• ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৬ই রমজান, ১৪৪২ হিজরি

আমতলীতে তরমুজের বাম্পার ফলন করোনার লকডাউনে কৃষকের কপালে দুশ্চিন্তার ছাপ

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত এপ্রিল ৬, ২০২১, ১৭:১০ অপরাহ্ণ
আমতলীতে তরমুজের বাম্পার ফলন করোনার লকডাউনে কৃষকের কপালে দুশ্চিন্তার ছাপ

জাকির হোসেন, আমতলী ॥ অনুকুল পরিবেশ মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ফলে এ বছর আমতলী উপজেলা তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে।

কিন্তু বাম্পার ফলন হলেও মহামারি করোনা ভাইরাসের ছোবলে দেশে এখন লকডাউন চলায় আকস্মিক তরমুজের দাম কমে যাওয়ায় কৃষকের কপালে এখন দুশ্চিন্তার ছাপ পরেছে।

ক্রেতা শূন্য তরমুজ বাজার। দাম কম থাকায় রাস্তার পাশে স্তুপ আকারে তরমুজ রাখা হয়েছে ক্রেতার আশায়।

আমতলী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছর আমতলী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ১ হাজার ৯শ’ ৯০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে।

তরমুজ একটি লাভ জনক এবং স্বল্প কালীন সময়ের ফসল হওয়ায় কৃষকরা তরমুজ চাষের দিকে ঝুঁকছে।

একারনে এবছর আমতলী উপজেলায় অনাবাদী প্রচুর পরিমানে তরমুজ চাষ হয়েছে। এক সময় ধান ওঠার পর আমতলীর অধিকাংশ জমি পতিত পরে থাকত।

সেই পতিত জমিতে এখন তরমুজ চাষ করে অনেক কৃষক লাখ পতি বনে গেছে। রাওঘার কৃষক হাসেম আলী জানান, একসময় প্যাট ভইরা ভাত খাইতে পারতাম না তরমুজ চাষ কইরা মোগো ভাগ্য ফিররা গেছে।

এহন মোরা অনেক টাহা পয়সার মালিক অইছি। লাভের আশায় অনেক কৃষক এবছর তরমুজ চাষ করে এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে।

মহামারি করোনার কারনে আকস্মিক তরমুজের দাম পরে গেছে। বাজারে তরমুজের কোন ক্রেতা নেই। তাই বেচা বিক্রিও বন্ধ।

ক্ষেতে বিক্রি করতে না পারায় কৃষকরা নিজেরা বিক্রির আশায় তরমুজ নিয়ে এসেছে আমতলীর পাইকারী আড়তে।

সেখানেও তারা এখন তরমুজ বিক্রি করতে পারছে না। অনুনোপায় হয়ে ক্ষেত থেকে বিক্রির আশায় তুলে আনা তরমুজ এখন স্তুপ করে রেখেছে আমতলী-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে। এই মাহাসড়কের পাশ জুরে এখন স্তুপ আকারে পরে রয়েছে হাজার হাজার তরমুজ।

উপজেলার হলদিয়া চাওড়া ও আমতলী সদর ইউনিয়নের বিস্তির্ন এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখে গেছে, মাঠে মাঠে তরমুজের ছড়াছরি।

যে দিকে দুচোখ যায় শুধু সবুজ লতায় আচ্ছাদিত পাহারের টিলার মত তরমুজ পড়ে রয়েছে।

তরমুজ ক্ষেতে নারী পুরুষ একত্রে কাজ করছে তাদের স্বপ্নের ফসল ঘরে তোলার জন্য। এবছর আবহাওয়া অনুকুল, পর্যাপ্ত সার ও কীটনাসক পাওয়ায় এবছর তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই।

কারন মহামারি করোনার লকডাউনে আকস্মিক ছোবলে বাজারে তরমুজের দরপতন হয়েছে।

গত বছর যে তরমুজ ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা দরে শ’ বিক্রি হত এবছর সে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা শ’ দরে।

তরমুজের দাম কমের কথা উল্লেখ করে পাইকারী ক্রেতা আজিজুল হক বলেন, ‘মরনব্যাধি ভয়াবহ করোনার ছোবলে দেশে এখন লকডাউন চলছে এ অবস্থায় আকস্মিক তরমুজের দাম পড়ে গেছে। শ্রমিক নেই।

ট্রাকের ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। করোনায় নিজেও তরমুজ নিয়ে শহরে যেতে ভয় পাচ্ছি। চাওড়ার তরমুজ চাষী মিজানুর ব্যাপরী জানান, এবছর ২৪ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। খরচ হয়েছে ১লাখ ৮০ হাজার টাকা।

কিন্তু বাজারে এ অভস্থা চলতে থাকলে তরমুজ বিক্রি করে এবছর আদৌ কোন লাভ হবে না।

হলদিয়ার দুলাল মোল্লা বলেন, তরমুজের ফলন ভাল হয়েছে কিন্তু বর্তমানে উৎপাদিত তরমুজ বিক্রি করতে পারছি না।

ক্ষেতের তরমুজ ক্ষেতেই পচে যাওয়ার অবস্থা হয়েছে। এখন চালান উঠাতে পারবো কি না সে দুশ্চিতায় আছি।

আমতলীর পাইকারী আড়ৎ ঘুরে দেখা গেছে তরমুজের ছড়াছরি। ঘরে তরমুজের ঠাই না হওয়ায় সড়কের আশেপাশে স্তুপ করে তরমুজ রাখা হয়েছে।

অনেক তরমুজ মালিক নিজেরাই তরমুজ বিক্রির জন্য রাস্তার পাশে তরমুজ রেখেছেন কিন্তু ক্রেতা নেই তেমন একটা।

আমতলী বাঁধঘাট পাইকারী আড়ৎদার মো. আবদুস ছালাম জানান, করোনার লকডাউনের কারনে আমরা তরমুজ কিনে কোথাও পাঠাতে পারছি না।

তাই তরমুজ কেনা বন্ধ রাখছি। আরেক ব্যবসায়ী শাহ আলম জানান, করোনার কারনে গত বছরের তুলনায় এবছর ক্রেতা কম।

গত বছর ১টি তরমুজ (বড় সাইজের) ২ থেকে আড়াইশ টাকায় বিক্রি করেছি। এবছর বর্তমানে তার দাম ১ থেকে দেড়শ’ টাকা।

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্ত সিএম রেজাউল করিম জানান, বরগুনার মধ্যে আমতলী উপজেলা তরমুজ চাষের জন্য বিখ্যাত।

তরমু চাষ লাভ জনক হওয়ায় প্রতিবছরই এখানে তরমুজ চাষীর সংখ্যা এবং জমির পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তাছাড়া এখানকার তরমুজ আকারে বড় ও সুমিষ্ট। তাই এই তরমুজের চাহিদা রয়েছে সর্বত্র। করোনার কারনে কৃষকরা তাদের উৎপাদিক তরমুজের সঠিক দাম না পেলে স্বর্বশান্ত হয়ে যাবে।