• ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৬শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

ঝালকাঠি/ জাহাজে বিস্ফোরণ: নিহতদের পরিবার পাবে ৫ লাখ টাকা

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত নভেম্বর ১৮, ২০২১, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ
ঝালকাঠি/ জাহাজে বিস্ফোরণ: নিহতদের পরিবার পাবে ৫ লাখ টাকা

বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল: ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ সাগর নন্দিনী ৩-এ বিস্ফোরণে আগুন লেগে গেলে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করতে পারেননি শ্রমিকরা। ফলে ইঞ্জিন ও পাম্পকক্ষে দগ্ধ ৮ জনের মধ্যে ৬ জনেরই মৃত্যু হয়।

বিস্ফোরণের পরে জাহাজটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভেতরের বিদ্যুতের সংযোগ ও ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। জাহাজের ভেতর থেকে গতকাল বুধবার সকালে ৯ লাখ ২৩ হাজার লিটার ডিজেল খালাস করা হয়।

একই মালিকের সাগর নন্দিনী ২ নামে আরেকটি জাহাজ এসে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ থেকে ডিজেল নামিয়ে নেয়। ওই জাহাজ থেকে ঝালকাঠির পদ্মা ডিপোতে ডিজেল খালাস করা হয়।

এদিকে, দুর্ঘটনায় মৃত শ্রমিকদের প্রত্যেক পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাহাজের মালিক শেখ হাফিজুর রহমান। দগ্ধ অবস্থায় তাদের ঢাকায় নেওয়া ও চিকিৎসার ব্যয়ও তিনি বহন করেছেন বলে জানিয়েছেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক।

গত ১২ নভেম্বর সকালে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর পোনাবালিয়া খেয়াঘাট এলাকায় নোঙর করে রাখা ‘সাগর নন্দিনী ৩’ নামের একটি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণের পর আগুন লাগে।

এতে ঘটনাস্থলেই জাহাজের সুকানি কামরুল ইসলামের মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আরো ৫ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে এ ঘটনায় ৬ জনের মৃত্যু হলো।

বার্ন ইউনিট সূত্র জানিয়েছে, জাহাজে বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে মোট ৭ জন হাসপাতালে এসেছিলেন। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের মধ্যে ইমাম উদ্দিন ও রুবেল নামের দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঝালকাঠির পদ্মা অয়েল কম্পানির ডিপো সূত্র জানায়, ১০ নভেম্বর সাগর নন্দিনী ৩ জাহাজটি ঝালকাঠির ডিপোতে জ্বালানি তেল খালাসের জন্য আসে। জাহাতে ১৫ লাখ লিটার পেট্রল, অকটেন ও ডিজেল ছিল।

১২ নভেম্বর সকালে ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দিলে ৮ শ্রমিক তা মেরামতের কাজ শুরু করেন। এ সময় বিস্ফোরণ ঘটলে ইঞ্জিন ও পাম্পকক্ষে আগুন লেগে যায়।

শ্রমিকরা কেউ সেখান থেকে বের হতে পারেননি। আগুন ও ধোয়ার কারণে তারা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র (ছোট সিলিন্ডার) ব্যবহার করতে পারেনি। জাহাজের ওপরে ছিলেন ৫ জন শ্রমিক। তাদের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঝালকাঠি ও বরিশাল থেকে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এসে ইঞ্জিন ও পাম্পকক্ষ থেকে শ্রমিকদের উদ্ধার করে।

ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার শফিকুল ইসলাম বলেন, যে দুটি কক্ষে আগুন লেগেছে, সেখানে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিল। ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা ভেতরে ঢুকে শ্রমিকদের উদ্ধার করেন।

কয়েকজন শ্রমিক সেখানেই অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন ঘটনার সময়ই মারা যান। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলো আমরা পরীক্ষ করেছি, সবগুলোরই মেয়াদ ছিল। কিন্তু কেউ তা ব্যবহার করার আগেই দগ্ধ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

এসএসইচআর নেভিগেশন কম্পানির নির্বাহী পরিচালক মাহাতাবুর রহমান স্বপন বলেন, বিস্ফোরণের সময়ই শ্রমিকরা দগ্ধ হন। ফলে তারা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করতে পারেননি।

আমাদের জাহাজে যারা ছিলেন, তারা প্রত্যেকেই অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করতে পারেন। জাহাজে ৭টি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ছিল। সবগুলোরই মেয়াদ আছে। অসাবধানতাবশত এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

ঝালকাঠির পদ্মা অয়েল কম্পানির ডিপো সুপারিনটেন্ডেন্ট মো. আখের আলী বলেন, আমরা দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করেছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জাহাজের মালিককে জানানো হয়েছে।

তিনি শ্রমিকদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাদের পরিবারে কেউ যোগ্য ব্যক্তি থাকলে তাদের জাহাজে চাকরি দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটি বর্তমানে ঝালকাঠিতে আছে। জাহাজটিতে বিদ্যুত লাইন ও ইঞ্জিনে ত্রুটি রয়েছে।

সাগর নন্দিনী ২ জাহাজের সুপারভাইজার বেল্লাল হোসেন বলেন, জাহাজ থেকে সব ডিজেল খালাস করা হয়েছে। এখন আমরা ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা করেছি। দুর্ঘটনার শিকার জাহাজটি মেরামতের পরে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হবে।

ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী বলেন, আমি নিজেই জাহাজের মালিকের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে দ্রুত সহায়তার কথা বলেছেন। আমরা এ ব্যাপারে সার্বিক খোঁজখবর রাখছি।