।’ তারা আরো বলেন, ‘ তবে একটু আর্ধটু সবাই করলেও আলাউদ্দিন সুইটস এন্ড রেস্ট্রুরেন্ট সহ সামান্য কিছু অতি লোভী মিষ্টি ব্যবসায়ীর কারণে সকল ব্যবসায়ী অভিযুক্ত হচ্ছে।’ বরিশাল নগরীর শিক্ষিত ও সচেতন ব্যাক্তিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এসব দোকানের আধুনিক ডেকোরেশন, এসি ব্যবস্থা আর সোকেসে সাজানো বাহারী রঙ্গের মিষ্টি সহসাই ক্রেতার নজর কাড়ে।
কেউকি একবারও ভেবে দেখেছেন এসব মিষ্টি কি দিয়ে তৈরী করা হচ্ছে ? এবং কোথায় তৈরী করা হচ্ছে ? কি পরিবেশে তৈরী করা হচ্ছে ? কারাই বা কারিগড় ? তাদের হেল্থ ফিটনেস কি রকম ? খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রনে প্রশাসনের কতটুকু অনুমোদন রয়েছে ? এসকল বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জোরালো নজরদারি দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ক্রেতা সহ নগরীর সচেতন মহল।
এবিষয়ে, আলাউদ্দিন সুইটস এন্ড রেস্ট্রুরেন্টের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। এবিষয়ে, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বরিশালের সহকারী পরিচালক শাহ্ শোয়াইব মিয়ার সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তাঁর ব্যাবহারিত মোবাইল নাম্বারে একাধিক বার কল দিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।