সুনান বিন মাহাবুব, পটুয়াখালী ॥ বিয়ের প্রলোভনের কথা বলে একাধিকবার ধর্ষন ও প্রতারনার অভিযোগে পুলিশের এক কনস্টেবল সোহান হোসেনের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পিটিশন মামলা নং-৪৭৩/১৯। পটুয়াখালী সদর উপজেলার ছোটবিঘাই ইউনিয়নের হরতকীবাড়িয়া গ্রামের কলেজ ছাত্রী ফাহিমা আক্তার ২৭ আগস্ট মামলা করলে আদালতের বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য স্থানীয় হাজী মোক্তার আলী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরনে জানাগেছে, সদর উপজেলাধীন এছাহাক মডেল কলেজের এইচএসসি পড়–য়া ছাত্রী ফাহিমা আক্তারের সাথে ফেইসবুকে ভোলা জেলা পুলিশে কনস্টেবল পদে কমর্রত সোহান হোসেন এর সাথে (কনস্টেবল নং-১০৩৭, বিপি নং-৯৮১৮২০৮৩৮৬) পরিচয়ের সূত্রে সোহান হোসেন কলেজ ছাত্রীর সাথে বিভিন্ন স্থানে দেখা সাক্ষাত করে গভীর প্রেমের সম্পর্ক হয়।
এ সম্পর্কের এক পর্যায় কনস্টেবল সোহান কলেজ ছাত্রীকে বাংলাদেশ পুলিশের বিবাহের অনুমতি পাইলেই বিবাহ করে স্ত্রীর মর্যাদা দেয়ার প্রলোভন দিয়ে ডাক ডিউটি অবস্থায় সোহান হোসেন গত ২২.১১.১৮ ইং তারিখ তার মুঠো ফোন দিয়ে ছাত্রীর মোবাইল নম্বরে ম্যাসেজে বরিশাল যেতে বলে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে কলেজ ছাত্রী ফাহিমা বরিশাল গেলে সোহান তার কর্মস্থল থেকে বরিশাল রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে এসে কয়েকদিনের মধ্যে বিবাহ করার কথা বলে তাকে নিয়ে দুপুর ১.০০ টায় রূপাতলী বাসস্ট্রান্ড সংলগ্ন সিঙ্গাপুর আবাসিক হোটেলের ৩য় তলায় রুমে উঠে। সেখানে বিবাহের প্রলোভ দিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় কলেজ ছাত্রী ফাহিমাকে ২২.১১.১৮ইং হইতে ২৪.১১.১৮ইং তারিখ সকাল ৮.০০টা পর্যন্ত একাধিকবার ধর্ষন করে ফাহিমার বোন হাফিজা বেগমের বরিশালের বাসায় রেখে চলে যায় এবং পরবর্তীতে কুয়াকাটা নিয়ে বিবাহ করার আশ্বাস দেয় ধর্ষক সোহান হোসেন।
সোহান হোসেন ১৭.০২.১৯ ইং তারিখ ফাহিমাকে ফোন দিয়ে বিবাহ করার আশ্বাস দিয়ে কুয়াকাটা নিয়ে সি-প্যালেস আবাসিক হোটের ৩য় তলায় একটি রুমে রেখে ১৭.২.১৯ ইং তারিখ বিকাল ৫.০০টা হইতে ২০.২.১৯ইং তারিখ সকাল ৯.০০টা পর্যন্ত বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষন করে এবং ২২.২.১৯ ইং তারিখ দুপুর ২.০০ টায় সোহান তার ভায়লার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে তার আপনজনের সাথে পরিচয় করে দেয়।
ফাহিমা ওই দিন বিবাহ করার জন্য অনুরোধ করলে সোহান হোসেন বিভিন্নভাবে তালবাহানা করে রাতে ভুরিয়া তার এক আত্মীয়ের বাসায় রাখে।
পরদিন ২১.০২.১৯ইং তারিখ সকালে সোহান পটুয়াখালী শহরের হাজী আক্কেল আলী হাওলাদার কলেজের পিছনে তার এক আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে ফাহিমাকে বাড়ি যেতে বলে। এ সময় ফাহিমা বিবাহ ছাড়া বাড়ি যেতে অস্বীকার করে এবং স্বজনদের খবর দেয়। স্বজনরা আসলে সোহান ওইদিন ২১.২.১৯ইং রাত ৮টায় পূর্ব মাটিভাঙ্গ গ্রামে ছোবাহান ফকিরের বাড়িতে নিয়ে যায়।
