• ২৩শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

বরিশালে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে সাইকেল উপহার পেল শিক্ষার্থীরা

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৩, ২২:২৪ অপরাহ্ণ
বরিশালে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে সাইকেল উপহার পেল শিক্ষার্থীরা

বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল ॥ রমজান মাস জুড়ে জামাতের সহিত মসজিদে ৫ ওয়াক্ত নামায আদায় করে সাইকেল উপহার পেল বরিশালের ১৭০ স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী। দীর্ঘ ৬ মাস পর বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. রাজিব হোসেন খান তার পূর্বের দেয়া ঘোষণা অনুযায়ী এই সাইকেল বিতরণ করেন।

রোববার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে স্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝে সাইকেল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

জানা যায়, গত রমজানে মাস জুড়ে জামাতের সহিত ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করলে সকল স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীকে সাইকেল উপহার দেয়ার ঘোষণা দেন ১৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাজিব। পরে এ সংক্রান্ত ব্যানার টাঙিয়ে দেয়া হয় পুরো ১৬ নং ওয়ার্ড জুড়ে।

সে অনুযায়ী ১৬নং ওয়ার্ডের শিক্ষর্থীরাও নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ড জামে মসজিদে জামাতের সহিত ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় শুরু করে।

এর আগে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ জন্মনিবন্ধনের কপি, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ডের ফটোকপি, বাসার বিদ্যুৎ বিলের কপি ও পিতা মাতার আইডি কার্ডের ফটোকপি দিয়ে ১৭০ জন রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে।

এদিকে সাইকেল উপহার পেয়ে ১৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রেজাউল হকের ছেলে ৯ম শ্রেনীর ছাত্র ছাব্বির বলেন, আমি সবসময় জামাতে নামাজ আদায়ের চেষ্টা করতাম। তার মধ্যে রাজিব ভাইয়ের এ ঘোষণা শুনে নামাজ পড়ার উৎসাহ আরো বেড়ে গেছে। এখন সাইকেল পেয়ে অনেক ভালো লাগছে।

আরেক শিক্ষার্থী আবু তালিব বলেন, অনেক দিন ধরেই বাবা মায়ের কাছে একটি সাইকেলের আবদার করেছিলাম। অবশেষে জামাতের সহিত ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে নিজেই সাইকেল উপহার পেয়ে খুব খুশি হলাম। এজন্য কাউন্সিলর রাজিব ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।

শিক্ষার্থীদের এক অভিভাবক ১৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহীন আহমেদ বলেন, কাউন্সিলরের এমন আয়োজনের পর অনেকে শিক্ষার্থীই জামাতে নামাজে উৎসাহি হয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি একটি ভালো উদ্যোগ ছিল তার। এমন উদ্যোগ সকল ওয়ার্ডের প্রতিনিধিদের নেয়া উচিত।

এ ব্যাপারে ১৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. রাজিব হোসেন খান বলেন, মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ভাইয়ের নির্দেশনায় এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সকল শিক্ষার্থীদের জামাতের সহিত নামাজ আদায়ে উদ্বুদ্ধ করতেই মূলত এই আয়োজন করা হয়েছিল। তাছাড়া শিশুদের মাঝে যে হারে মোবাইল ফোন আশক্তি বেড়েছে, মাদকের যে ভয়াবহতা বেড়েছে, তা থেকে স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের দুরে রাখতেই এই আয়োজন করা।

রাজিব আরো বলেন, মাঝে সিটি নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন ব্যস্ততায় সাইকেল বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কটু কথাও শুনতে হয়েছে। অবশেষে সাদিক আবদুল্লাহ ভাইয়ের সহযোগিতায় সাইকেল বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পেরেছি। আগামী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত আমার কাউন্সিলরের মেয়াদ রয়েছে। যদি আবার কোন দিন ওয়ার্ডবাসীর সেবা করার সুযোগ পাই তাহলে আরো ভালো কিছু করবো।