• ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৬শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

উজিরপুরে বিক্রির উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমান জাল উদ্ধার

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত অক্টোবর ১৬, ২০২১, ১৭:৩৫ অপরাহ্ণ
উজিরপুরে বিক্রির উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমান জাল উদ্ধার

উজিরপুর প্রতিনিধি : বরিশালের উজিরপুরে মৎস্য অভিযানের ট্রলার থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে রাখা বিপুল পরিমান জাল উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা।

ট্রলার চালক দুষছেন ইউএনও অফিসের স্টাফকে আর ইউএনও অফিসের স্টাফ দুষছেন মৎস্য অফিসকে। এ ঘটনায় উপজেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

১৬ অক্টোবর শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় পৌরসভাধীন সিকদার পাড়া খেয়াঘাটে উপজেলা মৎস্য অফিসের অভিযানে ব্যবহৃত ভাড়ার ট্রলার থেকে স্থানীয়রা প্রায় ১৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল উদ্ধার করে। এ সময় একে একে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে শুরু করে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শিমুল রানী পাল এর বিরুদ্ধে রয়েছে ব্যাপক অভিযোগ। স্থানীয়রা জানান, ৪ অক্টোবর থেকে ২২ দিন ব্যাপী মা ইলিশ রক্ষা অভিযান শুরু হয়।

প্রথম দিন থেকে মৎস্য কর্মকর্তার নির্দেশে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা থেকে চালকসহ একটি ট্রলার ও তিনজন সহযোগী নিয়ে ওই ট্রলারটি ভাড়া করেন।

বেশ কিছুদিন পর্যন্ত স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করে শেষ মুহুর্তে কিনারায় উঠে দায়সারা ভাবে কিছু নষ্ট ছেড়া জাল লোক দেখানোর জন্য আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে।

ভাল জালগুলি ট্রলারের একপ্রান্তে পাটাতনের নিচে বিক্রির উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রেখে প্রতিনিয়ত বিক্রি করছেন।

সামান্য কিছু মাছ ২/১টি এতিমখানায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। এমনকি ট্রলার আনা হয়েছে জাল ও মাছ ভাগা হিসেবে এমনো অভিযোগ রয়েছে মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। শনিবার ১৬ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টায় সাংবাদিক ও স্থানীয়রা উপস্থিত হয়ে দেখতে পায় সামান্য কিছু পুড়িয়ে ফেলে দ্রæত সটকে পড়ে।

পরে শতশত স্থানীয়দের চাপের মুখে ট্রলার চালক মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার রতন খানের ছেলে মোঃ রাসেল খান(৪০), সহযোগী সেন্টু হাওলাদার ও হাবিব হোসেন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী জাহিদ হোসেনের উপস্থিতিতে ট্রলার থেকে স্থানীয়রা বিপুল পরিমান জাল উদ্ধার করে।

খবর পেয়ে মুহুর্তের মধ্যে ছুটে আসেন উপজেলা মৎস্য দপ্তরের ফিল্ড এসিসট্যান্ট সামসুল আলম, সিন্ডিকেট চক্রের মূলহোতা করিম সিকদার, শ্যামল ব্যানার্জীসহ ১০/১২ জন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সামসুল আলম বলেন, কিছুক্ষণ পূর্বে আমরা পুলিশের উপস্থিতিতে জব্দকৃত ১ হাজার মিটার জাল পুড়িয়ে ফেলেছি ও ৫ কেজি মাছ এতিমখানায় দিয়েছি।

তবে ট্রলার চালককে বারবার প্রশ্ন করেন কিভাবে ট্রলারে এত জাল থেকে গেল ? এদিকে ট্রলার চালক রাসেল খান জানান, এই অভিযানে ওইদিন সকাল ৬টায় শুরু হয়, বেলা সাড়ে ১১ টায় কিছু জাল পুড়িয়ে সবাই চলে যায়। তবে অতিরিক্ত জালগুলি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী জাহিদ হোসেন রাখতে বলেছিলেন।

এই অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা মৎস্য অফিসের ফিল্ড এসিসট্যান্ট সামসুল আলম, ইউএনও অফিসের স্টাফ জাহিদ হোসেন, থানা পুলিশের এ.এস.আই আইয়ুব হোসেনসহ ২জন কনস্টেবল ও ট্রলার চালকের দুই সহযোগী। পথচারী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এখানে প্রায় ১৫শ মিটার জাল হবে।

যে সরিষা দিয়ে ভুত ছাড়ানো হবে সেই সরিষাই যখন ভুতে ধরেছে তখন অভিযান আর কি হতে পারে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শিমুল রানী পাল জানান, এই অভিযানে আমি উপস্থিত ছিলাম না।

নির্বাহী অফিসের নির্দেশ ছাড়া কোন অভিযান পরিচালনা করা হয় না। জাল পোড়ানো ও মাছ বিতরণ তাদের উপস্থিতি ও নির্দেশে করা হয়। তবে জাল মজুদের ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না।

অন্য সব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণতি বিশ্বাস জানান, আমার অফিসের একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর নির্দেশে জাল রেখে দেবে এটা হাস্যকর।

এই দূর্নীতির সাথে যেই জড়িত থাকুক তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।