• ২৩শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

ঈদ আনন্দ থাকতেই বরিশালে বইছে পহেলা বৈশাখের আনন্দ

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত এপ্রিল ১৪, ২০২৪, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ঈদ আনন্দ থাকতেই বরিশালে বইছে পহেলা  বৈশাখের আনন্দ

এইচ আর হীরা : ঈদ মানেই হচ্ছে খুশি, আনন্দ, উৎসব, ঈদ মুসলমানদের একটি অনন্য সভ্যতার প্রতীক। ঈদ এলে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে সঞ্চারিত হয় ভ্রাত্রীত্ববোধ,সহমর্মিতা, সহানুভূতি এবং একজনের দুঃখ দারিদ্র্য অন্য আরেকজনের অংশীদার হওয়ার অনুভূতি ও আকুতি। ঈদ একটি নির্মল আনন্দের উৎসবের দিন। ঈদের আনন্দ অনুভব করে মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি সদস্য। পবিত্র ঈদুল ফিতরের পূর্বে রমাদানের মাস ব্যাপী ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সিয়াম সাধনায় নিয়োজিত থাকে। উঁচু-নিচু ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে আত্মসংযম লোভ-লালসা দমন দুঃখ কষ্ট লাঘব ও ধনী-গরীব বিত্তবান সকল মুসলমানদের মাঝে ঈদের আনন্দ বিরাজ করে।

মুসলিম উম্মাহর অন্যান্য সকল উৎসবের মধ্যে বড় পরিসরে উদযাপন করা হয় এই উৎসব। তবে এবারের ঈদের আনন্দ থাকতেই আরেকটি উৎসবের আনন্দ এনে দিয়েছে পহেলা বৈশাখ, বাংলা বর্ষ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ। সোমবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখে বর্ণিল উৎসবে মাতবে গোটা বাঙালি। নতুন স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর সম্ভাবনাকে সামনে রেখে নানা আয়োজনে পালন করা হবে বাংলার নতুন বর্ষ। এদিকে,ঈদের আনন্দ উদযাপন করতে বরিশালের বিনোদন কেন্দ্রে সব বয়সের মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। জীবন-জীবিকার জন্য যারা সারা বছর দূর-দূরান্তে থাকেন তারা এবারের ঈদে ছয় দিনের ছুটি পেয়ে বাড়িতে এসে স্বজনদের নিয়ে নগরীর বিভিন্ন বিনোদন স্থানে ঘুরে বেড়ান। একদিকে ঈদুল ফিতর অন্যদিকে বাংলা নববর্ষ, একই ছুটিতে দুই উৎসব পেয়ে মহাখুশি বরিশালে ছুটি কাটাতে আসা দূর-দূরান্তে থাকা কর্মজীবী মানুষ। 

ঈদুল ফিতরের তৃতীয় দিনেও নগরীর বিভিন্ন বিনোদন স্পট গুলোতে ভিড় দেখা গেছে হাজারো দর্শনার্থীদের। ঈদের আনন্দ উদযাপন করতে কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ স্বজন, কেউ বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন বরিশালের প্লানেট পার্ক, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, স্বাধীনতা পার্ক, বঙ্গবন্ধু উদ্যান, শহীদ কাঞ্চন পার্ক, গ্রীন সিটি পার্ক, গুঠিয়ার দৃষ্টিনন্দন বায়তুল আমান মসজিদ কমপ্লেক্স ও ঈদগাহ ময়দান এবং কীর্তনখোলা নদী তীরবর্তী বেড়ি বাঁধের মনোরম পরিবেশে। নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম সজল নামের এক দর্শনার্থী জানান, কর্পোরেট চাকুরীর সুবাদে বাহিরে তেমন একটা গুরতে আসা হয় না। এবারের ঈদ উপলক্ষে ৫ দিনের ছুটি পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছি। এক দিকে ঈদের আনন্দ অন্যদিকে বাঙালির ঐতিহ্য বাংলা নববর্ষ এক সাথে পেয়ে খুবই ভালো লাগছে। জারা খান নামের এক দর্শনার্থী জানান, প্রতিবছর ঈদের তিনদিন পরিবারের সকলকে নিয়ে বরিশালের বিভিন্ন যায়গায় ঘুরতে যাই।

