• ২৭শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ২রা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

ঢাক কাঁসারঘন্টা উলুধ্বনিতে চন্ডীপাঠে মহাসপ্তমী পূজা

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত অক্টোবর ২, ২০২২, ১৮:১২ অপরাহ্ণ
ঢাক কাঁসারঘন্টা উলুধ্বনিতে চন্ডীপাঠে মহাসপ্তমী পূজা

স্বপন কুমার ঢালী, বেতাগী ॥ মন্ডপে ঢাক আর কাঁশর ঘন্টা বেজে উঠছে। দলে দলে নানা সাজে সজ্জিত হয়ে ছুটে আসছে নারীরা মহসপ্তমী পূজায় । উলুধ্বনি আর শঙ্খধ্বনিত হচ্ছে। গতকাল শনিবার দেবীর বোধন ও ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। তিথি অনুযায়ী আজ রবিবার মহাসপ্তমী পূজা। দেবী দুর্গার আগমনে উচ্ছ্বসিত ভক্তকুল।

নবযুগ পঞ্জিকার বর্ণনানুযায়ী, এবছর ২ অক্টোবর মহাসপ্তমীতে দেবী দুর্গা গজে মর্তে আগমন করবে এবং ৫ অক্টোবর দশমী তিথি নৌকায় কৈলাসে গমন করবে। সেই সাথে পৃথিবীতে শষ্য ও সমৃদ্ধিতে পরিপূর্ণতায় ভরে উঠবে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পঞ্জিকা মতে, গতকাল শনিবার ১ অক্টোবর থেকে ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে দুর্গাপূজা শুভারম্ভ হয়েছে। যথাক্রমে ২ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ৩ অক্টোবর মহাঅষ্টমী, ৪ অক্টোবর মহানবমী ও ৫ অক্টোবর দশমীর দিনে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এবারের শারদীয় উৎসব সম্পন্ন হবে।

জানা গেছে, গত ২ বছর মহামারি করোনার কারণে নিয়মরক্ষার পূজা উদযাপিত হয়েছে। এবছর ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে উদযাপিত এ তথ্য জানান উপজেলা আয়োজকদের পক্ষে পূজা উদযাপন পরিষদ।

 

বেতাগী উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পরেশ চন্দ্র কর্মকার মুঠোফোনে বলেন, এবছর বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় শারদীয় দুর্গা পূজা হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবার ৪টি পূজা মন্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ।

সনাতনীদের (হিন্দু) শাস্ত্র মতে, ব্রহ্মার বর অনুযায়ী কোনো মহিষাসুরকে একমাত্র নারী শক্তির দ্বারা সম্ভব ছিল বধ করা। কোনো মানুষ বা দেবতা দ্বারা তাকে বধ করা সম্ভব ছিল না।

তাই ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব শক্তি দ্বারা সৃষ্ট নারীশক্তি সিংহবাহিনী মা দুর্গা মহিষাসুরকে পরাজিত করে হত্যা করেন। মহালয়ার দিনে দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধের দায়িত্ব পান। আর এভাবেই মহালয়ার দিনে দেবী দুর্গার আগমন ঘটে মর্ত্যলোকে। গত ২৫ অক্টোবর রবিবার মহালয়ার মধ্যে দিয়ে দূর্গা পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।

হিন্দু সম্প্রদায়ের পুরান শাস্ত্রে বিশ্বাস, রাজা সুরথ প্রথম দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেন। বসন্তকালে তিনি এই পূজা আয়োজন করেছিলেন বলে এ পূজাকে বাসন্তী পূজা বলা হয়।.

কিন্তু রাজা রাবণের হাত থেকে স্ত্রী সীতাকে উদ্ধারের জন্য রাজা দশরথের পুত্র রামচন্দ্র শরৎকালে দুর্গাপূজার আয়োজন করেছিলেন। তাই শরৎকালের এই পূজাকে অকাল বোধনও বলা হয়। বাঙালি হিন্দুদের হৃদয়ে শরৎকালের দুর্গার অধিষ্ঠান কন্যারূপে। প্রতিবছর বিভিন্ন বাহনে সপরিবারে শ্বশুরবাড়ি কৈলাস থেকে কন্যারূপে দেবী মর্ত্যলোকে আসেন বাপের বাড়ি বেড়াতে।

বেতাগী উপজেলার ১ টি পৌরসভাসহ ৭টি ইউনিয়নে ৩৭ টি পূজা মন্ডপে এ বছর দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবছর বেতাগী উপজেলায় ৪ টি বেশি পূজা মন্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুর্গা পূজা।

 

বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহআলম হাওলাদার বলেন, দূর্গা পূজা উপলক্ষে পূজামন্ডপগুলোতে সর্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন থাকবে ও কঠোর নিরাপত্তা বিদ্যমান থাকবে।