• ৮ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২৩শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২৩শে রজব, ১৪৪২ হিজরি

একুশের প্রথম প্রহরে ফুল দিতে পারেনি বেতাগী উপজেলা প্রশাসন

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২১, ১৮:৩৬ অপরাহ্ণ
একুশের প্রথম প্রহরে ফুল দিতে পারেনি বেতাগী উপজেলা প্রশাসন

বেতাগী প্রতিনিধি ॥ একুশের প্রথম প্রহরে শহীদের পাদদেশে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে পারেনি বরগুনার বেতাগী উপজেলা প্রশাসন। পুষ্পস্তবক যথা সময় না পৌছানোর কারণে বিলম্বেও কারণ জানা যায়।

এতে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করতে আসা উপস্থিত জনতার মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

জানা গেছে, সরকারি বিধিমোতাবেক করনোর কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতি বছরের ন্যায় একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২ টা ১ মিনিটে উপজেলা প্রশাসন এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সরকারি -বেসরকারি প্রতিষ্ঠিানসমূহ পুষ্পস্তবক অর্পণ করার কথা।

উপজেলা প্রশাসন একুশে ফেব্রুয়ারি ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনে একটি প্রস্তুতি সভা করেন।

এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের পুষ্পস্তবকের ডালা তৈরি করেন। কিন্তু এ বছর উপজেলা প্রশাসনের সকল তৈরিকৃত পুষ্পস্তবকের ডালা জেলা সদর বরগুনা থেকে আসতে আসতে রাত ১২ টার সময়ও পৌছায়নি।

এ সময় উপস্থিত জনতার মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং নাম না প্রকাশের শর্তে একাধিক ব্যক্তি ক্ষোভ করে বলেন, উপজেলা প্রশাসনের এ দিবস পালনের এ বছরের সবচেয়ে ব্যর্থতা ও গাফিলতির কারনে এ অবস্থা হয়েছে।

পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়িতে করে ওই পুষ্পস্তবকের ডালাগুলো নিয়ে আসে শহীদ মিনারের কাছে।

পুষ্পস্তবকের ডালা সময় না আসার কারণে ১২ টা ১৯ মিনিটে উপজেলা প্রশাসন এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি সংগঠনগুলো পুস্পস্তবক অর্পন করেন। যা প্রতিবেদকের টাইম ক্যামেরায় ছবিসহ ও ভিডিও সংরক্ষিত রয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন খান বলেন, বেতাগী উপজেলা প্রশাসনের গাড়ি থাকতেও ব্যাটারী চালিত অটো বাইকে রাত ১০টার পর ফুল নিয়ে আসার জন্য পাঠনো হয় যা রাত ১২টা ১৬ মিনটে শহিদ মিনার চত্ত্বরে পৌছায় এটি জাতির কাছে বেশ লজ্জাজনক ব্যাপার ’। তাছাড়াও যখন ফুল অর্পন করেছে ছিলোনা কোন সামাজিক দূরত্ব কিংবা শৃঙ্খলা।

নাম না প্রকাশের শর্তে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আর্ন্তজাাতিক মাতৃভাষা দিবসের মতো একটি গুরুত্বপূণ দিবস পালনে বেতাগী উপজেলা প্রশাসনের এমন দায়িত্ব অবহেলা সত্যিই লজ্জাজনক। যাদের জন্য মাতৃভাষা পেয়েছি তাদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকলে এমন দায়িত্বহীন কাজ কেউ করতে পারেননি।’

বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুহৃদ সালেহীন এর কাছে এ বিষয় জানতে, রাতে একাধিক বার ফোন করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়, পরের দিন ফোনে সংযোগ পেলে ‘পরে কথা হবে, এই বলে হাস্যকর অবস্থায় ফোনটি রেখে দেন’।

তবে এ বিষয় বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান বলেন,‘ বেতাগী উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্ব অবহেলার যে বিষয়টি শুনেছি এর সঠিক কারন ও ব্যাখা জানতে চাইবো এবং কারণ দর্শানো যথাযথ না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।