• ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৬ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

পাথরঘাটায় সংবাদ সম্মেলন

পাথরঘাটায় সুপেয় পানির উৎস নষ্ট ও অকেজো

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত জুন ২৪, ২০২১, ০১:১৫ পূর্বাহ্ণ
পাথরঘাটায় সুপেয় পানির উৎস নষ্ট ও অকেজো

পাথরঘাটা প্রতিনিধিঃ বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানির উৎস নষ্ট ও অকেজো রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। এতে পাথরঘাটা উপজেলার দুই লাখ ২৫ হাজার মানুষের বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানির সংকট মাঝারি থেকে তীব্রতর ভাবে দেখা দিয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।

 

 

তবে স্থানীয় মানুষের মতে ৫৫ থেকে ৬০ ভাগ পানির উৎস নষ্ট বা অকেজো বলে ধারণা করলেও পাথরঘাটা উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর হিসাব মতে ৪০ দশমিক ৯৬ ভাগ পানির উৎস নষ্ট বা অকেজো অবস্থায় রয়েছে।এ ব্যাপারে গবেষণা দলের তথ্য নিয়ে পাথরঘাটা প্রেসক্লাবে বুধবার বেলা ১১ টায় লিখিত সংবাদ সম্মেলন করেন দুর্যোগ অগ্রযাত্রা লোককেন্দ্রের নির্বাহী সদস্য ও রূহিতা সুন্দরবন নারী দলের সভানেত্রী পাখি বেগম।

 

 

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন গবেষণা দলের প্রান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম, পাথরঘাটা উপজেলার নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সদস্য মুনিরা ইয়াসমিন ও সাংবাদিক আমিন সোহেল, চরদুয়ানী দুর্যোগে জরুরী সাড়া প্রদানকারী নারী দলের সদস্য সুরমা আক্তার, পাথরঘাটা সদর দুর্যোগে জরুরী সাড়া প্রদানকারী নারী দলের সদস্য খাদিজা বেগম, তাফালবাড়ীয়া ইলিশ পুরুষ দলের সভাপতি আলাউদ্দিন মানিক, পাথরঘাটা পদ্মা গুচ্ছ গ্রাম ভূমিহীন সমিতির সদস্য মোজাহার বয়াতি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সুশীলনের পাথরঘাটা উপজেলা প্রকল্প ব্যবস্থাপক ইসমাইল হোসেন প্রমুখ।

 

 

সংবাদ সম্মেলন শেষে গবেষণা দলের তথ্যসহ বিশুদ্ধ সুপেয় পানির সংকট নিরসনে করণীয় ৮টি দাবি তুলে ধরে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বরাবরে স্মারকলিপি দেন তারা। গবেষণা দলের প্রধান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পাথরঘাটা উপজেলার ২৫টি গ্রামে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট চলছে সে গ্রামগুলো হলো, উত্তর চরদুয়ানী, দক্ষিণ চরদুয়ানী,গাব্বাড়ীয়া, তাফালবাড়ীয়া ইকরবুনিয়া, কালিয়ারখাল, চরলাঠিমারা, বাদুরতলা, পদ্মা, রূহিতা, বড় টেংরা, হাজিরখাল, ছোট পাথরঘাটা, ঘুটাবাছা,

 

 

লাকুরতলা, ছোনবুনিয়া, উত্তর কাঠালতলী, পরিঘাটা, বকুলতলা, তালুক চরদুয়ানী, কালীবাড়ী, নাচনাপাড়া, ছোট নাচনাপাড়া, মানিকখালী ও উত্তর জ্ঞানপাড়া।এ ২৫টি গ্রামের বাসিন্দারা বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানির তীব্র সংকটে রয়েছে। পাথরঘাটা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চরদুয়ানী ইউনিয়নে ৫১ দশমিক ০৯ ভাগ পানির উৎস নষ্ট বা অকেজো অবস্থায় আছে। তবে স্থানীয় মানুষের মতে ৬০ থেকে ৭০ ভাগ সুপেয় পানির উৎস নষ্ট বা অকেজো।

 

 

গভীর নলকূপ একটিও নেই আর অগভীর নলকূপ রয়েছে ১০টি। যার মধ্যে ৪টি নষ্ট। খাসপুকুর ৪৫টি মধ্যে পানি ব্যবহার উপযোগী ১৫টি।অপর ৩০টি খাসপুকুরের পানি ব্যবহার অনুপযোগী। একইভাবে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নে ৫৩ দশমিক ৩৪ ভাগ পানির উৎস নষ্ট বা অকেজো। তবে স্থানীয় মানুষের মতে ওই সংখ্যা ৬৫ থেকে ৭০ ভাগ। পানির উৎসের গভীর নলকূপ একটিও নেই। অগভীর নলকূপ রয়েছে ১৫ টি যার মধ্যে পাঁচটি নষ্ট।

 

 

খাসপুকুর ৪০টির মধ্যে পানি ব্যবহার উপযোগী ১০টি অপর ৩০টি খাসপুকুর সুপেয় পানি ব্যবহার অনুপযোগী। এ ব্যাপারে পাথরঘাটা উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর উপসহকারী প্রকৌশলী দোলা মল্লিক বলেন, পাথরঘাটা উপজেলায় তীব্র ও মাঝারি সংকট এলাকায় গভীর নলকূপ না বসার কারণে এবং বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানির সংকটের প্রধান কারণ। তবে ব্রষ্টির পানি সংরক্ষণের বিষয়ে আমরা অধিক গুরুত্ব দিচ্ছি। সে বিষয়ে সহায়তাসহ স্থানীয় মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।