• ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ , ১০ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

নাগেশ্বরীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় শহীদ শেখ রাসেল স্কুল বিনাশের পায়তারা

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত নভেম্বর ২৫, ২০২৩, ১৭:৫৯ অপরাহ্ণ
নাগেশ্বরীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় শহীদ শেখ রাসেল স্কুল বিনাশের পায়তারা

এম এম আল মামুন, কুড়িগ্রাম ॥ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা আর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের অনিয়ম-অবহেলার কারণে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌর সদরের হ্যালিপ্যাড সংলগ্ন ১৯৯৯সালের স্থাপিত শহীদ শেখ রাসেল স্মৃতি নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিতের পরেও বিনষ্টে ষড়যন্ত্রের পায়তারা করছে বিরোধী-চক্র।

ফলে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ছে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা আর ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সচেতন মহল। অভিযোগ রয়েছে সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ উপেক্ষিত করে কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অসংযমে প্রতিষ্ঠান প্রলয়ের পথে মর্মে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিন ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা ও পৌরসভার হ্যালিপ্যাড এলাকার শিক্ষানুরাগী মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা ননী গোপাল, হাসনা ও হোটকা শেখ হ্যালিপ্যাড সংলগ্ন তাদের ৫২শতক জমি ১৯৯৯সালে শহীদ শেখ রাসেল স্কুলের নামে লিখে দেয়।

তৎকালীন নাগেশ্বরী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী লতিফুল কবীর (রাসেল) প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসেবে ২০০০সালে শহীদ শেখ রাসেল স্মৃতি নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু করে এবং নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষা কার্যক্রমের ফলে ২০০১সালে রংপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অঞ্চল থেকে পাঠদানের অনুমতি প্রাপ্ত হয়।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ২০০১সালের ১অক্টোবর জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে। শহীদ শেখ রাসেল স্কুলের নামে জমি লিখে দেয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ননী গোপাল হত্যাকান্ডের শিকার হন।

তৎকালীন নাগেশ্বরী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতির নেতৃত্বে ২০০১সালের নভেম্বর মাসের শেষের দিকে বিরোধী-চক্র শহীদ শেখ রাসেল স্কুল চলাকালীন সময়ে স্কুল বন্ধ করে এবং প্রধান শিক্ষক কে বের করে দেয়াসহ প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড-প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হ্যালিপ্যাড পুকুরে ফেলে বিনাশ করে।

২০০২সালে এক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে ক্ষমতার দাপটে বিধি বহির্ভূতভাবে একটি সাজানো এভিডেভিডের মাধ্যমে শহীদ শেখ রাসেল বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে কামারপাড় নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয় নাম করণ করে আবতাবুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি কে প্রধান শিক্ষক করে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম ২০১১সাল পর্যন্ত স্থগিত থাকে।

২০১২সালে শহীদ শেখ রাসেল স্মৃতি নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী লতিফুল কবীর (রাসেল) বিদ্যালয় রক্ষাকল্পে সফল প্রধানমন্ত্রী সমীপে আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৯এপ্রিল ২০১৩সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পত্র নং-০৩.০৭৪.০২৭.৩৭.০০.০০২.২০১৩-৭২(২) মাধ্যমে শহীদ শেখ রাসেল বিদ্যালয় ২০১৩সালে অধিশাখা এমপিও নম্বর-২৬৮ মূলে এমপিওভুক্ত করে।

কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তি তাদের স্বার্থ রক্ষায় কুড়িগ্রাম জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সামছুল আলম ও নাগেশ্বরী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের অনিয়ম মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে শহীদ শেখ রাসেল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এমপিও নম্বর-২৬৮ জালিয়াতি করে কামারপাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামে এমপিও করে একটি কুচক্রী-মহল।

অতঃপর শহীদ শেখ রাসেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক কাজী লতিফুল কবীর (রাসেল) ২০২২সালে হাইকোর্টে একটি মামলা করলে উচ্চ আদালত মামলাটি ইন্টারনাল তদন্ত জারি করে।

শহীদ শেখ রাসেল স্মৃতি নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক কাজী লতিফুল কবীর (রাসেল) প্রতিষ্ঠানের ইন্টারনাল তদন্ত বিলম্বিত হওয়ার বিষয়ে বলেন, ভুল-বশত স্থানীয় সাংসদ কামারপাড়া নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামে ডি-ও’ লেটার দেয়ার কারণে ২০২১সালে এমপিওভুক্ত হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য আসলাম হোসেন সওদাগর বলেছেন অবৈধ ও বিধি বহির্ভূত কামারপাড়া নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয় বাতিল করে দ্রুতই শহীদ শেখ রাসেল স্মৃতি নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামকরণ করা হবে এবং পাঠদান কার্যক্রম শুরু হবে। শহীদ শেখ রাসেল বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, প্রতিবন্ধকতা ও সড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ২০১৩সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তার অনিয়মে শহীদ শেখ রাসেল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এমপিও নম্বর-২৬৮ জালিয়াতি করে কামারপাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামে এমপিও করে। উধ্বতর্ন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নাগেশ্বরী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কামরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কুড়িগ্রাম জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কারণে শহীদ শেখ রাসেল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২৬৮নং এমপিওভুক্ত ভুল বশত কামারপাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামে এমপিও হয়। এ বিষয়ে একটি ইন্টারনাল তদন্ত এসেছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন জেলা শিক্ষা অফিসার কে দেয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সামছুল আলম এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, শহীদ শেখ রাসেল স্মৃতি নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিষয়ে শুনলাম। দ্রুত খোঁজ খবর নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।