এবারও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। ব্লেস পার্ক, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, ত্রিশ গোডাউন, তালতলি ব্রিজসহ অনেক যায়গায় ঘুরতে গিয়েছি। তিনি বলেন, বরিশালের বিনোদন স্পষ্ট গুলো আগের থেকে আরও উন্নত এবং যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো থাকায় ঘুরতে গিয়ে এবারের ঈদটা অনেক আনন্দময় কেটেছে। বিনোদন কেন্দ্র গুলোর দায়িত্বরতরা জানিয়েছেন, শুক্রবার (১২ এপ্রিল) দুপুরের পর থেকেই সাধারণ মানুষ বিনোদন কেন্দ্রগুলোয় আসতে শুরু করেন। শিশু থেকে কিশোর-কিশোরী কিংবা তরুণ-তরুণী, এক কথায় নানান বয়সের নারী-পুরুষ ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে বিনোদন কেন্দ্রগুলোয় জড়ো হয়েছেন। নগরের ত্রিশ গোডাউন এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বশির জানান, স্বাভাবিক দিনের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ভিড় হয়েছে। প্লানেট পার্কের ব্যবস্থাপক সোহরাব হোসেন জানান, ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে এ পার্কে ভিড় জমে।

পার্কে বেড়ানো ছাড়াও ছয় ধরনের রাইডে চড়ে আনন্দ উপভোগ করেন শিশুসহ সব বয়সের মানুষ। এবারে ঈদ শেষ হতে না হতেই পহেলা বৈশাখ চলে আসায় আগামী তিন/চার দিন এই ভিড় থাকবে বলে জানান তিনি। জানা যায়, বাংলা বর্ষবরণ উপলক্ষে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন বরিশালে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনের ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। আর বর্ষবরণের সবচেয়ে বৃহৎ জমায়েত হতে যাচ্ছে মঙ্গল শোভাযাত্রা ঘিরে। পহেলা বৈশাখা উপলক্ষে বরিশাল নগরীর ব্রজমোহন বিদ্যালয় (বিএম স্কুল) মাঠে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও আয়োজন করা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা। এরই মধ্যে মেলার আয়োজক কমিটি সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এছাড়াও মেলায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা জোড়দার করতে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ব্যাপক প্রস্তুতি লক্ষ্য করা গেছে। শনিবার বিকেলে বিএম স্কুল মাঠে গিয়ে দেখা যায়,দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা তাদের স্টলগুলো সাজিয়েছেন বাঙালি সাংস্কৃতির আদলে।

বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন পরিষদ উদীচী নাটক এর প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাঈদ পান্থ জানান, রবিবার পহেলা বৈশাখে (১৪ এপ্রিল) সকাল ৭টায় ব্রজমোহন বিদ্যালয় (বিএম স্কুল) প্রাঙ্গণে উদীচী শিল্পগোষ্ঠীর উদ্যোগে সংগীত ও নৃত্যের মাধ্যমে প্রভাতী অনুষ্ঠান শুরু হবে। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে সকাল সাড়ে আটটায় মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হবে। যা নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে অশ্বিনী কুমার হল প্রাঙ্গণে এসে শেষ হবে। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় বরিশাল জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হবে। এছাড়া শোভযাত্রা শেষে চারুকলার আয়োজনে বরিশাল সিটি কলেজ প্রাঙ্গণের চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতার পাশাপাশি লোকজ সংস্কৃতির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে চারুকলার শিল্পী ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের মুকুট, মুখোশ, পাখা, পালকি, ঘোড়া, নৌকাসহ বিভিন্ন লোকজ উপকরণ তৈরি করছেন। এবারে ঈদের পরে মঙ্গল শোভাযাত্রা হওয়ায় বিগত দিনগুলোর থেকে কয়েকগুণ বেশি লোকসমাগম হবে বলে জানিয়েছেন মঙ্গল শোভাযাত্রা ১৪৩১ এর আহ্বায়ক দুর্জয় সিংহ। একই কথা জানিয়েছেন উদীচী বরিশালের সাধারণ সম্পাদক স্নেহাংশু কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখের সকল আয়োজনে প্রচুর লোকসমাগম হবে।

আর এ চিন্তাভাবনা থেকেই প্রতিটি আয়োজন সাজানো হচ্ছে। পহেলা বৈশাখ ভোর ৭টায় শুরু হওয়া প্রভাতী সাংস্কৃতিক আয়োজন থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা সব জায়গাতেই ভিন্নতাও থাকছে। তিনি বলেন, প্রভাতী অনুষ্ঠান ছাড়াও উদীচীর আয়োজনে ব্রজমোহন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পহেলা বৈশাখ থেকে ৩ দিনের লোকমেলা অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে বাংলা বর্ষষবরণ উপলক্ষে শব্দাবলী গ্রুপ থিয়েটার শহীদ মিনারে তিন দিনের বৈশাখী সাংস্কৃতিক কর্মসূচি নিয়েছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. জিহাদুল কবির জানান, মঙ্গল শোভাযাত্রা ও মেলা ঘিরে বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। আমরা ঈদের প্রস্তুতির সাথে বর্ষষবরণ ঘিরে প্রস্তুতি শুরু