• ১৯শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১২ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

দক্ষিণাঞ্চল আর এক তরুণ সম্পাদকের গল্প

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত অক্টোবর ১০, ২০২১, ১৩:৩৯ অপরাহ্ণ
দক্ষিণাঞ্চল আর এক তরুণ সম্পাদকের গল্প

হাফিজা মুক্তা : কবি তার কবিতায় তারুন্য নিয়ে বলেছিলেন, ”তারুন্য! দেখছি তোমায় তুমি প্রসন্ন, আবেগাকুল তুমি, লাঞ্চিত জীবনের পাশেই তুমি অনন্যা। মুছে দিছ, তুলে দিছ, গড়েছ নূতন ধারা, দিয়াছ হস্ত খুলে নব নব স্বপন ধারা। ফুলে ফলে সজ্জিত চিরকাল শ্যামল চোখা।

তুমিই সমাজ বিনির্মাণে সৃষ্টিশীল তারুণ্য।” প্রায়শই হতাশ হই তারুন্যের দানব রূপ দেখে – সন্ত্রাসে, বিবেকহীন লেজুড়বৃত্তিতে, নিয়ন্ত্রণহীন চাঁদাবাজিতে, মেধাহীন প্রকাশে আর দিশাহীন অনিশ্চিত ভবিষ্যতে।

কিন্তু দৃষ্টি এড়িয়ে যায় দক্ষিণাঞ্চলের তারুন্যের ‘মাতৃ’ রূপ- যখন তা সৃষ্টিশীল রশ্মি ছড়ায়- সাধারণের কল্যানে, সমাজের উন্নয়নে বা দেশের দক্ষিণাঞ্চল বিনির্মাণে।

মেঘের আড়ালে ঢাকা সূর্যের মত, দক্ষিণাঞ্চলের মেধাবী ও সৃষ্টিশীল তারুন্য প্রচারণার ডামাডোল থেকে দূরে থেকে গনমাধ্যমে বিস্ময়কর অবদান রেখে চলেছে।

তারুণ্যে ঝলমল দক্ষিণাঞ্চলের গনমাধ্যম অঙ্গন। বাংলাদেশে সাংবাদিকতার জগতে প্রবাদ প্রতিম পুরুষ, গণমুখী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ ব্যক্তিত্ব তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া আর দখিনের কীর্তনখোলা নদীর সফেদ ঢেউ, নানান রঙের নাও আর শীতল বাতাস ভেদ করা, দখিনের সাংবাদিকতার প্রানপুরুষ লিটন বাশারের প্রানপ্রিয় বরিশাল নগরী থেকে সুদীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে শোধিত সাংবাদিকতার প্রতিশ্রুতি অক্ষুন্ন রেখে বহুল প্রচারিত, সরকারী মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত শীর্ষস্থানীয় দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল পত্রিকার বার্তা সম্পাদক প্রিন্স তালুকদার বয়সে তরুণ।

অনলাইন নিউজ পোর্টালের ধাক্কায় খবরের কাগজের টালমাটাল বাজার ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিত্যনতুন কৌশল নিচ্ছেন এ তরুন। বয়সে তরুণ বলেই হয়তো হালের কৌশল আর প্রযুক্তিতে ভর করে পাঠক টানার চেষ্টা করছেন।

সমকালীন ও প্রাসঙ্গিক দর্শন নিয়ে ছাপানো দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল পত্রিকা ভদ্রলোকের ড্রয়িংরুম কিংবা ফুটপাতের চায়ের দোকান, গাছের নিচের বাঁশের মাচা কিংবা নদীর নৌকার গলুই, বয়স্ক কিংবা তরুণ, গ্রাম কিংবা আধুনিক শহর সর্বত্রই সরব।

দখিনের গ্রাম-শহর, উঁচু-নিচু, কুলীন-কায়স্থ এই দুইকুলের সমন্বয় গড়ে তুলেছেন পত্রিকায়। পাঠকপ্রিয় দৈনিক দক্ষিণাঞ্চলের নিয়মিত একজন পাঠক, বরিশাল বিসিকের উপ মহাব্যবস্থাপক জালিস মাহমুদ সানি বলেন, প্রিন্স খুবই ভালো একটা ছেলে, সবসময় চেষ্টা করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করতে। ও একজন সৎ ও আদর্শবান সাংবাদিক, আমি ওর সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করছি।

