• ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ , ১০ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

খাল আছে পানি নেই

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৪, ২২:৫০ অপরাহ্ণ
খাল আছে পানি নেই

লিপিকা মন্ডল অর্পিতা, বেতাগী (বরগুনা): শীতের মৌসুমে উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগীতে খালগুলো শুকিয়ে গেছে। বেশির ভাগ খালে পানি নেই। কিছু কিছু খালে পানি থাকলেও শীতের সময় তা তলানিতে থাকে। এই উপজেলার ছোট-বড় ৪০টি খালের মধ্যে শুকনা মৌসুমে (অগ্রহায়ণ থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত) ২৭টি খাল শুকিয়ে যায়।এসব শুকনা খালের সঙ্গে সম্পৃক্ত কৃষক ও জেলে পরিবারগুলো এই মৌসুমে বিপাকে থাকে। উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে তথ্যানুসারে জানা গেছে, একটি পৌরসভাসহ সাতটি ইউনিয়ন ও দেড় লক্ষাধিক জনসংখ্যার এই উপজেলায় ছোট-বড় ৪০টি খাল, সাতটি বিল, প্লাবনভূমি ১৪টি, ১১ হাজার ৬২৩টি পুকুর ও একটি নদী রয়েছে।

উপজেলার ৪০টি খালের মধ্যে বিবিচিনি ইউনিয়নের কারিকরপাড়া খাল, গড়িয়াবুনিয়া খাল, নাপিতখালী খাল, নোমোর খাল, সিদ্ধান্তের খাল, সদর ইউনিয়নের কবিরাজের খাল, বাসণ্ডা খাল, বেড়েরধন খাল, লক্ষ্মীপুরা খাল, হোসনাবাদের উত্তর কাটাখালী, ধনমানিক চত্রা, জলিসা, তালবাড়ী খাল, মোকামিয়া খাল, কাজিরাবাদ খাল, ভোড়া কালিকাবাড়ী খাল উল্লেখযোগ্য।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বেতাগী উপজেলার ৪০টি খালের মধ্যে ২৭টি খাল শীতের মৌসুমে (অগ্রহায়ণ থেকে চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত) পানিশূন্য থাকে।

এসব খালের সঙ্গে সম্পৃক্ত এলাকার ৫০ হাজারের বেশি মানুষের দুর্ভোগে দিন কাটছে। বেশি দুর্ভোগে থাকে কৃষক ও জেলে পরিবারগুলো। স্থানীয় জেলে পরিবারগুলো জীবিকা নির্বাহে এ সময় অন্য পেশায় জড়িত হচ্ছে।

বেতাগী সদর ইউনিয়নের ঝোপখালী গ্রামের বাসিন্দা জেলে মোশারেফ হোসেন বলেন, ‘এবার আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে।

কোনো খাল-বিল, এমনকি বেড়েরধন নদীতে পর্যন্ত পানি নেই। এই বেড়েরধন নদীতে ১৫ বছর আগেও লঞ্চ চলাচল করত, কিন্তু পলি জমে ভরাট হওয়ায় এখন ভাটির সময় নৌকা চলাচল করতে পারে না। মাছ ধরতে পারছি না, বেকার দিন কাটাচ্ছি।’

একই এলাকার জেলে লিটন হাওলাদার (৩৫) জানান, খালে পানি নেই, এ অবস্থায় জেলে পরিবারের সদস্যরা অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। খাল-বিলে মাছ না পেয়ে শীতের মৌসুমে সবজি ও শিশুদের খেলনা ফেরি করে সংসার চালাচ্ছেন জেলে পৌর শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভব রঞ্জন ঢালী।

তিনি বলেন, ‘ছোটখাটো খাল ও নদীতে পানি নেই, মাছও নেই। তাই এ সময় শিশুদের খেলনা ফেরি করে কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছি।’মোকামিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের করুণা গ্রামের বাসিন্দা রুস্তুম আলী সিকদার বলেন, ‘করুণা গ্রামের তালবাড়ী খালে একসময় প্রচুর মাছ ধরতেন জেলেরা, এখন পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। এ ছাড়া গ্রামের মানুষ পানির অভাবে শীতকালীন শাক-সবজি ভালোভাবে চাষ করতে পারছে না।’

বেতাগী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সমাপ্তি সাহা বলেন, মাছ ধরা নিষিদ্ধের সময় উপজেলার তিন হাজার ৩০০ জনকে সহায়তার চাল দেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মসূচির আওতায় এরই মধ্যে ১০টি খালের খননকাজ শুরু করা হয়েছে। বাকি খালগুলো তালিকা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পেলে পর্যায়ক্রমে খালগুলো খনন করা হবে।