• ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৬ই রমজান, ১৪৪২ হিজরি

বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নিখোজ আহত গৃহকর্মী নিপা আগৈলঝাড়া থেকে উদ্ধার

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২১, ১৫:৩১ অপরাহ্ণ
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নিখোজ আহত গৃহকর্মী নিপা আগৈলঝাড়া থেকে উদ্ধার

শামীম আহমেদ ॥ বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নিখোজ আহত গৃহকর্মী নিপা বাড়ৈকে (১১) উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

আজ শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উজিরপুরেরপাশ^বর্তী আগৈলঝাড়া উপজেলার আস্কর গ্রামের বিমল বাড়ৈর বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এরপর সেখান থেকে তাকে নিয়ে এসে উজিরপুর থানায় পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

 

নিপা বাড়ৈ উজিরপুর উপজেলার জামবাড়ি এলাকার ননী বাড়ৈর মেয়ে। তার বাবা একজন মানসিক প্রতিবন্ধি। তার মা ২ বছর আগে অন্যত্র বিয়ে করেন। ২ বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে নিপা মেঝ। অভাব অনাটনের কারনে প্রায় ৭ মাস আগে নিপাকে ঢাকার জাতীয় পঙ্গু হাসপাতালের অর্থপেডিক্স ও ট্রমা বিশেষজ্ঞ ডা. সিএইএস রবিনের শ্যামলীর বাসায় গৃহকর্মীর কাজে দেয়া হয়।

 

নিপার স্বজনরা জানান, প্রায় ৭ মাস আগে চিকিৎসক সিএইএস রবিনের বাসায় নিপাকে কাজে দেয়া হয়। তখন চিকিৎসক রবিন ও তার স্ত্রী রাখি দাস বলেছিলেন নিজ সন্তানের মতো নিপাকে দেখে রাখবেন। ভালো খাবার দেবেন। কিন্তু গত (২৪ ফেব্রুয়ারী) বুধবার সন্ধ্যায় অসুস্থ অবস্থায় নিপাকে চিকিৎসক রবিনের এক কর্মচারী ঢাকা থেকে উজিরপুরের জামবাড়ি তার গ্রামের বাড়ির কাছে একটি দোকানের সামনে ফেলে রেখে যায়। এরপর নিপা বাড়িতে এসে জানায়, কাজে সামান্য ভুল করলে তার ওপর চালানো হতো অমানবিক নির্যাতন। গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেয়া হতো।

 

ঠিকমতো খাবার দেয়া হতো না। বাসার মধ্যে আটকে রেখে প্রতিদিনই তাকে মারধর করা হতো। গলা টিপে ধরা হতো। চিকিৎসকের স্ত্রী রাখি দাসের নির্যাতনে মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। নির্যাতনের কারনে কয়েক দিন আগে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে কোন ওষুধও খেতে দেয়া হয়নি।

 

শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হলে চিকিৎসক রবিনের এক কর্মচারী দিয়ে তাকে উজিরপুরে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ুিনপাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

 

এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামের লোকজন ওই চিকৎসক ও তার স্ত্রীর শাস্তির দাবি জানান। অন্যদিকে মামলার ভয়ে চিকিৎসক রবিন ও তার স্ত্রী রাখি দাস উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে অসুস্থ নিপাকে অন্যত্র নিয়ে যেতে প্রলোভন ও নানাভাবে চাপ দিতে থাকেন নিপার পরিবারের সদস্যদের। এ অবস্থায় চাচা তপন বাড়ৈ শুক্রবার ভোরে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের সহায়তায় নিপাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান।

 

 

 

উপজেলা স্বাস্থ ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শওকত আলী জানান, শিশুটিকে ভর্তির পর থেকেই নানা ধরনের লোকজন এসে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেস্টা করেন। তবে তিনি পুলিশের অনুমতি ছাড়া নিপাকে নিয়ে যেতে নিষেধ করেন। শুক্রবার ভোর ৫টার পর থেকে নিপাকে উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে খুজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর স্বাস্থ কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সামসুদ্দোহা তৌহিদ উজিরপুর মডেল থানায় সাধারন ডায়েরি (জিডি) করেন।

 

 

 

উজিরপুর মডেল থানা পুলিশের ওসি জিয়াউল আহসান জানান, নিপাকে উদ্ধারে শুক্রবার দিনভর অভিযান চালানো হয়। তবে তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। শুক্রবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পরে, নিপাকে তার চাচার মামা শ^শুর বিমল বাড়ৈর আগৈলঝাড়া উপজেলার আস্কর গ্রামের বাড়িতে রাখা হয়েছে। ভোরে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নিপাকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিপা এখন থানায় পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।