দখিনের জনপদের প্রবীন, মেধাবী ও প্রভাবশালী গনমাধ্যম ব্যক্তিত্ব গোপাল সরকার, আকতার ফারুক শাহীন (ব্যুরো প্রধান – এনটিভি, যুগান্তর), নজরুল বিশ্বাস (বরিশাল রিপোটার্স ইউনিটির সভাপতি), আজাদ আলাউদ্দিন (ব্যুরো প্রধান – নয়াদিগন্ত), জে. খান স্বপন পালন করেছেন বরিশাল নগরী থেকে সুদীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে শোধিত সাংবাদিকতার প্রতিশ্রুতি অক্ষুন্ন রেখে বহুল প্রচারিত, সরকারী মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত শীর্ষস্থানীয় দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল পত্রিকার বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব।

পত্রিকার পরিচালনা পর্ষদ চমক সৃষ্টি করেন তারুণ্যে ঝলমল দক্ষিণাঞ্চলের গনমাধ্যম অঙ্গনের সবচেয়ে কম বয়সী তরুন সংবাদ কর্মী প্রিন্স তালুকদারকে সম্পাদনার গুরু দায়িত্ব প্রদান করে। মাত্র ২২ বছর বয়সে সম্পাদনা শুরু করেছিলেন তিনি। জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল দৈনিক সকাল সংবাদের যুগ্ম সম্পাদক, লন্ডন থেকে প্রকাশিত লন্ডন টাইমস নিউজের বরিশাল ব্যুরো প্রধান ও বরিশাল অনলাইন প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক তিনি।

তৃনমূল থেকে উঠে আসা, তারুণ্যে ভরা এই সংবাদ কর্মী কাজ করেছেন দৈনিক মানবজমিন, দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল, দখিনের মুখ পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলের বরিশালের বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি পদে। স্টাফ রিপোর্টার পদে কাজ করেছেন, দখিনের জনপদে সাংবাদিক তৈরীর সূতিকাগার দৈনিক আজকের বার্তা ও দৈনিক দক্ষিণাঞ্চলে। একসময় বিশেষ প্রতিনিধি পদেও কাজ করেছেন দখিনের মুখ পত্রিকায়।

দুবছর কাজ করেছেন দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল পত্রিকার যুগ্ম বার্তা সম্পাদক পদে। এছাড়াও বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন বরিশালের কন্ঠ পত্রিকায়।

তৃনমূলের সাংবাদিক সংগঠন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার সাংবাদিক ফোরামের কখনও সদস্য, কখনও সাধারন সম্পাদক, রিপোর্টাস ইউনিটির সদস্য, বরিশাল বিমান বন্দর প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

কাজ করছেন জলবায়ু নিয়ে কাজ করা ইয়ুথ নেট জাষ্টিজ ফর ক্লাইমেট চেইঞ্জ, তরুন নেতৃত্ব নিয়ে কাজ করা বাংলাদেশ মডেল উয়ুথ পার্লামেন্ট, ইয়ুথ অব বরিশালসহ একাধিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে।

জলবায়ু পরিবর্তন, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা, প্রকৃতি ও পরিবেশসহ একাধিক বিষয়ে অংশ নিয়েছেন জাতিসংঘ, ইউনিসেফ, ইউএনডিপিসহ দেশী বিদেশী একাধিক কর্মশালা, সেমিনার, সিম্পোজিয়ামে। এছাড়া তিনি তরুন শিল্পোদ্যাক্তাদের সংগঠন বরিশাল ইয়ুথ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রীর পরিচালকসহ একাধিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ভিন্ন ভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রিন্স তালুকদার বলেন, এ অঞ্চলে গণমানুষের পত্রিকা দৈনিক দক্ষিণাঞ্চলকে আরো পাঠকপ্রিয় করে তুলতে নতুন কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আমি একটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে দৈনিক দক্ষিণাঞ্চলের একজন কর্মী হিসেবে কাজ করছি এবং করবো। দল-মতের উর্ধ্বে উঠে এ অঞ্চলের গণমানুষের সব খবর আমরা প্রকাশ করে আসছি। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

