এবারের ঈদে কর্মব্যাস্ততা নেই বরিশালের কামারপল্লীতে

এইচ আর হীরা ॥ আর মাত্র কয়েকদিন পরেই মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা পালিত হবে।ঈদের ১০ দিন আগেও কামার পাড়ায় কোরবানির আনুসঙ্গিক হাতিয়ার দা, বটি, ছুরি, চাপাতিসহ ধারালো জিনিস তৈরির অর্ডার আসছে না। মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে দিশেহারা বরিশালের মানুষ।প্রতি বছর কোরবানীর ঈদ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে তাদের কাজের ব্যস্থতা বাড়লেও বরিশালের কামারপল্লীতে নেই তেমন ব্যাস্ততা।বিশ্ব জুড়ে মহামারী করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে থমকে আছে দেশ।

 

সামান্য কিছু নতুন চাপাতি, ছুরি তৈরির থেকে বেশিরিভাগ পুরনো অস্ত্রে শান দেওয়ার কাজ চলছে নগরীর কামারপল্লী গুলোতে।বরিশাল নগরের হাটখোলা, নতুনবাজার, বাংলাবজার, নথুল্লাবাদ, চাঁদমারী,পলাশপুর বৌ-বাজার, বেলতলা, তালতলী বাজার, সদর উপজেলার চরকাউয়া, সাহেবেরহাট, লাহারহাট, কাশিপুর বাজার, কড়াপুর বৌসের হাটসহ ছোট-বড় সব হাটের কামাররাদের মানবেতার জীবনযাপন করছে। বরিশাল নগরীর বাজার রোড এলাকার কামার,শিবু কর্মকার বলেন,‘প্রতি বছর ঈদের এ সময় ভোর থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত কাজ করতাম।তবে এবারের এবছর করোনার কারনে কাজের চাপ অনেক কম।

 

 

প্রতিদিন ঠিকমতো একটা নতুন কাজের অর্ডার পাওয়াই কস্টকর।যারা আসেন তারাও আবার পুরোনো দা,বটি,চাকু, চাপাতিতে শান দিতে আসেন এজন্য বর্তমানে খুবই সমস্যার মধ্যে দিন পার করছি।পলাশপুর বৌ-বাজারের আমল কর্মকার বলেন,আগে খুব সকালে দোকানে আসতাম আর বাড়ি যেতাম গভীর রাতে। এখন তারাতারি কাজ শেষ করে বাসায় চলে যাই। গড়ে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০টি কাজ করে হাজার দেড়েক টাকা আয় হচ্ছে ২/৩ দিন ধরে।ঈদ উপলক্ষে তেমন অর্ডার না থাকায় কারিগররা অনেকেই এ কাজ ছেড়ে চলে গেছেন।কাশিপুরের কামারী কাঞ্চন আলী খাঁ বলেন,প্রতিবছর আমাদের কামারপল্লীতে প্রায় ১হাজারের উপর শুধু নতুন চাপাতি বানানোর অর্ডার পেতাম কিন্তু বছর এখনো পুরো কামার পল্লীতে ৫০টি অর্ডারও আসেনি।তিনি আরো বলেন, একটি বড় দা পাঁচ কেজির লোহা দিয়ে তৈরি করে মজুরিসহ ৮০০ টাকা, এক কেজি ওজনের কুড়াল ৩ শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ টাকা, চাপাতি প্রকার ভেদে ৪৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা, বিভিন্ন আকারের ছোরা ৩৫০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকা করে নিচ্ছেন তারা।

 

 

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, অন্য সময়ের চেয়ে এখন চাপাতি, চাকু, ছুরির দাম বেশি রাখা হচ্ছে।পুরনো দুইটি দা, একটি বটি ও একটি ছুরিতে শান দেয়ার জন্য ৩৫০ টাকা নিচ্ছেন। অন্য সময় মজুরি ছিল ১৫০ টাকা। আর নতুন একটি ছোরা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বিভিন্ন সাইজের চাকু ৫০ থেকে ১০০ টাকা, বটি ২০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করছেন।হাটখোলার নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘সারাবছরই আমাদের তৈরি জিনিসের কমবেশি চাহিদা থাকে। তবে ঈদে পশু কোরবানীর জন্য নতুন ছুরি, চাপাতি, চাক্কুর কদর প্রতি বছরই বেড়ে যায়।

 

কিন্তু এবছর করোনার কারনে তাই চাহিদার কম।বর্তমানে কয়লার দাম অতিরিক্ত বৃদ্ধি হওয়ায় আগের থেকে একটু দাম বাড়ানো হয়েছে.৪শ টাকার ২হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে এবং ১শ টাকার কয়লা ৬শ টাকায় কেনার কারনেই দাম বৃদ্ধি হয়েছে বলে জানান তিনি।