• ১৯শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১২ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

পিরোজপুরে সরকারি বরাদ্দের পানির ট্যাংক বিতরণে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ জাতীয় পার্টির স্থানীয় সাংসদ ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত অক্টোবর ১৩, ২০২১, ২১:৩৫ অপরাহ্ণ
পিরোজপুরে সরকারি বরাদ্দের পানির ট্যাংক বিতরণে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ জাতীয় পার্টির স্থানীয় সাংসদ ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে

ওসি: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সরকারি বরাদ্ধের প্রায় সাড়ে ৭ হাজার পানির ট্যাংক বিতরণে অবৈধভাবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় পার্টির স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

এছাড়া ট্যাংক বিতরণে স্বজনপ্রীতি ও বিএনপি জামাতের সমর্থকদের অগ্রাধিকার দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ আছে, তালিকা প্রস্তুুতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপেক্ষা করারও। পিরোজপুর প্রতিনিধি পাঠানো রিপোর্ট।

ভিওঃ বঙ্গোপসাগরের সন্নিকটে দক্ষিণের জেলা পিরোজপুরের সবশেষ উপজেলা মঠবাড়িয়া। সমুদ্রঘেষা হওয়ায় এ উপজেলার অধিকাংশ এলাকার পানি লবনাক্ত। তাই বসানো যায় না গভীর নলকূপও।

বর্ষাকালে পানিতে খুব একটা সমস্যা না হলেও শুকনা মৌসুমে মানুষকে পোহাতে হয় মারাত্মক কষ্ট। দৈনন্দিন কাজ কর্ম সারতে তখন একমাত্র অবলম্বন পুকুর ও ধরে রাখা বৃষ্টির পানি।

আপস..
সাধারণ মানুষের সুপেয় পানির কষ্ট দূর করতে সরকার গেলো অর্থ বছরে ৪৭ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে মঠবাড়িয়ায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে প্রকল্প নেয়।

যেখানে ৩ হাজার লিটার বৃষ্টির পানি ধারণক্ষমতার ৭ হাজার ৪০০ টি পানির ট্যাংক ছাড়াও ৩৩ টি কমিউনিটি ল্যাট্রিন ও ৫ টি পাবলিক টয়লেট, ১০০ টি ডিপ টিউবওয়েল এবং ৭টি আরও প্লান্ট ও টি ১০ পুকুর পুনঃখনন করার কথা।

প্রকল্পের প্রতিটি পানির ট্যাংকের জন্য সুবিধাভোগীদের সরকার নির্ধারিত দেড় হাজার টাকা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও অভিযোগ আছে তাদের গুনতে হয় ৫-৭ হাজার টাকা পর্যন্ত। বেআইনিভাবে যা স্থানীয় সাংসদের লোকজন নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভক্সপপ: ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা
শুধুমাত্র গরীবদের ঘরপ্রতি একটি করে ট্যাংকি বরাদ্দের কথা থাকলেও খোদ সাংসদের শ্বশুর বাড়ি ৩/৪ টি দেয়া হয়েছে বলে সরেজমিনে দেখা যায়। ট্যাংকি না পেয়ে লবনাক্ত পানি ব্যবহার করে অনেকেই পানিবাহিত রোগে ভুগছেন বলেও জানায় এলাকাবাসি।

ভক্সপপ:
স্থানীয় সাংসদের দুর্নীতিবাজ সহযোগিদের কারণে সরকারের এমন মহৎ উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে জানিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দাবি করেন, এমপির লোকজন গরীব মানুষের ট্যাংকি তাদের না দিয়ে পাশের উপজেলায় বিক্রিও করে দিয়েছিলো। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াা জানান, উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতারাও।

সট: মোঃ সেলিম মাতুব্বর, মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক।
মোঃ রিয়াজ উদ্দীন আহম্মেদ, উপজেলা চেয়ারম্যান, মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর।
আরিফুর রহমান সিফাত, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর।
রিয়াজুল আলম ঝনো, ইউপি চেয়ারম্যান, হলতা গুলিশাখালী।
ট্যাংকি বিক্রির কথা স্বীকার করে এমপির ব্যক্তিগত কর্মকর্তা জানান, পরে বিক্রি করা ট্যাংকি উদ্ধার করা হয়েছে।

সট: আলী রেজা রঞ্জু, রুস্তুম আলী ফরাজির ব্যক্তিগত কর্মকর্তা

তালিকা প্রণয়নের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়ে জেলার জনস্বাস্থ্য বিভাগ ট্যাংক বিতরণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কথা শুনেছেন বলে জানান। এ বিষয়ে এখন জনস্বাস্থ্য বিভাগ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও দাবি করেন জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী।

সিংক: আব্দুস সত্তার খান লিটন, সহকারী প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য বিভাগ, মঠবাড়িয়া।

প্রকৌ. মোঃ আব্দুল আলীম গাজী, নির্বাহী প্রকৌশলী, পিরোজপুর জেলা।
সরকারি ট্যাংক বিতরণের অনিয়মের বিষয়ে জানবার জন্য সাংসদ ডা. রুস্তুুম আলী ফরাজীকে এক সপ্তাহ ধরে টেলিফোন ও ক্ষুদেবার্তা পাঠালেও তিনি কোন জবাব দেননি।