সমাজের সুবিধা বঞ্চিত মানুষ ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কথা তুলে ধরে তাদের অধিকার নিশ্চিতে সহযোগিতা করা আমার পত্রিকার লক্ষ্য। পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে তরুণ সমাজের নীতি নৈতিকতা সৃষ্টি, তাদের ভাবনা, উদ্ভাবন, চিন্তা-চেতনা প্রকাশের একটি প্লাটফর্ম তৈরি করাও উদ্দেশ্য।

এশিয়ান ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেস এডমিনিষ্ট্রিশন থেকে এমবিএ (মার্কেটিং) ডিগ্রি অর্জন করেছেন প্রিন্স।

বর্তমানে বরিশালের শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত আইন মহাবিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। বেসিক জার্নালিজম, ডেভোলপমেন্ট জার্নালিজম, ইনষ্টেগেটিভ জার্নালিজম, টেলিভিশন জার্নালিজম, মাস কমিউনিকেশন জার্নালিজমসহ সম্পন্ন করেছেন একাধিক কোর্স।

কিশোর বার্তা, কিশোর সাময়িকীর কিশোর লেখক, আজকের তরুন সাংবাদিক প্রিন্স তালুকদারের সেই শৈববকালের বন্ধু, সহকর্মী আরিফুর রহমান বলেন, শোধিত সাংবাদিকতার প্রতিশ্রæতি অক্ষুন্ন রেখে, সুদীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে বরিশাল থেকে বহুল প্রচারিত, সরকারী মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত শীর্ষস্থানীয় দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল পত্রিকার বার্তা সম্পাদক তরুন সাংবাদিক প্রিন্স তালুকদার। কখনো ঘুমভাঙা মাঝরাতে মফস্বলের হত্যা, ডাকাতি কিংবা চুরির নিউজ প্রিন্সের সাথে কাভারেজ করেছি।

আবার কখনো সাত সকাল থেকে মাঝরাত অবধি সন্ধ্যা, সুগন্ধ্যা, আড়িয়াল খাঁ, জয়ন্তী নদীর তীর জনপদে ঘুরে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছি। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে আর মেধা প্রজ্ঞার দুরদর্শীতায় প্রিন্স আজ দক্ষিণবঙ্গের প্রবীণ প্রভাবশালী পত্রিকার শীর্ষ পদে কাজ করে।

ও আমার শৈশবের বন্ধু। ছেলেবেলা থেকেই ও চঞ্চল, উচ্ছল আর উদ্যোমী। ওর মোবাইলে সকাল থেকে বিকাল অবধি গোটা বিশেক, আর বিকাল থেকে মাঝরাত অবধি ওর টেলিফোন আর মোবাইলে ভিভিআইপি, ভিআইপি, স্টাফ রিপোর্টার, জেলা প্রতিনিধি, উপজেলা প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন জনের অর্ধশতাধিক কল রিসিভ করতে হয়।

স্বভাবসুলভ চপলতার উল্লাসে ও ঢের কথা বলে আড্ডার সবাইকে মাতিয়ে রাখতো। সা¤প্রতিক আড্ডার আসরগুলোতে ও আর ঢের গল্পকথা বলে না, ও বলবে কিভাবে? তবে ওর ধৈর্য অনেক বেড়েছে। ও আরো এগিয়ে যাক, ওর জন্য শুভকামনা আর ভালবাসা নিরন্তর।

তরুন সাংবাদিকতার এ মুকুটহীন স¤্রাট ইয়ুথ অব বরিশালের বেষ্ট জার্নালিষ্ট অব দ্য ইয়ার (ক্যাটাগরি – ইয়ুথ)সহ একাধিক সম্মাননা অর্জন করে দক্ষিণাঞ্চলের তরুন সাংবাদিকদের জন্য বয়ে এনেছেন উচ্ছল তারুণ্যের গৌরব।

