বিডি ক্রাইম ডেস্ক॥ বেবিহোমে ঠাঁই হয়েছে পাঁচ দিন বয়সী দুই নবজাতক কন্যাশিশুরপ্রতিবন্ধী মায়ের গর্ভে জন্ম হয়েছে তাদের। এখন বরিশালের বিভাগীয় বেবিহোমে ঠাঁই হয়েছে পাঁচ দিন বয়সী দুই নবজাতক কন্যাশিশুর। বুধবার (৭ আগস্ট) দুপুরে ওই দুই নবজাতককে বেবিহোমের উপ-তত্ত্বাবধায়কের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বেবিহোমেই বেড়ে উঠবে তারা।
সমাজসেবা অধিদফতর সূত্র জানায়, দুই শিশুর মধ্যে শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জন্ম নেওয়া ফাহিমা বরিশাল নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রের বাসিন্দা এক বাকপ্রতিবন্ধীর গর্ভে জন্ম নেয়। আর কুলসুমের জন্ম হয় পিরোজপুর হাসপাতালে। সেখানে মানসিক প্রতিবন্ধী মা শিশুটিকে জন্ম দিয়ে পালিয়ে যান। হাসপাতালের রেজিস্ট্রারে মায়ের নামের জায়গায় লেখা রয়েছে শাবনুর।
সমাজসেবা অধিদফতর বরিশালের প্রবেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ জানান, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় উজিরপুর উপজেলা থেকে নিরাপদ আবাসনে পাঠানো হয় দুই প্রতিবন্ধী নারীকে। তাদের মধ্যে বাকপ্রতিবন্ধী নারীটি পাঁচ দিন আগে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। নবজাতকের নাম রাখা হয় ফাহিমা। প্রতিবন্ধী মায়ের পক্ষে নবজাতককে লালন-পালন সম্ভব না হওয়ায় ফাহিমাকে বরিশাল বিভাগীয় বেবিহোমে হস্তান্তর করা হয়। এখন থেকে সেখানেই বড় হবে ফাহিমা। তবে কেউ যদি আইনি অভিভাবক হতে চান তাহলে আদালতে আবেদন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে যারা আইনি অভিভাবক হবেন তাদের বিষয়ে ব্যাপক তদন্ত করে আদালত যদি মনে করেন ওই অভিভাবকের কাছে শিশুটির সুরক্ষা নিশ্চিত হবে, তাহলে তাদের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেবেন। ওই নির্দেশ মোতাবেক বিভাগীয় বেবিহোম ও সমাজসেবা অধিদফতর তাদের কাছে শিশু হস্তান্তর করবেন।
পিরোজপুর জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা জাকির হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘তিন দিন আগে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে শাবনুর নামের মানসিক বিকারগ্রস্ত অন্তঃসত্ত্বা নারীটি ভর্তি হয়ে কন্যাসন্তান প্রসব করেন। সন্তান প্রসবের পরে মায়ের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমাজসেবা অধিদফতরকে অবগত করানো হলে আমরা আদালতের দ্বারস্থ হই। পিরোজপুরের শিশু আদালত নবজাতক কুলসুমকে বরিশাল বিভাগীয় বেবিহোমে লালন-পালনের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ মোতাবেক কুলসুমকে বেবিহোমের উপ-তত্ত্বাবধায়কের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেখানেই বেড়ে উঠবে কুলসুম।’
পিরোজপুর সমাজসেবা অধিদফতর সূত্র থেকে জানা গেছে, মানসিক বিকারগ্রস্ত নারীটি সুন্দরী হওয়ায় ইতোপূর্বে আরও দুবার অন্তঃসত্ত্বা হন। সে দুটি সন্তান জন্ম দিলেও তা কে বা কারা নিয়ে যায়। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাজসেবা অধিদফরের কর্মকর্তারা জানতে পেরেছেন। ওই নারীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তাকে পাওয়া গেলে তার নিরাপত্তার জন্য বরিশাল নিরাপদ আবাসনে পাঠানো হবে।
এ ব্যাপারে বরিশাল বিভাগীয় বেবিহোমের উপ-তত্ত্বাবধায়ক আবুল কালাম আজাদ জানান, সাত মাস বয়সে ফাহিমা জন্ম হওয়ায় সে কিছুটা অসুস্থ রয়েছে। চিকিৎসক ডেকে তার পরামর্শে সব ধরনের চিকিৎসা প্রদান করা হবে। আর কুলসুম পুরোপুরি সুস্থ রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ইতোমধ্যে বরিশাল বিভাগীয় বেবিহোম থেকে তিনটি শিশুকে আইনি অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের ফলোআপ করছে বরিশাল সমাজসেবা অধিদফতর। বেবিহোমের চেয়ে পিতামাতা পেয়ে শিশুরা ভালো আছে বলে জানানো হয় সমাজসেবা অধিদফতর থেকে।