• ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৬শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

বরিশালে বাস মালিক সমিতির নির্যাতনের শিকার রোগী ও থ্রি হুইলার চালক, থানায় অভিযোগ

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত নভেম্বর ২৩, ২০২১, ২১:৫২ অপরাহ্ণ
বরিশালে বাস মালিক সমিতির নির্যাতনের শিকার রোগী ও থ্রি হুইলার চালক, থানায় অভিযোগ

বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল: বরিশালে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বাস মালিক সমিতি ও পরিবহন শ্রমিকরা। নিয়ম নীতির কোন তোয়াক্কা না করে আইন তুলে নিয়েছে নিজেদের হাতে ।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ বিএমপি বন্দর থানার কর্ণকাঠী ব্রীজ এলাকায় দিনের পর দিন প্রকাশ্যেই চালিয়ে যাচ্ছে তাদের এই আগ্রাসী কর্মকান্ড।

প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে বাস মালিক সমিতির নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন শ্রমিক সড়কের পাশে চেয়ার দিয়ে রাজকীয় কায়দায় বসে থাকে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত। মেট্রোপলিটন এলাকায় থ্রি হুইলার প্রবেশ বন্ধের নামে চেক পোস্ট বসানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনের সদস্যরা।

বাস মালিক সমিতির এমন বেআইনি কার্যক্রমের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সুশীল সমাজ বলেছেন সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বিআরটিএ, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তর রয়েছে।কিন্তু নিয়ম নীতির কোন তোয়াক্কা না করে পরিবহন শ্রমিকরা এভাবে সড়কে বসতে পারে না, এটা বেআইনী।

আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা না গেলে যান মালের ক্ষয় ক্ষতিসহ ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা।বিষয়টি যথাযথ ভাবে মনিটরিং করে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এদিকে প্রতিনিয়ত শ্রমিকদের হাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে থ্রি হুইলার চলক, অসুস্থ রোগী ও তাদের স্বজনরা।

এরই ধারাবাহিকতায় বাস মালিক সমিতির সদস্যদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে ২৩ নভেম্বর রোজ মঙ্গলবার বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মোঃ মিলন হাওলাদার (৪০) নামের এক থ্রি হুইলার চালক।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে,, ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার তালতলী বাজার থেকে একজন মুমূর্ষু রোগীকে চিকিৎসার জন্য শেরে-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন থ্রি হুইলার চলক মোঃ মিলন।

পথিমধ্যে বরিশাল বিশ্ব-বিদ্যালয়ের কর্ণকাঠী ব্রীজ এলাকায় পূর্ব থেকে বসে থাকা ৩০-৪০জন পরিবহন শ্রমিক তার গাড়ির গতিরোধ করে। জেলার গাড়ি মেট্রোপলিটন এলাকায় যেতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। কিন্তু মিলন তাদের জানায় তার গাড়ি মেট্রোর নম্বর।

এছাড়াও সবচেয়ে বড় কথা গাড়িতে মুমূর্ষু রোগী আছে তাকে নিয়ে হাসপাতালে যেতে হবে। চালক মিলন ও রোগীর সাথে থাকা স্বজনরা গাড়িটি ছেড়ে দিতে শ্রমিকদের কাছে অনুরোধ করেন।

কথা বলার একপর্যায়ে পরিবহন শ্রমিকরা চালক মিলনকে একটি কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে ১০-১৫ জন শ্রমিক নামের সন্ত্রাসীরা মিলনকে কিল, ঘুসি, লাথি ও লোহার পাইপ দিয়ে বেধর মারতে থাকে।নির্যাতনের শিকার মিলনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ফুলা যখম রয়েছে।

এ বিষয় নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগী মিলন বলেন,, আমি তালতলী বাজার থেকে একজন মুমূর্ষু রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছিলাম। কিন্তু পথে বাস মালিক সমিতির সদস্যরা আমার গাড়ি আটকে রাখে। অনেক অনুরোধ করার পরেও গাড়ি না ছেড়ে আমাকে টানতে টানতে পিছনের একটি রুমে নিয়ে যায়।

সেখানে নিয়ে ১০-১৫জন মালিক ও শ্রমিক মিলে বেধর মারতে থাকে ।এরপর আমি বন্দর থানায় গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনের কাছে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এ বিষয় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ দক্ষিণ বিভাগের অতিরিক্ত উপ- পুলিশ কমিশনার মোঃ ফজলুল করিম ফজলু বলেন,,মারধরের বিষয়টি আমরা শুনেছি এবং ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশনা প্রদান করেছি।