তারুণ্যে ভরা সংবাদ কর্মী প্রিন্স তালুকদার বলেন, বাহান্ন’র একুশ ও একুশ শতকের আগামী। প্রথমটি চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশের জন্ম, অন্যটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ পুরোপুরি উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার গল্প শুনাতে চায় বিশ্বকে।

এই দুইকে ধারণ করে খবরের কাগজের যে আসল কাজ এ অঞ্চলের সময়ের চিত্র পাঠকের সামনে উপস্থিত করা, তাই করছি।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক সংবাদপত্র প্রকাশ সত্যি বড় চ্যালেঞ্জ। নানা প্রতিক‚লতার মুখোমুখি হতে হয় প্রতিদিন। আমরা পত্রিকাকে পদ্মার এপারে পাঠকের আত্মার-আত্মীয় করতে চাচ্ছি। বাড়তি কিছু নিয়ে পাঠকের সামনে নতুন কলেবরে হাজির হওয়ার প্রতিশ্রæতি দিচ্ছি। আমরা সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলতে পারছি।

মানুষের জন্য, দেশের জন্য, দখিনের জনপদে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে কাজ করছি। তুলে ধরছি এ অঞ্চলের সমস্যা ও সম্ভাবনার চিত্র।

দখিনাঞ্চলের মানুষের মুখপাত্র হিসেবে নানা প্রতিক‚লতার মাঝেও নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে পত্রিকাটি। সততাই আমাদের সাহস- এই শ্লোগান মাথায় নিয়েই অবিরাম পথ চলা।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে, সমাজের অসংগতি, অনিয়ম, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কলমে যুদ্ধ আমাদের নৈমিত্তিক। খবরের পেছনের খবর প্রকাশ করছি অবিরত।

বরিশাল থেকে প্রকাশিত প্রাচীন স্থানীয় দৈনিক সত্য সংবাদের বার্তা সম্পাদক এম আর শুভ বলেন, প্রিন্স সম্পর্কে বলতে গেলে- আমাদের কর্মক্ষেত্রে পরিচয়টা প্রায়৩/৪ বছর পূর্বে হয়েছিল, বরিশালে এক চায়ের আড্ডায়। কর্মক্ষেত্রে ওর মেধা, সততা, সাহসীকতা ও সংবাদের প্রতি ওর আকর্ষণ, প্রতিক্ষেত্রে বস্তনিষ্ঠ সংবাদ ও সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণপূর্বক পেশাদারিত্ব প্রদর্শনে বরাবরই সক্ষম হয়েছেন ও। যদিও কর্মক্ষেত্রে ও নানান বাধা বিপত্তি পেরিয়ে এসেছে, তথাপি ধৈর্য্য-সাহসীকতা ও তীক্ষœ জ্ঞানের আধীকারিত্বের ছাপ রেখে নিজ পেশাকে সর্বত্র ইতিবাচক স্থানে পৌছাতে সফল হয়েছে। পেশাদারিত্ব বজায়ে ও অন্যায়ের কাছে মাথানত করেনি। সংবাদ ও সাংবাদিকতায় বর্তমান তরুন প্রজন্ম এমনটাই হওয়া উচিত বলে আমি মনে করছি। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে ওর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।

বাংলাদেশ সম্পাদক ফোরাম, বরিশালের অর্থ সম্পাদক, জনপ্রিয় আঞ্চলিক দৈনিক আজকের তালাশ এর প্রকাশক ও সম্পাদক, মারুফ হোসেন লিখেছেন – তরুণদের হাত ধরে ‘দক্ষিণাঞ্চল’ এগিয়ে যাক বহুদূর; যখন একটি দৈনিক পত্রিকা তিন যুগেরও বেশি সময় পার করে, তখন মানবজীবনের রূপক টেনে এ কথা তো বলাই যায় যে, সে প্রাপ্তবয়স্ক হল। কিন্তু উৎসাহিত হয়ে এমন কথা বলা খুব ছেলেমানুষি হবে, কারণ দৈনিক পত্রিকা বা অন্যান্য পত্র-পত্রিকাকে প্রায় প্রথম থেকেই প্রাপ্তবয়স্কতা দেখাতে হয়।

