দেড় যুগ পরে আলোচনায় বরিশাল মহানগর যুবলীগ - বিডি ক্রাইম ২৪

দেড় যুগ পরে আলোচনায় বরিশাল মহানগর যুবলীগ

প্রকাশিত: ৬:১০ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০১৯

দেড় যুগ পরে আলোচনায় বরিশাল মহানগর যুবলীগ

এম.এস.আই লিমন ॥ নতুন মুখদের নিয়ে বরিশাল মহানগর যুবলীগের কমিটি গঠন করার পরিকল্পনা করছেন দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে উদীয়মান তরুনদের নিয়ে যুবলীগের কমিটি গঠনের চিন্তাা ভাবনা করা হচ্ছে।

 

বরিশাল মহানগর যুবলীগে আসছে নতুন মেরুকরন। যুবলীগকে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে এখন থেকে চলছে আলোচনা আর শীর্ষক কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠক। পরিক্ষিত সৈনিক দূরদিনের কান্ডারী তৎকালীন আওয়ামীলীগ বিরোধীদলে থাকা অবস্থায় রাজপথে সামনের সারিতে থেকে সংগঠনকে নেতৃত্ব দেয়া ত্যাগী সংগ্রামীদেরই সভাপতি সম্পাদকসহ সকল পদে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দিয়ে মহানগর যুবলীগের কমিটি করা হচ্ছে মর্মে প্রায় নিশ্চিত । প্রায় দেড় যুগ পরে বরিশাল মহানগর যুবলীগের কমিটি গঠনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। শীর্ষ পদে দলের দূঃসময়ের ত্যাগী নেতা এ্যাড রফিকুল ইসলাম(মামা খোকন) অপর দিকে বরিশাল সদর ৫ আসনের সংসদ সদস্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবঃ)জাহিদ ফারুক শামীম এমপির অনুসারী বিসিসি’র ২১ নং ওয়ার্ড যুবলীগ শাখার সভাপতি সংগ্রামী তুখোড় নেতা মো¯Íাফিজুর রহমান রানার নাম কেন্দ্রীয় সূত্রেই আসন্ন কমিটির তালিকার খসড়ায় রয়েছে এমনটা নিশ্চিত হওয়া গেছে। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা’র পরপরই সম্মেলনের মাধ্যমে ১৫ বছরের ঝুলে থাকা নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বের উড়ো খবরে স্থানীয় পর্যায়ের নেতা কর্মীরা শীর্ষ নেতাদের ধর্না ধরে আসন্ন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর জন্য লবিং তদ্বিরে দৌড় ঝাপ করছে। নতুন করে যুবলীগ কমিটি গঠনের উড়ো খবরে সাবেক ছাত্রনেতা সহ বিভিন্ন পর্যায়ের দলীয় নেতা কর্মীদের মাঝে চাঞ্চল্যকতা বেশ করে লক্ষ করা যাচ্ছে।

এ সুবাদে তাদের সাংগঠনিক ভূমিকাও পূর্বের ন্যায় কয়েক গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও বরিশাল জেলা মাহানগরে থাকা সাবেক ছাত্রনেতাদেরও মহানগর যুবলীগের কমিটিতে ঠাই মিলবে গুরুত্বপূর্ণ সব পদে। এরমধ্যে ১৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিল সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তৌহিদুর রহমান ছাবিদ,বিএম কলেজ বাকসু ভিপি মঈন তুষার, মিজানুর রহমান মিজান,জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আঃ রাজ্জাকসহ বর্তমান ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় এবং সাবেক বেশ কয়েক নেতাদের নামও উঠে এসেছে আলোচনায়।

দলীয় সূত্র মতে, ২০০৪ সালের ৭ জুলাই নিজামুল ইসলাম নিজামকে আহবায়ক ও এম মেজবাহ উদ্দিন জুয়েল ও মাহমুদুল হক খান মামুনকে যুগ্ম-আহবায়ক করে ৫৬ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। যা পরবর্তীতে বর্ধিত হয়ে ৮১ সদস্যের কমিটিতে উন্নীত হয়েছে। তিন মাস মেয়াদী কমিটির মেয়াদ উত্তির্ণ হয়ে ১৫ বছরে পদার্পন করেছে।

