• ১৯শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১২ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

আমতলীতে শিশু কল্যান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের অভাবে গাছতলায় ক্লাশ

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত অক্টোবর ৯, ২০২১, ১৭:৪৪ অপরাহ্ণ
আমতলীতে শিশু কল্যান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের অভাবে গাছতলায় ক্লাশ

dav

জাকির হোসেন, আমতলী ॥ আমতলীর শিশু কল্যান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন না থাকায় নিরুপায় হয়ে কোমল মতি শিশুরা রোদে পুরে বৃষ্টিতে ভিজে গাছ তলায় বসে ক্লাশ করছে। এর আগে একটি ধারকরা এবতেদায়ী মাদরাসার জরাজীর্ন ঘরে ক্লাশ করা হলেও সেটি বর্তমানে ভেঙ্গে পরায় এমন অবস্থা হয়েছে বিদ্যালয়টির।

জানাগেছে, উপজেলার ঝড়ে পড়া, অসহায়, শিশু শ্রমিক ও দুস্থ শিশুদের শিক্ষাদানের জন্য ২০১৫ সালে জেলা পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফ-উল-হাসান আরিফ আমতলী শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আমতলী পৌরসভার খোন্তাকাটা বেগম নুরজাহান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করেন। সেখানেও ভবনের অভাবে পাঠ দানে সমস্যা দেখা দেয়।

এ অবস্থায় কয়েক দিন ক্লাশ বন্ধ থাকার পর নিরুপায় হয়ে প্রতিষ্ঠাতা এবং শিক্ষকরা চাওড়া ইউনিয়নের কালীবাড়ী গ্রামে মসজিদ সংলগ্ন হাসানিয়া ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় জরাজীর্ণ ধার করা ভবনে শিশু কল্যাণ স্কুলের পাঠদান কার্যক্রম শুরু করেন।

গত তিন বছর ধরে ওই জরাজীর্ণ মাদ্রাসা ভবনে চলে আসছে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। পর পর কয়েকটি ঘূর্নিঝড়ের কারনে ওই মাদ্রাসা ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পরে। মহামারি করোনার পর কিছু দিন জরাজীর্ন মাদরাসা ঘরে ঝুঁকি নিয়ে ক্লাশ করার পর এক পর্যায়ে গত বুধবার টিনের মাদরাসা ঘরটি ভেঙ্গে পরে।

এতে বিপাকে পরে স্কুল শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা। নিরুপায় হয়ে তারা এখন ভাঙ্গা ঘরের ভিটিতে গাছের নীচে বেঞ্চ বিছিয়ে ক্লাশ নিচ্ছেন শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা।

শনিবার সকালে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের কোমল মতি শিশুরা ভবনের অভাবে গাছ তলায় বেঞ্চ বিছিয়ে রোদে পুরে এবং বৃষ্টিতে ভিজে ক্লাশ নিচ্ছে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সারা মনি বলেন, আমাগো বিদ্যালয়ের ভবন না থাকায় অনেক কস্ট করে লেখা পরা করি। মাদরাসার যে ঘরে ক্লাশ করতাম তাও ভেঙ্গে পরায় এখন গাছ তলায় বসে ক্লাশ করতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়।

তৃতীয় শ্রেণির তৃশা মনি বলেন, মোগো ঘড় নাই। দেওইতে ভিজ্যা এবং রৌদে হুগাইয়া ক্লাশ করি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সানজিদা খানম জানান, বিদ্যালয়টিতে ১১৯ জন শিক্ষাথী ৫ জন শিক্ষক ও ১ জন কর্মচারী রয়েছে। বিদ্যালয়ের ভবন না থাকায় এতদিন আমরা ধার করা মাদরাসা ঘরে ক্লা নিতাম। মাদরাসা ঘরটিও ভেঙ্গে পরায় নিরুপায় হয়ে আমরা এখন গাছ তলায় বসে রোদে পুরে এবং বৃষ্টিতে ভিজে শিশুদের নিয়ে ক্লাশ করছি।

বিদ্যালয়ের অভিভাবক হেলাল রাঢ়ী ও মাহিনুর বেগম বলেন, উপজেলার একমাত্র শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নেই। একটি মাদ্রাসার ঘরে ক্লাশ করতো তাও ভেঙ্গে পড়ায় এখন গাছ তলায় ক্লাশ করতে গুরাগাড়ার ব্যামালা কষ্ট অইতে আছে।

আমতলী শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট মো. আরিফ-উল-হাসান আরিফ বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শিক্ষা বঞ্চিত ঝড়ে পড়া, অসহায়, শিশু শ্রমিক ও দুস্থ শিশুদের নিয়ে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করি। বর্তমানে ্িদ্যালয়টির ভবন নেই।

এতদিন মাদরাসার ধার করা ঘরে ক্লাশ নিতাম। মাদরাসা ঘড়টিও ভেঙ্গে পরায় শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা নিরুপায় হয়ে এখন খোলা আকাশের নীচে গাছ তলায় ক্লাশ নিচ্ছে। শিশুদের প্রতি দৃষ্টি দিয়ে এখানে একটি দ্রুত ভবন নির্মান করা প্রয়োজন। আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মজিবুর রহমান বলেন, শিশু কল্যাণ বিদ্যালয়টির জরুরী ভিত্তিতে ভবন প্রয়োজন। ভবন না থাকায় পাঠদান ব্যহত হচ্ছে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত) দায়িত্ব ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. কাওসার হোসেন বলেন, দ্রুত ভবন নির্মাণে জন্য প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।