তার পক্ষে হামাগুড়ি দেয়া শৈশব থেকে যৌবনে পৌঁছানোর এই সুযোগ থাকে না, পাঠকরা কোনো কাগজের অপরিণত অবস্থাকে ক্ষমা করে না। প্রথম থেকেই তাকে কোমর বেঁধে নামতে হয় । দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল যে এমন শুরু করতে পেরেছিল তার প্রমাণ তার ৩৭ বছরে পৌঁছে যাওয়া। বিভাগীয় শহর বরিশালের দৈনিক পত্রিকার ভিড়ে এই পত্রিকাটিকে প্রাচীন একটি পত্রিকা বলা যেতেই পারে।

সময় ১৯৮৪ সাল, তখন দখিনের এই জনপদে হাতে গোনা দৈনিক পত্রিকা পাওয়াই মুসকিল ছিলো। ওই সালের ২৮ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করে দক্ষিণাঞ্চল নামে এই পত্রিকাটি। প্রথম দিকে পত্রিকাটি কোনমতে এগিয়ে চললেও ৯০ দশক শেষ করে ২০০০ সালের পর থেকেই জাকজমক হয়ে উঠে দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল। তখন এক ঝাঁক প্রবীণ ও নবীণ গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে পথচলা শুরু হয়েছিলো এই পত্রিকাটির।

পত্রিকাটির তৎকালীন সম্পাদক প্রবীণ সাংবাদিক বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এস এম ইকবালের নেতৃত্ব ছিলো অতুলনীয়। পত্রিকাটি এখন ৩৮ বছরে পা রাখতে চলছে, তৎকালীন সেই পোড় খাওয়া বাঘা বাঘা সাংবাদিকরা এখন না থাকলেও পত্রিকাটির জাকজমক ও নাম-ডাক মোটেও কমেনি। বর্তমানে পত্রিকাটি পরিচালনা করছেন এক ঝাঁক তরুণ সংবাদকর্মীরা।

বার্তা বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন প্রিন্স তালুকদার নামে এক টগবগে যুবক। তার নেতৃত্বেই এখন এগিয়ে চলছে দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল। মাঝে মাঝে পাঠক পাঠিকারা পুরনো সেই দক্ষিণাঞ্চল পত্রিকাটি হাতে নিয়ে প্রশংসা করতে ভুল করেননা কারন পত্রিকাটির যৌবন এখনও শেষ হয়ে যায়নি। তরুণ এসব সংবাদকর্মীরা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে পত্রিকাটি এখনও টিকিয়ে রাখেন ঠিক আগের মতো করেই।

অন্যান্য দৈনিক পত্রিকার বার্তা সম্পাদকদের চেয়ে প্রিন্স বয়সে অনেক তরুণ হলেও পত্রিকাটিতে দক্ষতার সাথে পরিচালনা করে আসছে। দক্ষিণাঞ্চলের ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমি অগ্রিম শুভেচ্ছা জানাই। যাদের প্রয়াসে পত্রিকাটি বিশেষ উচ্চতায় পৌঁছেছে, তাদের অভিনন্দন জানাই।

আমি আশা করব, দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল পত্রিকার সম্পাদনা ও প্রকাশনার সঙ্গে যারা যুক্ত আছেন, পত্রিকাটির পাঠকপ্রিয়তা বৃদ্ধি করতে তারা আরও মনোযোগী হবেন। দৈনিক দক্ষিণাঞ্চলকে আমি আরও আকর্ষণীয়ভাবে দেখতে চাই।

চ্যানেল আই ও মানবজমিন পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার, সাহিত্য বাজার পত্রিকার সম্পাদক, বরিশালের কৃতি সন্তান সাংবাদিক আরিফ আহমেদ লিখেছেন, দৈনিক দক্ষিণাঞ্চলঃ নাম মুগ্ধ পাঠকের ভালোবাসা। দক্ষিণাঞ্চল! নামটির সাথেই মিশে আছে দক্ষিণ তথা বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলার নদনদী আর সাগর পাড়ের উপক‚লীয় ঘ্রাণ। আছে নারিকেল চিংড়ি, পেয়ারা আর আমড়ার স্বাদ।

দখিনের এই দুয়ারে আরো আছে খুলনা, সাতক্ষীরা আর সুন্দরবন। তাইতো বরিশালের মাটিতে পা রাখার দুদিন পর দৈনিক কীর্তনখোলা পত্রিকার সম্পাদক সালেহ টিটু জানালেন, এইতো পাশেই ক্লাব রোডে ঠিক বরিশাল ক্লাবের বিপরীতে দক্ষিণাঞ্চল পত্রিকার অফিস। দেরি না করে তখনই দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল পত্রিকাটি সম্পর্কে জানার জন্য ক্লাব রোডে হাজির হলাম পত্রিকা অফিসে। দখিনের মিডিয়ার বø্যাক ডায়মন্ড, মিষ্টি কালোজাম! যুবকের ঝকঝকে হাসি আমাকে স্বাগত জানালো অপ্রত্যাশিত বিনয়ের সাথে। প্রিন্স তালুকদার।

দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল পত্রিকার বার্তা সম্পাদক। নামটি চেনা চেনা। দৈনিক মানবজমিন। বলতেই জড়িয়ে ধরা আবেগাপ্লæত কিছুটা সময়। দৈনিক মানবজমিন এর বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি প্রিন্স তালুকদারকে জানাছিল মানবজমিন এর ষ্টাফ রিপোর্টার হবার সুবাধে। আন্তরিকতা নিয়েই জানালেন উপজেলা প্রতিনিধি থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদে গত আট বছর ধরে এ পত্রিকায় কর্মরত।

দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল পত্রিকার অন্যতম গুণ হচ্ছে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলার সংবাদ এখানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। প্রতিটি জেলা, উপজেলা, গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, ক্যাম্পাসে রয়েছে প্রতিবেদক। আর এই প্রতিবেদকদের সমন্বয়, তাদের সংবাদ যাচাই বাছাই সহ পত্রিকার যাবতীয় সংবাদ সংগ্রহ বিষয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন বার্তা সম্পাদক প্রিন্স তালুকদার ও যুগ্ম বার্তা সম্পাদক আরিফুর রহমান।

কম্পিউটার অপারেটিং ও বানান শুদ্ধতা যাচাইয়ের দায়িত্বে আছেন আরেক যুগ্ম বার্তা সম্পাদক হাফিজা মুক্তা। সবমিলিয়ে চমৎকার ঘরোয়া একটি পরিবেশ দৈনিক দক্ষিণাঞ্চলের কার্যালয়ে। পরিচ্ছন্ন মানুষগুলোর মতোই পরিষ্কার প্রতিটি কক্ষ। সম্পাদক এসএম ইকবাল এর সাথে আলাপ হয়নি।

কেননা অসুস্থ তিনি। ঘরে বসেই প্রিন্স তালুকদার ও আরিফুর রহমান এর মাধ্যমে পত্রিকার সম্পাদনা ও নিয়মিত প্রকাশনা অব্যাহত রেখেছেন সংকট মুহূর্তেও। সুনামের সাথে দক্ষিণাঞ্চলের এই পথচলা অটুট থাকুক। নামমুগ্ধ পাঠক হিসেবে এটাই একান্ত চাওয়া আমার।