সেখানে সোহান হোসেন নিজেই নিকাহ রেস্ট্রিার আঃ রব কাজীকে ডেকে এনে ৪,০০,০০০/= টাকা (চার লক্ষ টাকা) দেন মোহরে ফাহিমাকে বিবাহ করে। কিন্তু কাগজে পত্রে ফাহিমার বয়স ১৮ বছর পূর্ন না হওয়ায় এবং সোহানের চাকুরীতে সমস্যার কথা বলে সোহান কাবিন রেজিস্ট্রি না করার জন্য অনুরোধ করে কাজীকে।
নিকাহ রেজিস্ট্রোরে বালামে উভয়ের সাক্ষর রয়েছে। একই সময় স্থানীয় হুজুর হাচান মাহমুদ ইসলামী শরিয়া মোতাবেক বিয়ে পরায়। বিবাহের বিশ্বাস ও ফুসলাইয়া সোহান হোসেন ২১.০২.১৯ইং তারিখ রাত ১০টা হইতে ২৩.২.১৯ইং তারিখ সকাল ১০টা পর্যন্ত ছোবাহান ফকিরের বাসায় বসে ফাহিমাকে একাধিকবার ধর্ষন করে এবং আত্মীয় স্বজন নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নিয়ে স্ত্রীর মর্যাদা দিবে বলে চলে যায়।
পরবর্তীতে সোহান বিবাহ এবং স্ত্রীর মর্যাদা দিতে অস্বীকার করায়, ফাহিমা সোহানের ভায়লা গ্রামের বাড়িতে গেলে সোহানের মা ও তার আত্মীয় স্বজনরা নির্যাতন করে। নির্যাতন সহ্য করে স্ত্রীর স্বীকৃতি আদায়ে অবস্থান করার এক পর্যায় সদর থানা পুলিশের মাধ্যমে স্ত্ররি মর্যাদা বলে ফাহিমাকে পিতার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।
পরে সোহান তার ফোন বন্ধ করে যোগাযোগ না করে বিবাহ বন্ধন অস্বীকার করায় কলেজ ছাত্রী ফাহিমা নিরূপায় হয়ে ০৮.০৫.১৯ইং তারিখ সরাসরি বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজির কাছে একটি দরখাস্ত করে।
ডিআইজি বিষয়টি এএসপি মাসুম বিল্লাহকে তদন্ত করার নির্দেশ দেন। ঘটনার সত্যতা পেয়ে সোহানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু হয়। মামলা নং-০৭/২০১৯, তারিখ: ০২.৮.১৯ইং। এ বিভাগীয় মামলার তদন্তে বাতা নং-২৫৬১, তারিখ: ১৪.০৮.১৯ এর মাধ্যমে ফাহিমা ১৯.০৮.১৯ ইং তারিখ দুপুরে ভোলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম মিজানুর রহমানের কক্ষে হাজির হন।
ঘটনা সমূহের তদন্তে সত্যতা প্রমানিত হলেও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলৈও বিবাহ অস্বীকার করে। এ ব্যাপারে ২১.০৮.১৯ইং তারিখ পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা করতে গেলে, পুলিশ মামলা না নেয়ায় ফাহিমা নিরুপায় হয়ে উক্ত পটুয়াখালী বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে মামলা দায়ের করেন।
পিটিশন মামলা নং-৪৭৩/১৯, তারিখঃ ২৭.০৮.১৯ইং। বিজ্ঞ বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য স্থানীয় হাজী মোক্তার আলী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।
হাজী মোক্তার আলী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ কামরুজ্জামান জানান, আদালত থেকে (স্মারক নং ২৯৯৮) তদন্তের জন্য প্রেরিত একটি চিঠি পেয়েছি। কলেজে পরীক্ষা চলার কারনে তদন্ত কাজ শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে।