• ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৬ই রমজান, ১৪৪২ হিজরি

পূর্ণিমার পানিতে কৃষকের স্বপ্ন ভেঙে গেল!

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত এপ্রিল ৬, ২০২১, ২০:২৬ অপরাহ্ণ
পূর্ণিমার পানিতে কৃষকের স্বপ্ন ভেঙে গেল!

স্বপন কুমার ঢালী, বেতাগী ॥ উপকুলীয় জনপদ বরগুনার বতোগীতে মৌসুমি ফল তরমুজ আবাদে অন্যতম সুপরচিতি এলাকা হিসেেেব পরিচিত। ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি চাহদিা থাকায় এ অঞ্চলরে মানুষরে প্রধান র্অথকরী ফসল তরমুজ। কিন্তু এক সপ্তাহ পূর্বে পূর্ণিমার জোয়াড়ের পানিতে তরমুজ গাছ পঁচে গেছে। তরমুজ নষ্ঠ হওয়ায় এতে চাষীরা র্সবস্বান্ত।

জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের রানীপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক ও সহিদুর রহমান পুটিয়াখালী গ্রামের বিষখালী নদী তীরবর্তী এলাকার প্রায় ৪০ একর জমির উপর তরমুজ ও ফুট চাষ করেন। ফলনও মোটামোটি ভালো হয়েছিল। আর দুই/তিন সপ্তাহ পরে তরমুজ বিক্রি করার উপযুক্ত সময় হতো।

কিন্তু গত ২৮ মার্চ পূর্নিমায় জোয়াড়ে পানি মাঠে প্রবেশ করে। এরপর ৪/৫ দিন পরে ওই তরমুজ গাছ শুকিয়ে যায় এবং পাতা ঝড়ে যায়। সমস্ত মাঠ জুড়ে পরে থাকে অপরিপক্ক তরমুজ। ওই তরমুজ পরিপূর্নতা না হওয়ায় পঁচে গেছে।

পঁচে ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে কৃষকের স্বপ্ন তছনছ হয়ে গেছে। আশায় বুক বেধে ওই কৃষকরা তাদের জমানো সবটুকু পুঁজি বিনিয়োগ করেছিলো। এছাড়া তরমুজ চাষী আব্দুর রাজ্জাক ও সহিদুর রহমান দার-দেনা করে এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করায় বিপাকে পড়েছে।

সরেজমিনে কয়েকজন সংবাদকর্মী তাঁদের তরমুজ ক্ষেতের ছবি ও তথ্য আনতে গেলে একপর্যায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন আব্দুর রাজ্জাক।

এতে নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে ঐ ২ জন কৃষক। সর্বস্ব হারিয়ে চরম হতাশার ছাপ তাদের চোখে মুখে। কিন্তু এত কষ্টের ফসল পানিতে নষ্ট হওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে ওই দুই কৃষক ও তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট ৫০ জন শ্রমিক ও তাদের পরিবার।

বেতাগী পৌর শহরের তরমুজ বিক্রেতা সেলিম মিয়া জানান,‘ এ বছর তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে। বড় সাইজের তরমুজ ১০০ শ থেকে ১৫০ টাকা। মাঝারী সাইজের তরমুজ এবং ছোট সাইজের তরমুজ গড়ে ৩০ টাকা থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’

কৃষক আব্দুর রজ্জাক জানায়,’ দারদেনা করে এবং স্থানীয় কয়েকটা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তরমুজ চাষ করি । প্রতি একর জমিতে বীজ, সার, সেচ, ঔষধ ও শ্রমিক খরচসহ খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকারও বেশি।

ফসল ভালো হওয়ায় একর প্রতি উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিলো লক্ষাধিক টাকা। ফসলের শুরুটা খুব ভালো হওয়ায় তারা ভেবেছিলো করোনায় কর্ম না থাকলেও স্থানীয় বাজারে ফসল বিক্রি করে কষ্টের দিনগুলোতে দু’মুঠো আহারের ব্যবস্থা হবে। ‘

এ ব্যপারে বেতাগী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন মজমদার বলেন, ‘ এ বছর তরমুজের ভালো ফলন হয়েছে এবং দামও ভালো পেত।

তবে পুটিয়াখালী গ্রামের নদীর তীর এলাকার ক্ষতি হওয়া ফুড তরমুজের মাঠ পরিদর্শন করা ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সাধ্যমত বীজ ও সার দিয়ে সহায়তা করা হবে।’