• ২৩শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১২ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

আমতলীতে তুচ্ছ ঘটনায় মাদরাসা ছাত্রকে বিচারের নামে পিটিয়ে গুরুতর জখম

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত জুন ১০, ২০২১, ১৪:১০ অপরাহ্ণ
আমতলীতে তুচ্ছ ঘটনায় মাদরাসা ছাত্রকে বিচারের নামে পিটিয়ে গুরুতর জখম

dav

আমতলী প্রতিনিধি॥ আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের ইউসুফিয়া রশিদিয়া হাফিজিয়া নুরানী মাদরাসায় বুধবার রাতে জুতা নিয়ে দুই সহপাঠীর মধ্যে তুচ্ছ ঘটনায় উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের দুলাল ফকিরের ছেলে হেফজ শাখার ছাত্র রবিউল (১২) নামে এক মাদরাসা ছাত্রকে বিচারের নামে মাদরাসার সভাপতি ও এক শিক্ষক মিলে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় ওই দিন রাত ১২ টায় আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে শিশুটির বাবা।

জানা গেছে, হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের ইউসুফিয়া রশিদিয়া হাফিজিয়া নুরানী মাদরাসায় হেফজ বিভাগে পরাশুনা করেন উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের দুলাল ফকিরের ছেলে মো. রবিউল ইসলাম (১২)। তার সাথে ওই একই মাদরাসার ছাত্র মো. নাঈম এর সাথে মাদরাসার হোস্টেলে বসে বুধবার সন্ধ্যা ৭টার সময় জুতা পায় দেওয়া নিয়ে সামন্য কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনা নাঈম মাদরাসার নূরানী শাখার শিক্ষক মো. মাহবুব আলমকে জানায়।

শিক্ষক মাহবুব ওই মাদরাসার পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো. আবুল চৌকিদারকে মাদরাসায় ডেকে বিচারের নামে দু’জনে মিলে রবিউলকে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে বেধরক পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। কঞ্চির আঘতে রবিউলের পিঠ, সিনা, ঘাড় এবং দুই উরু রক্তাত্ব জখম হয়। রবিউলকে মারধরের খবর পেয়ে তার বাবা মো. দুলাল ফকির মাদরাসা থেকে তার ছেলে রবিউলকে রাত ১১ টায় উদ্ধার করে আমতলী হাসপাতালে এনে চিকিৎসা করান। চিকিৎসা শেষে রাত ১২ টার সময় তিনি বাদী হয়ে অভিযুক্ত সভাপতি আবুল চৌকিদার ও শিক্ষক মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে আমতলী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

আহত রবিউল কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, আমার সহপাঠি নাঈম এর সাথে জুতা পায় দেওয়া নিয়ে সামন্য কথা কাটি কাটি হয়। এ নিয়ে মাদরাসার সভাপতি আবুল চৌকিদার ও শিক্ষক মাহবুব স্যার আমাকে বাঁশের ডাল দিয়ে পিটিয়ে গুরতর জখম করেছে। আমি তাদের হাতে পায় ধরেও রক্ষা পায়নি।

শিশুটির বাবা মো. দুলাল ফকির বলেন, খবর পেয়ে রাত ১১টার সময় আমি মাদরাসায় উপস্থিত হলে আমার ছেলে আমাকে দেখে হাউ মাউ করে কেঁদে ওঠে। তখন আমি দেখি ওর গায়ে মারধরের অনেক আঘাতের চিহ্ন। এমন ভাবে আমার ছেলেটাকে পিটানো হয়েছে যে বাঁশের টনির আঘাতে ওর পুরো শরীর ফুলে লাল হয়ে গেছে। আমি এঘটনার বিচার চাই।

অভিযুক্ত আবুল চৌকিদার ও মাদরাসা শিক্ষক রবিউলকে বিচারের নামে পিটানোর কথা সরাসরি স্বীকার না করলেও বলেন, সামন্য চর থাপ্পর দেওয়া হয়েছে।আমতলী হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. মিজানুর রহমান জানান, শিশু রবিউলের শরীরের অনেক যায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।

অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা আমতলী থানার এসআই মো. সোহরাব হোসেন জানান, তুচ্ছ ঘটনায় বিচারের নামে শিশু রবিউলকে যে ভাবে পিটানো হয়েছে তা অমানবিক।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহ আলম হাওলাদার জানান, মাদরাসা ছাত্র রবিউলকে পিটানোর ঘটনায় তার বাবা লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনায় অপরাধীদের কঠিন শাস্তির আওতায় আনা হবে।