এ কমিটির নেতৃস্থানীয় নেতারা পদোন্নতী পেয়ে চলে গেছেন মুল দলে। যুবলীগের অনেক নেতারাই বর্তমান দাদুভাইদের কাতারে দাড়িয়েছেন। কিন্তু আদৌ পুর্নতা কিংবা পুনঃগঠন হয়নি মহানগর যুবলীগ। বরিশালের মেয়াদ উত্তীর্ণ এই কমিটি নিয়েই বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রতি বছর পূর্তি হচ্ছে অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দদের কাধে ভর দিয়ে।

আওয়ামীলীগ দলীয় সূত্রে জানাগেছে, ১৯৭২ সালের ১১ই নভেম্বর প্রতিষ্ঠা হয় আওয়ামী লীগের যুব সংগঠন যুবলীগ। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন শেখ ফজলুল হক মনি। সে অনুযায়ী দেশের শক্তিশালী সরকার দলীয় এই সংগঠনটি ৪৬ বছর পার করছে গত ২০১৮ সালের ১১ই নভেম্বরে। পদ-পদবির আশায় বছরের পর বছর জেলা ও মহানগর যুবলীগকে সু-সংগঠিত করে আসা পদবিহিন নেতারাই পূর্বের মত করে প্রতিবারে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপনের আয়োজন করে চলেছেন। অবশ্য এরই মধ্যে নতুন কমিটি হওয়ার গুঞ্জন শুরু হয় বেশ কয়েকবার। কিন্তু কোনবারই তা বাস্তবে রূপ নেয়নি।

অপরদিকে ২০০৪ সালের ৭ জুলাই নিজামুল ইসলাম নিজামকে আহ্বায়ক করে মহানগর যুবলীগের ৫৯ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। যুগ্ম আহ্বায়ক পদ পান সাহিন সিকদার। এই কমিটির আহবায়কসহ নেতৃবৃন্দরা নগরীর ৩০ ওয়ার্ডের কোন কমিটি গঠন করতে পারেননি। আহবায়ক নিজামুল ইসলাম নিজাম যুবলীগের পদ আকড়ে ধরেই মহানগর আওয়ামী লীগে সহ-সভাপতির পদ পেয়েছেন। মহানগরের কমিটির নেতাদের বিরুদ্ধেই পদ আকড়ে ধরে রাখার অভিযোগ করেছে কর্মীরা। তাদের অভিযোগ কমিটির নেতৃবৃন্দের কারনে বর্তমানে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কোন কমিটি না হওয়ায় ছাত্রনেতাদের পুরাতন সাবেক ও সদ্য সাবেক নেতৃবৃন্দের মধ্যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। জানাগেছে, ইতিপূর্বে বরিশাল মহানগর যুবলীগ নতুন কমিটি দেয়ার পরিকল্পনা করেন। মহানগর কমিটিতে সভাপতি পদে এ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন ও মোস্তাফিজুর রহমান রানা ও তৌহিদুর রহমান ছাবিদ,জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সভাপতি মোঃ জুবায়ের আব্দুল্লাহ্ জিন্নাহ সহ রইজ আহমেদ মান্নার নাম সাধারণ সম্পাদক করে প্রস্তাবিত খসড়া তালিকা করেছে বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা। কিন্তু এ ধরনের খসড়া আর নামের তালিকা পাচ কান হয়ে জানাজানি হলে তাতে অসন্তোসও প্রকাশ করে সাবেক কতিপয় ছাত্র নেতারা।