১৯৬৭ এর কখনও ঘোর আঁধার, দুর্বৃত্ত রাজ, সেন্সরের কাঁচি। কখনও দুর্বার আন্দোলনের ঢেউয়ের মাথায়, কখনও নতুন জীবন গড়তে থাকা মানুষের হাতে, মেহনতীর জীবনের স্পন্দন প্রতি দিন প্রতি রাত। এভাবে পঞ্চাশ ছুঁয়ে আরো তারুণ্যেই টগবগে, কলকাতা থেকে প্রকাশিত গণশক্তি পত্রিকায় বরিশাল থেকে লেখা পাঠানো আবদুল মালেক তালুকদারের একমাত্র পুত্র প্রিন্স তালুকদার ও দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল সম্পর্কে বিশ্বজয়ী অন্যতম শীর্ষ গনমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার উপ সম্পাদক সৌম্য গঙ্গোপ্যাদায় বলেন, আমার জন্ম কলকাতায়। স্বভাবসুলভ চপলতায় বাবা বরিশালের খোজখবর নিতেন।

কাকতালীওভাবে আমারও বরিশালের প্রতি অজানা ভালোবাসা জন্মেছে অনেক আগে থেকেই। গনমাধ্যমে কাজ করার সুবাধে বরিশালের স্থানীয় গনমাধ্যমের খোজখবর নিতাম । বাবার মুখে শুনেছি বরিশালের অন্যতম জনপ্রিয় প্রভাবশালী স্থানীয় পত্রিকা নৈনিক দক্ষিণাঞ্চল। প্রায় চার দশক পত্রিকাটির পথচলা।

বরিশালের প্রতিষ্ঠিত সুনামধন্য গনমাধ্যম ব্যক্তিরা এই পত্রিকায় কাজ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকের কল্যানে বছর তিনেক আগে বরিশালের এক তরুণ সাংবাদিক, প্রিন্স তালুকদারের সাথে পরিচয়।

ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় ও দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল পত্রিকায় মফস্বল সম্পাদকের কাজ করে। বেশ পরিপাটি লেখনী, আমি মাঝরাতে মনোযোগ দিয়ে পড়ি।

কয়েকদিন আগে জানলাম, তরুণ সাংবাদিক প্রিন্স তালুকদার দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল পত্রিকায় শীর্ষ পদে বার্তা সম্পাদকের কাজ করছে। তরুণ সাংবাদিকের তারুণ্যের উচ্ছাচ্ছে দীপ্ত হোক দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল। শুভকামনা করি সারাক্ষন।

তরুন সাংবাদিক প্রিন্স তালুকদার আর বরিশালের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল পত্রিকা সম্পর্কে দখিনের সাংবাদিকতা জগতের প্রবাদ প্রতিম পুরুষ, গণমুখী আর বিশুদ্ধ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ ব্যক্তিত্ব, সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট আলম রায়হান বলেন, শিল্প-সংস্কৃতি-সাংবাদিকতার ঐতিহ্যের ধারক বরিশাল।

এই ঐতিহ্যের ধারাকে ধারণ করে প্রকাশিক দৈনিক দক্ষিনাঞ্চল ৩৭ বছর পেরিয়ে ৩৮ বছরের পদার্পণ করতে যাচ্ছে। এ এক আনন্দ সংবাদ। এই বিশেষ দিন উপলক্ষে আমি পত্রিকাটির সার্বিক মঙ্গল কামনা করি। এতো দীর্ঘ সময় ধরে একটি পত্রিকা প্রকাশিত হওয়া বিশেষ এক সাফল্যের বিষয়।

এই সাফল্য অর্জণকারী দৈনিক দক্ষিণাঞ্চলের ৩৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে বরিশালের সংবাদপত্রের ইতিহাসে প্রায় চার দশকের পথ চলা মোটেই সাধারণ কোন বিষয় নয়। এই অসাধান সাফল্যের ভিত্তি হচ্ছে মালিক পক্ষ, কর্মরত জনশক্তি এবং সম্মানিত পাঠকবৃন্দ।

সকলের সঠিক সমন্বয় ঘটেছে বলেই দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল আজকের সফল অবস্থানে পৌছাতে পেরেছে। পত্রিকাটির অধিকতর সাফল্য কামনা করি। বিশেষ করে ধন্যবাদ জানাই তরুণ বার্তা সম্পাদক প্রিন্স তালুকদারের নেতৃত্বে নিবেদিত প্রাণ দক্ষিণাঞ্চলের টিমকে।