বরিশালে দায়িত্ব পালনকালে কাভার্ডভ্যানের চাপায় নিহত পুলিশ সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়ার জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় বরিশাল নগরীর পুলিশ লাইনে তার ২য় জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
এতে পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেয়।
এদিকে সার্জেন্ট কিবরিয়ার লাশ পুলিশ লাইনে নেয়ার পরপরই ভেঙ্গে পরে পুলিশ সদস্যরা। সহকর্মীকে এভাবে হারানো যেন কেউই মেনে নিতে পারছে না।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পরে তার লাশ নিয়ে তার নিজ জেলা পটুয়াখালীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা করা হয়, সেখানে ৩য় দফা জানাযা শেষে দাদা-দাদীর পাশে তাকে দাফন করা হবে।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় তার প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত। তার বাড়ি পটুয়াখালী জেলায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকাল থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের কর্নকাঠী জিরো পয়েন্ট এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া। বেলা সোয়া ১২টার দিকে পটুয়াখালীগামী যমুনা গ্রুপের গাড়ি বেপরোয়া গতির একটি কাভার্ডভ্যানকে (ঢাকা মেট্রো উ-১২-২০৫৪) থামার সংকেত দেন সার্জেন্ট কিবরিয়া।
কাভার্ডভ্যানটি ট্রাফিকের সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সার্জেন্ট কিবরিয়া একটি মোটরসাইকেলে ধাওয়া করে কাভার্ডভ্যানটির সামনে গিয়ে ফের তাকে থামার সংকেত দেন। কাভার্ডভ্যানচালক জলিল মিয়া এ সময় মোটরসাইকেল আরোহী সার্জেন্ট কিবরিয়াকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেলে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠির নলছিটি থানা পুলিশ ধাওয়া করে চালক জলিল সিকদারসহ কাভার্ডভ্যানটি আটক করে।
এদিকে পুলিশ সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়ার অবস্থার অবনতি হওয়ায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল থেকে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।