সংবাদ শিরোনাম
 বরিশালে বিআরটিএ’র সেবা সপ্তাহের উদ্বোধন  বরিশালে র‌্যাবের অভিযানে মাদক বিক্রেতা গ্রেফতার  বরিশালে পুলিশ সদস্যসহ নতুন শনাক্ত ১১  মোটরসাইকেলে চেপেই সোনা মসজিদ, তাহখানা এবং উত্তরাঞ্চলের সীমান্ত ভ্রমণ   মেহেন্দিগঞ্জে সর্বজনীন দুর্গা মন্দিরের উদ্যোগে সাংসদ পংকজ নাথ’র আশু রোগমুক্তি কামনায় প্রার্থনা  লালমোহনে বন্ধু’কে নিয়ে মাকে খুন, ২০ বছর পর গ্রেফতার  বরিশালে লাভ ফর ফ্রেন্ডসের উদ্দ্যেগে হাতেম আলী কলেজে বৃক্ষরোপন রোপন কর্মসূচী সম্পন্ন  রাজাপুরে ছাত্রদলের ৬ জনের পদত্যাগ  রাজাপুরে ইজিবাইক চুরি, মালিকের দায়িত্বে খুঁজে পেলে উদ্ধার করবে পুলিশ !  বরিশাল জেলা প্রশাসকের সাথে সম্পাদক পরিষদের সৌজন্য সাক্ষাত
  • বরিশাল |২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

একাদশ শ্রেনীর পাঠ্যবই নিয়ে শংকায় শিক্ষার্থীরা

৯:৪৫ অপরাহ্ণ | আগস্ট ১৮, ২০২০ বাংলাদেশ, বিশেষ সংবাদ, শিক্ষা, শিরোনাম

এম.কে. রানা ॥ বৈশ্বিক মহামারী করোনায় বন্ধ রয়েছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই দেশে করোনা পরিস্থিতির কারণে ফলাফল দেরীতে প্রকাশিত হয়েছে। গত ৯ আগস্ট থেকে একাদশ শ্রেনীর ভর্তি কার্যক্রম শুরু হলেও কবে নাগাদ ক্লাশ শুরু হবে সে সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। অপরদিকে বোর্ড নির্ধারিত বাংলা, ইংরেজি, বাংলা সহপাঠ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের বই এখনো বাজারজাত করা হয়নি। জানা গেছে, এই বইগুলোর ব্যাপারে এখনো টেন্ডার প্রক্রিয়াই সম্পন্ন করেনি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ফলে একাদশ শ্রেনীতে ভর্তি সম্পন্ন হলেও পাঠ্যবই পাওয়া না পাওয়ার শংকা থেকে যায়। তবে এনসিটিবি’র চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ন চন্দ্র সাহা জানিয়েছেন, করোনার কারণে ফলাফল দেরীতে ঘোষণা হওয়ায় কত সংখ্যক শিক্ষার্থী পাশ করবে তা জানতেই টেন্ডার ঘোষণা করা হয়নি। তাছাড়া যথাসময়ে বইগুলো বাজারে আসবে বলেও জানান তিনি। এদিকে প্রকাশনা কোম্পানীগুলো গত ২০১৯ সালে ছাপানো বইয়ের মুদ্রণ তারিখ পরিবর্তন করে সেগুলো ২০২০ সালে বাজারজাত করছে।

করোনায় স্থবির হয়ে পড়েছে গোটা বিশ্ব। জীবন-জীবিকার তাগিদে অর্থনৈতিক কর্মকা- শুরু হলেও দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো স্থবির। দেশের সকল স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা বন্ধ রয়েছে। চলতি বছর এসএসসি/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে প্রায় ১৭ লাখ শিক্ষার্থী। বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারণে তাদের ভর্তি কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা গেলেও চলতি মাসের ৯ তারিখ থেকে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হলেও কবে নাগাদ ক্লাশ চালু হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের বোর্ড নির্ধারিত জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)’র বই এখনো বাজারজাত করা হয়নি। এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের বোর্ড নির্ধারিত বইয়ের টেন্ডার প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। ফলে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও বোর্ড নির্ধারিত বইগুলো কবে নাগাদ পাওয়া যাবে তা নিয়ে সন্দিহান শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। শিক্ষার্থীরা অনেকটা পিছিয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। কেননা দীর্ঘ ৫ মাস যাবৎ শিক্ষার্থীরা শ্রেনীকক্ষের বাইরে রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত চিন্তা করে সরকার সংসদ টিভির মাধ্যমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বিষয়গুলো অনলাইনে ক্লাশের ব্যবস্থা করেছে। এছাড়া কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনলাইন ক্লাশ চালু করেছে। তবে অনলাইন ক্লাশের ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতা, দ্রুত গতির ইন্টারনেট সুবিধা এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক পাঠদান কতটা ফলপ্রসূ হচ্ছে তা এখনই বলা যাচ্ছেনা। তবে অনলাইন ক্লাশ করছে এমন এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পড়ার টেবিলে বসতে চায় না সন্তানরা। তাই সন্তানকে কিছুটা ব্যস্ত রাখার জন্য অনলাইন ক্লাশ করাচ্ছেন। এছাড়া ৩য় কিংবা ৪র্থ শ্রেনীর ইংরেজীর অনলাইন ক্লাশের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, শিক্ষক শুরুতে কমপক্ষে ৫ মিনিট ইংরেজীতে উপস্থাপন করছেন। পরবর্তীতে অবশ্য বাংলা ও ইংরেজী মিলিয়ে উপস্থাপন করেছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের দেশের বাংলা মাধ্যমের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেনীই নয়, নবম-দশম শ্রেনীর শিক্ষার্থীরাও ইংরেজীতে ততোটা পারদর্শী নয়। সেক্ষেত্রে পাঠদান কৌশল পরিবর্তনের উপর গুরুত্বারোপ করছেন সচেতন মহল।

একাদশ শ্রেনীর এনসিটিবি’র বইয়ের ব্যাপারে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড চেয়ারম্যান নারায়ন চন্দ্র সাহা মুঠোফোনে জানিয়েছেন, করোনার কারণে এ বছর এসএসসি ফলাফল দিতে দেরী হয়েছে। কতজন শিক্ষার্থী পাস করে তার উপর নির্ভর করেই বই ছাপানোর টেন্ডার ঘোষণা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী আগামী ২৩ আগস্ট টেন্ডার ঘোষণা করা হবে। একাদশ শ্রেনীর ২টি বইয়ে (বাংলা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পরিবর্তন আসবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা ছাপানোর অনুমতি পাবেন তারা দ্রুতই বইগুলো বাজারজাতকরণ করবে। যা একাদশ শ্রেনীর ক্লাশ শুরু হওয়ার পূর্বেই বাজারে পাওয়া যাবে। ফলে শিক্ষার্থী বা অভিভাবকদের হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই বলেন তিনি।

এদিকে করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের একটি বড় সময় অপচয় হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সিলেবাস শেষ করা হয়নি। ফলে স্কুলের সমাপনী পরীক্ষাসহ অন্যান্য কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাও পিছিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা নিয়েও চিন্তিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তবে ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দীর্ঘ ৯ মাস শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর স্বাধীন দেশের দায়িত্ব নিয়েই ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’র সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ১৯৭১ সালে মার্চ মাসে যে শিক্ষার্থী যে শ্রেনীতে ছিল ১৯৭২ সালের শুরুতে সেই শিক্ষাবর্ষেই পড়বে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চাকরিতে বয়সসীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।