• ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৬ই রমজান, ১৪৪২ হিজরি

আরো ভয়ঙ্কর রুপ নিচ্ছে ময়লার ভাগাড়: থামছেই না বিষাক্ত ধোঁয়া!

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত এপ্রিল ৬, ২০২১, ২০:১৫ অপরাহ্ণ
আরো ভয়ঙ্কর রুপ নিচ্ছে ময়লার ভাগাড়: থামছেই না বিষাক্ত ধোঁয়া!

সাকিবুল হৃদয় ॥ এলাকাবাসীর অভিযোগ বার বার সংবাদ প্রকাশের পরও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে কোনো রকমের ব্যাবস্থা গ্রহন করা হয়নি।দিনে বেলায় দুর্গন্ধ আর রাতের বেলায় পুরো এলাকা বিষাক্ত ধোঁয়া । এলাকাবাসীর জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে।

আবার কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে পাড়ি জমাচ্ছে অন্য এলাকায়।সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, শহরে গৃহস্থালি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, হাসপাতাল-ক্লিনিক, শিল্প-কলখানা, হোটেল-রেস্টুরেন্ট ইত্যাদিতে প্রতিদিন ব্যাপক পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হয়।

এসব ময়লা শহরের বিভিন্ন ডাস্টবিন থেকে নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের ট্রাক করে শহরের অদূরে পুরান পাড়া ৩ নং ওয়ার্ডে নির্দিষ্ঠ স্থানে ফেলা হচ্ছে । মাঝে-মধ্যে ওই ময়লার স্তুপে আগুন দিয়ে পুড়ানোর চেষ্টা করে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ।

এতে আগুনের ধোঁয়ায় এলাকার পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে উঠে। দিনে বেলায় দুর্গন্ধ আর রাতের বেলায় পুরো এলাকা বিষাক্ত ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখতে হয় এলাকাবাসীকে।

ওই এলাকাসহ পার্শ্ববতী এলাকার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গুলো সন্ধার মধ্যেই বন্ধ করতে বাধ্য হয়। এ বিষয়ে কাউনিয়া টেক্সটাইল এলাকার ব্যাবসায়ীরা বলেন,সারাদিন দুর্গন্ধে থাকার পর রাতে যদি আবার বিষাক্ত ধোয়া! রাস্তায় মানুষ বের হতে পারে না। আর রাস্তায় মানুষ বের না হলে আমরা কাদের কাছে বেঁচাকেনা করবো।

পুরান পাড়া ছোট বট তলা এলাকার মুদি দোকানদার এসকান্দার আলী বলেন, গত ৪ এপ্রিল রাতে হটাৎ করে কাল বৈশাখী ঝড় শুরু হয়। এই ঝরের কারনে আগুনের তান্ডব আরো বেড়ে যায় ।

এতে করে বিষাক্ত ধোঁয়া আর আগুন দেখে আমরা আতঙ্কে পড়ে যাই । কেননা ময়লার ভাগারের পাশে ৩৩০০ ভোল্টের লাইট পোষ্ট। যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় কোন দূর্ঘটনা।

অপরদিকে ৩নং ওয়ার্ডের বৃদ্ধ আব্দুল জলিল বয়স ৮০’র উপরে তিনি বলেন, ”বাঁঁচমু আর কয়দিন চাইছিলাম যে কয়ডা দিন বাঁচমু শান্তিতে বাঁচমু হেইয়া আর হইবে না। দিনে পঁচা গন্ধ আর রাইতে ধুয়া বিশ্বাস করেন বাবাজি শ্বাস করতে কষ্ট হয় আমাগো মেয়রের ধারে একটাই দাবী ময়লা খোলাডা জানি একটু সরানোর ব্যাবস্থা করে।

একদিকে যেমন ময়লার দুর্গন্ধ ও ধোঁয়ায় এলাকাবাসীর বিভিন্ন রোগবালাই ছড়িয়ে পড়েছে, তেমনি অন্যদিকে বেড়েছে মশার উপদ্রবও। সব কিছু মিলিয়ে ক্ষোভের শেষ নেই স্থানীয় ভুক্তভোগীদের। এরই মধ্যে অনেক বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ বাচ্চারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন।

এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়,দিনের বেলা দুর্গন্ধ আর রাতে বিষাক্ত ধোঁয়া এই দুইয়ে মিলে আমাদের জীবন হুমকির মুখে। চারদিকের উৎকট গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে থাকছে। গৃহস্থালি বর্জ্যরে পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ হাসপাতাল বর্জ্যও একই সঙ্গে ফেলা হচ্ছে।

এগুলো সাধারণ বর্জ্যরে সঙ্গে মিশে সংক্রামক ও ক্ষতিকর বর্জ্যে পরিণত হচ্ছে। এর ফলে ছড়িয়ে পড়ছে হেপাটাইটিস ‘বি’, হেপাটাইটিস ‘সি’, যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়ার মতো রোগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য ২০০৫ সালের দিকে ৩ নং ওর্য়াডের পুরানপাড়ার ও হোসনাবাদ এলাকার আংশিক অংশ নিয়ে প্রায় ৬ একর জমির উপর ভাগাড়টিতে শহরের বর্জ্য এনে ফেলা শুরু হয়। যা দীর্ঘ বছরে পাহাড় সমান উচ্চতায় পৌঁছেছে। রাত দিন আগুন জ্বলায় পুরো ময়লার ভাগাড় জুড়ে বিসাক্ত ধোঁয়া চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে।

জীবনের শেষ সম্বল দিয়ে ময়লার ভাগাড়টি সংলগ্ন সড়কের পাশে যারা বাড়ি ঘড় এবং ব্যবসা বানিজ্য দিয়েছিল তারা দুর্গন্ধে এলাকা ছেড়ে অনেক আগেই অন্যত্র চলে গেছে।