• ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৬শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

আমনের সোনালী ফসলের স্বপ্ন ন্যায্য দাম নিয়ে চাষিরা দুশ্চিস্তায়! 

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত নভেম্বর ২৫, ২০২১, ১৫:২৭ অপরাহ্ণ
আমনের সোনালী ফসলের স্বপ্ন ন্যায্য দাম নিয়ে চাষিরা দুশ্চিস্তায়! 
লিপিকা মন্ডল অর্পিতা, বেতাগী : উপকূলীয় জনপদ বরগুনার  বেতাগীতে একটি পৌরসভাসহ  ৭ টি ইউনিয়নে ১ হাজার ৬ শ ২০   হেক্টরে জমিতে  বিভিন্ন জাতের আমন ধানের চাষ করা হয়েছে। তবে বর্তমান বাজারে দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতিতে কৃষকরা ন্যায্য দাম নিয়ে চিন্তিত রয়েছে।
  কৃষকরা জানায়, এ উপজেলায় আমনের বীজ বপনের এক সপ্তাহ পরে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। ওই সময় বৃষ্টিতে আমনের চাষে এ বছর ভালো ফলন হয়েছে। মাঠভরা সোনালী ধান বাতাসে দুলছে। আমন ধান পাকতে শুরু করেছে। আর ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে এই ধান ঘরে তুলতে চাষিদের ব্যস্ততা বেড়ে যাবে।
আর এ দৃশ্যে চাষির মন আনন্দে রঙ্গিন স্বপ্নে মসগুল। তবে  বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে ধানের ন্যায্য মূল্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে চাষিরা।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বিআর-৫, বিআর-৬, বিআর-৭, বিআর-১০, বিআর-১৬, বিআর-২৩, বিআর-২৫, ব্রি ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯ ও হাইব্রিড ধান ১ হচ্ছে উন্নত চিকন সুগন্ধি জাতের ধান ।
এ ছাড়া  আরো আছে কালোজিরা, খাসকদম, ক্ষীরকদম, দুলাভোগ, কাটারিভোগ, চিনিগুড়া, জিরাভোগ ও চিনিআতপ জাতের ধান। এসব ধানের মধ্যে কালোজিরার ফলন ভালো হওয়ায় এলাকার কৃষকরা এ সব জাতের ধান চাষে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। কৃষক এই ধানের চাষ নিয়ে এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন।
এ বছর আমন মৌসুমে উফশী ব্রি-ধান ৩৪  হেক্টরে ৪০-৫০ মণ পর্যন্ত ফলন হয়েছে।  মানভেদে ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ধান। মানভেদে এক কেজি চাল ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।  এ উপজেলার উৎপাদিত সুগন্ধি চাল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় চালান হচ্ছে।
   পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক রফিকুল ইসলাম  জানান, এখন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এই কালোজিরাসহ সুগন্ধি ধানের চাষ করে সফল হচ্ছেন অনেক কৃষক। আমন মৌসুমে এসব সুগন্ধিযুক্ত কালোজিরা, চিনিগুড়া, ক্ষীরকদম, কাটারিভোগ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। দাম ভালো পেলে চাষিদের  আমন মৌসুমে এসব ধান চাষে আগ্রহ বাড়বে।’
  বেতাগী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন  বলেন, ‘এ উপজেলায় আমনের ভালো ফলন হয়েছে। তবে আমন মৌসুমে সুগন্ধি ধান চাষের ঐতিহ্য এখানকার চাষিদের  রয়েছে। আমন মৌসুমে এসব সুগন্ধি ধান উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এ জাতীয় ধান চাষে কৃষকের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।’
     এ বিষয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুহৃদ সালেহীন বলেন,’ আমন মৌসুমে চাষিরা যাতে ধানের ন্যায্য দাম পায় এই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। বাজার মনিটরিং করা হবে।’