একাধীক পদ-বঞ্চিত নেতা-কর্মীদের অভিযোগ গনতান্ত্রিক দেশে কর্মীর পরিবর্তন হয় কিন্তু নেতা নয়। ছাত্রলীগ থেকে যুবলীগ ও যুবলীগ থেকে আওয়ামী লীগে যাবে নেতারা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পূর্নাঙ্গ কমিটি হচ্ছেনা। শুধু মাত্র বিশেষ কয়েকটি ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হয়েছিল তৎকালীন তত্বাবধায়ক আমলে। এই কারনেও সাংগঠনিক নানান সমস্যা সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের কমিটি হলেও হয়নি যুবলীগের কমিটি। যে কারনে আওয়ামী লীগ নেতারাই নেতৃত্ব দিচ্ছে যুবলীগের। এজন্য কর্মীরাও আগ্রহ হারাচ্ছে। বরিশালের বিষয়ে কেন্দ্রের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা। এদিকে দলীয় কেন্দ্রীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে ২০০৬ সালে যখন তত্বাবধায়ক সরকার আমলে সংগঠনের নাম নিতে সংকোচ করেছিল বর্তামান ত্যাগী নেতারা। সে সময়ে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলীয় আওয়ামী যুবলীগের বরিশাল সিটির ২১ নং ওয়ার্ড যুবলীগের গত ২০০৬ সালের ০৫ জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সভাতে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী একই বছরের ৩০ জুলাই থেকে তিন বছরের মেয়াদে মহানগর যুবলীগের আহবায়ক মোঃ নিজামুল ইসলাম নিজাম ও যুগ্ম আহবায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন সাক্ষরীত ২১নং ওয়ার্ড শাখার যুবলীগের কমিটিতে মোস্তাফিজুর রহমান রানাকে সভাপতি ও সামসুল ইসলাম শাহিন কে সাধারন সম্পাদক করে অনুমোদন দেয়া হয় কমিটির। সেসময়ে মোস্তাফিজুর রহমান রানার উপর বেশ কয়েকবার হামলা করা হয়েছিল।

তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে পদ পদবী ধারী অজশ্র নেতা কর্মীরা হামলা মামলার শিকার হয়ে নিস্ক্রিয় হয়ে পরলেও সাংগঠনিক ভাবে দক্ষতার সাথে একাধিকবার হামলার শিকার হওয়া সংগঠনকে পরিচালনা করে আসছিল সভাপতি রানা বলে একাধিক আঃ লীগ নেতৃবৃন্দদের বক্তব্যে উঠে আসে। আর প্রায় দেড় যুগে সংগঠনকে আকড়ে ধরায় তার নাম কেন্দ্রীয় ভাবেই প্রশংসা কুড়িয়েছে। ফলে আসছে আগামী সম্মেলনে মোস্তাফিজুর রহমান রানার নামটি শীর্ষক নেতৃবৃন্দের মূখ থেকেই আলোচনায় উঠে আসছে বার বার। সূত্র মতে শীঘ্রই আলী’গের সম্মেলনে দীর্ঘ ১৫ বছর বাদে সাংগঠনিক দক্ষতাসম্পন্ন হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমান রানাকে সভাপতি করে এবং সাংগঠনিক অন্যান্য ত্যাগী নেতৃবৃন্দের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন করে কমিটি গঠন করা হবে বলেও উড়ো খবরে রটছে। অপরদিকে দলের দূঃসময়ের আওয়ামী লীগের সংগ্রামী ত্যাগী নেতাদের মধ্যে শীর্ষে থাকা এ্যাড রফিকুল ইসলাম খোকন (মামা খোকন) কে সভাপতি এবং মোস্তাফিজুর রহমান রানাকে সাধারণ সম্পাদক পদ দিয়ে কমিটি গঠন করা হবে বলেও কেন্দ্রীয় সূত্র গুলো থেকে শোনা যাচ্ছে। জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করে বলেন, জেলা ও মহানগর যুবলীগের সম্মেলন না হওয়ায় থেমে আছে নিচের দিকের সম্মেলনও।

এখানে সম্মেলন হলে তাঁরা যুবলীগে আসার সুযোগ পেতেন। মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক নিজামুল ইসলাম বলেন, আহ্বায়ক কমিটি ৯০ দিনের জন্য করা হলেও ওই কমিটি দিয়ে মহানগর যুবলীগের কার্যক্রম চালানো হয়েছে। আমি চাই, সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আসুক। আমি মূল দলে কাজ করতে চাই। অপরদিকে, যুগ্ম আহবায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন  বলেন,দলের দূসময়ে সংগঠনকে সাংগঠনিক ভাবে গতিশীল রাখা তৎকালীন সময়ের ত্যাগী নেতা কর্মীদের নিয়েই বরিশাল মহানগর যুবলীগের কমিটি গঠন করা হলে সাংগঠনিক ভাবে দল আরো শক্তিশালী হবে। আর তিনিও চান নতুন মূখ, নতুন নেতৃত্ব আসুক বরিশালের আওয়ামী যুবলীগ সংগঠনে। আসন্ন আলী’গের সম্মেলনে এ বিষয়ে চূড়ান্তভাবেই সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে বলেও জানান তিনি

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Shares