সংবাদ শিরোনাম
 করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসছে যুক্তরাজ্যে !  পুলিশ ফাঁড়ির জমি ফিরিয়ে নিলেন দাতা : প্রতিবাদে সন্ত্রাস নির্মূল কমিটির সভা  বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির মৃত্যুতে জেলা আ’লীগের শোক  করোনায় আক্রান্ত এমপি পঙ্কজ নাথ  মঠবাড়িয়ায় সমিতির দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ  বানারীপাড়ায় জাকির স্যারের মৃত্যু বার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া-মিলাদ অনুষ্ঠিত   বাউফলে ৭ রাউন্ড গুলিসহ জলদস্যু আটক  বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে মোটর সাইকেলের ধাক্কায় শ্রমিক নিহত  প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়নে রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছি- পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী  দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ
  • বরিশাল |১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

দুই যুগ পার হলেও এমপিও বঞ্চিত নুরাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়

৬:২৩ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০ প্রতিদিনের বরিশাল, বরিশাল বিভাগ, ভোলা, শিরোনাম

ডেস্ক রিপোর্ট ::

ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানায় নুরাবাদ ইউনিয়নে অবস্থিত নুরাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। শিক্ষকেরা মানবেতর জীবন যাপন করে আসছেন। কাছা কাছি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। এলাকাবাসী সকলের মতামতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষকের দাযয়িত্ব দেওয়া যায় কাকে? কে নিবে এই প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব? সাংবাদিক আমির হোসেন কে তারা খবর দিয়ে নিয়ে যান। সকলে পরামর্শ করেন।

তৎকালীন বিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুল খালেক মিঝি বলেন, আমি এই এলাকায় এই বিদ্যালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার মতো কাউকে খুঁজে পেলাম না। কারণ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিতে হলে যোগ্যতা সম্পন্ন একজন মানুষের প্রয়োজন। আমি মনে করি সাংবাদিক আমির হোসেন ই এই দায়িত্ব বহন করতে পারেন। সবাই এক বাক্যে বললেন, হ্যাঁ আমরাও একমত।

সভাপতি আরো বলেন, আজ থেকে আমি প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব আমির হোসেন কে দিয়ে দিলাম। এই সময় সাংবাদিক আমির হোসেন বলেন, আমি আপনাদের এলাকার সন্তান। আপনারা আমাকে এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব দিয়ে আমার দায়িত্ব আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন।

একটি সংসার চালানো সহজ, একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করা তার চেয়েও কঠিন।
আপনারা আমাকে সহযোগিতা করবেন। প্রতিষ্ঠান যেন টিকে থাকে সেই পরামর্শ দিয়ে সাথে থাকবেন।
১৯৯৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। হাঁটি হাঁটি পা-পা করে পেরিয়ে গেলো ২৪ বছর।

২০০০ সালে বিদ্যালয়টি পাঠদানের অনুমতি পায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশক্রমে ২০০৪ সালে বিদ্যালয়টি একাডেমী স্বীকৃতি লাভ করে। সেখান থেকে প্রতিষ্ঠানটি পড়াশোনা চলছে অবিরাম। নবম শ্রেণীর ছাত্রী সাজেদা,অষ্টম শ্রেণীর সোনিয়া আক্তার, ৭ম শ্রেণীর সারমিন ও ৬ষ্ঠ শ্রেণীর তামীম বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে লেখাপড়া খুব ভালো চলছে। শিক্ষকেরা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আমাদের পাঠদান করেন। আমাদের বিদ্যালয় বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। বর্ষাকালে শ্রেণীকক্ষে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। চেয়ার টেবিলের সংকট। পর্যাপ্ত সংখ্যক টেবিল-হাইবেঞ্চ না থাকায় গাদাগাদি করে বসতে হয়। বিদ্যালয়টির দ্রুত এমপিওভুক্ত প্রয়োজন।

বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক আবু সালেহ মোঃ হানিফ বলেন, আমি ২৪ বছর পর্যন্ত এই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে বিনা বেতনে চাকরি করে আসছি। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী আমার সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ২০২০ সালে শেষ হয়ে গেছে। তাই আমার অন্য কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবেদন করার সুযোগ নেই। আমার পুরো জীবন বিনা বেতনে খেটে গেলাম। আমাদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আমাদের পরিবার নিদারুণ কষ্টে আছে। আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমাদের পরিবারের মাঝে হাসি ফোটানোর জন্য বিদ্যায়লটির এমপিওভুক্ত প্রয়োজন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আমির হোসেন বলেন, আমি ২৪ বছর ধরে বিনা বেতনে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছি। আমার বিদ্যালয়টি বেশ সুনামের সাথে পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষক-কর্মচারীরা খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন। তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। শীঘ্রই প্রতিষ্ঠাটি এমপিওভুক্ত না হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিদ্যালয়টি দ্রুত এমপিওভুক্ত ও একটি ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষকহ কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন,বিদ্যালয়ের এলাকায় আমার আমার জন্ম, আমি এ বছর সভাপতির দায়িত্ব পেলাম। বিদ্যালয়টি বেশ দীর্ঘ ২৪ বছর যাবত বেশ সুনামের সাথে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে শিক্ষকরা খুব কষ্টে আছেন। আমি আশা করি আগামী বাজেটে ভোলা -৪ চরফ্যাসন ও মনপুরা আসেনের সফল এমপি আব্দুল্লাহ আল ইসলাম এর সাথে আলাপ করে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত করার ব্যবস্থা হবে।

উল্লখ্য,২০১৮ সালে মাধ্যমিক স্তরে পাঠদানের অনুমতি পায় এই প্রতিষ্ঠানটি।

চরফ্যাশন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জিয়াউল হক মিলন বলেন, দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে বেশ সুনামের সাথে নুরাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় পাঠদান করে আসছে। শিক্ষকদের কঠোর পরিশ্রমের ফলে জে এস সি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা শতভাগ উত্তীর্ণ হয়ে আসছে। দ্রুত বিদ্যালয় টি এমপিওভুক্ত হওয়া খুবই প্রয়োজন।