অবাধে পরকিয়া প্রেম চালিয়ে যাওয়ার জন্যই ৩টি হত্যা,প্রবাসীর স্ত্রী গ্রেফতার

প্রকাশিত: ৩:৪১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৯, ২০১৯

অবাধে পরকিয়া প্রেম চালিয়ে যাওয়ার জন্যই ৩টি হত্যা,প্রবাসীর স্ত্রী গ্রেফতার

মো. সুজন মোল্লা,বানারীপাড়া॥ অবশেষে বানারীপাড়ায় আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। পরকীয়া প্রেমের জের ধরেই এ ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। ফলে হত্যাকান্ডের নেপথ্যে থাকা কুয়েত প্রবাসীর স্ত্রী মিশরাত জাহান মিশুকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

অপরদিকে হত্যাকান্ডের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া প্রধান দুই ঘাতক জাকির ও জুয়েল আদালতের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। রোববার রাতে বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. এনায়েত উল্লাহ তাদের জবানবন্দি রেকর্ড শেষে কারাগারে প্রেরনের নির্দেশ দেন।

র‌্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানাগেছে গ্রেপ্তারকৃত দুই ঘাতকের মধ্যে রাজমিস্ত্রি জাকির হোসেনের সঙ্গে পূর্বে থেকেই কুয়েত প্রবাসী হাফেজ আ.রবের স্ত্রী মিশরাত জাহান মিশুর পরকিয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। প্রবাসীর বাড়িতে বিল্ডিং নির্মাণ কাজ করতে গিয়ে তাদের মধ্যে এ পরকিয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরকিয়ার সেই সম্পর্ক ধরেই পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী শুক্রবার দিবাগত রাতে সহযোগী জুয়েলকে নিয়ে প্রবাসীর ঘরে প্রবেশ করেছিলো জাকির।

 

তারা দু’জনে মিলেই প্রবাসীর মা ও ভগ্নিপতিসহ তিন জনকে হত্যা করে। প্রথমে তারা প্রবাসীর খালাতো ভাই ভ্যানচালক ইউসুফ (২২) কে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে। পরে প্রবাসীর মা মরিয়ম বেগমকে (৭৫) একইভাবে শ্বাস রোধ করে হত্যা করার সময় পাশের কক্ষে ঘুমানো শফিকুল আলম ঘুমের মধ্যে কাশি দিলে ঘাতকরা মনে করে সে বিষয়টি টের পেয়েছে। ফলে ধরা পড়ার ভয়ে তাকেও শ্বাস রোধ করে হত্যা করা হয়।

 

শনিবার সকালে ঘটনাস্থল হতে রাজমিস্ত্রি জাকির হোসেন ও রাতে র‌্যাবের সহযোগিতায় তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে বরিশাল সদর উপজেলার কাগাশুরা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় জুয়েলকে। ওই বাসা থেকে ঘাতকদের স্বর্নালঙ্কার ও তিনটি মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিলো হত্যাকান্ডের বিষয়টি চুরি-ডাকাতির কারণে হয়েছে এটা প্রমানের জন্য।

 

আরও জানাযায় ‘আসামিদ্বয় আদালতে জবানবন্দি দেয়ার পরে ঘটনার সঙ্গে প্রবাসীর স্ত্রী মিশরাত জাহান মিশু’র জড়িত থাকা এবং পরকিয়ার বিষয়টি সামনে চলে আসে। এ কারনেই রোববার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে তিন আসামীকে রিমান্ডে আনা হতে পারে বলেও জানাগেছে। এদিকে পরকিয়া প্রেমিকের সঙ্গে নির্বিঘেœ অবাধে অভিসারে মিলিত হতে ও সংসারে স্বাধীনভাবে বিচরণ করে কর্তৃত্ব নিজের হাতে নিতে প্রবাসীর স্ত্রী পরকিয়া প্রেমিকের সঙ্গে মিলিত হয়ে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে শাশুড়ি সহ এ ট্রিপল হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান। তবে পথের কাটা হিসেবে তাদের মূল টার্গেট ছিলো বৃদ্ধা মরিয়ম বেগম ও তার বোনের ছেলে ইউসুফ।

 

উল্লেখ্য শুক্রবার (৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে বানারীপাড়ার সলিয়াবাকপুর গ্রামের হাওলাদার বাড়ির বাসিন্দা ও কুয়েতের একটি মসজিদের ইমাম হাফেজ আ. রবের মা মরিয়ম বেগম, ভগ্নিপতি ও সাবেক স্কুল শিক্ষক শফিকুল আলম এবং খালাতো ভাই ইউসুফকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

এদিকে রোববার সকালে এ ঘটনায় প্রবাসী আ. রবের ছোট ভাই ঢাকায় এনআরবি ব্যাংকের কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ বাদী হয়ে প্রধান ঘাতক রাজমিস্ত্রি জাকির হোসেনকে সুনির্দিষ্ট ও ২/৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে বানারীপাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ওই মামলায় আসামী করে অপর ঘাতক জুয়েল হাওলাদার ও প্রবাসীর স্ত্রী মিশরাত জাহান মিশুকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এদিকে লোমহর্ষক এ হত্যাকান্ডে জড়িত ঘাতকদের ফাঁসির দাবীতে সোমবার সকালে বানারীপাড়ার বাসষ্ট্যান্ড চত্বরে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন।

মো. সুজন মোল্লা

Shares