• ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

অগ্নি ঝুকিতে ভবনগুলোতে নোটিশই শেষ কথা ফায়ার সার্ভিসের

admin
প্রকাশিত এপ্রিল ১, ২০১৯, ১৩:৩৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল নগরীর বহুতল ভবনগুলোতে নেই যথাযথ অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা, নেয়া হয়নি ফায়ার সার্ভিস দপ্তর থেকে বসবাসের সনদপত্র (অকুপেন্সি সার্টিফিকেট)। অগ্নিনির্বাপন প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছাড়াই যত্রতত্র গড়ে উঠেছে বাণিজ্যিক ও আবাসিক বহুতল ভবন। নগরীতে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ৫৪টি বহুতল ভবন রয়েছে অগ্নি ঝুঁকিপূর্ণ। পাশাপাশি বহুতল ভবনের ফ্য¬াট বানিজ্যেও মানা হচ্ছে না কোন নিয়মনিতি। ফ্লাট ব্যবসায়ীরা মানছে না ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিঝুঁকির নীতিমালা। অগ্নিঝুঁকি থেকে রেহাই পেতে বহুতল বাণিজ্যিক ভবনগুলোতে নিচ্ছে ঢিলেঢালা ব্যবস্থা। তবে তা অপরিকল্পিত। এব্যাপারে ফায়ার সার্ভিস ও সিটি কর্পোরেশনের নেই কোন কঠোর পদক্ষেপ। এনিয়ে নগরীর ফায়ার সার্ভিস দপ্তরের স্টেশন অফিসার দেবাশিস বলেন, আমরা ইতিমধ্যে অগ্নিঝুঁকিপূর্ন ভবনগুলো যাচাই-বাছাই করে তালিকা করেছি এবং পালাক্রমে পরিদর্শন করছি। তিনি আরো বলেন, আমরা বিগত বছরে বহুতল ভবনগুলো একাধিকবার পরিদর্শন করেছি এবং ত্র“টি-বিচ্যুতি তাদেরকে জানিয়েছি এরপরও ভবন মালিকরা চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধান করে না। ইমারত বিধিমালা ২০০৮-এ বলা হয়েছে, অগ্নিনির্বাপন আইন অনুযায়ী ভবনে কিংবা স্থাপনায় অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা থাকতে হবে অন্যথায় শাস্তির বিধান রয়েছে। ভবনের প্লান তৈরীর ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিস দপ্তর থেকে অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা পাস করাতে হবে। ইমারত বিধিমালা, ২০০৮-এর ১৮ ধারায় আরো বলা হয়েছে, ইমারত আংশিক বা সম্পূর্ণ নির্মিত হওয়ার পর তা ব্যবহার অথবা সেখানে বসবাসের জন্য বসবাস বা ব্যবহার সনদ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। ১৯ (১) ধারায়ও এর পুনরাবৃত্তি করে বলা হয়েছে, আংশিক বা সম্পূর্ণ বসবাস বা ব্যবহার সনদ পাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণ কোনো অবস্থাতেই ব্যবহার করা যাবে না। অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবনটি নির্মিত হয়েছে কিনা, তা পরিদর্শন করে ১৫ দিনের মাথায় এ সনদ পাওয়া যাবে বলে বিধিমালার ১৯-এর (৫) ধারায় উল্লেখ করা রয়েছে। বিধিমালায় ব্যবহার বা বসবাস সনদের মেয়াদ নির্দিষ্ট করা হয়েছে পাঁচ বছর। এ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই এটি নবায়ন করার বিষয়টিও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সনদ ছাড়া নির্মিত ভবনে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও পয়োনিষ্কাশনসহ কোনো ধরনের পরিসেবার সংযোগ না দেয়ার বিধান রয়েছে। অনুমোদিত নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের কারণে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতিরও ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে বহুতল ভবনগুলোর ক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি আরো বেশি। নির্মিত ভবনের সঙ্গে অনুমোদিত ভবনের নকশার মিল না থাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের বেশ সমস্যায় পড়তে হয়। এ কারণে ক্ষয়ক্ষতিও বাড়ে। বহুতল ভবনগুলোর ব্যবহার সনদ না থাকার পাশাপাশি নেই ফায়ার এক্সিটও। ইমারত বিধিমালাতে আরো বলা হয়েছে, ভবনের উচ্চতা যদি ১ মিটার থেকে ৫৫০মিটার হয় তাহলে ভবনে ২টি সিড়ির ব্যবস্থা থাকতে হবে। ২টির মধ্যে একটি সিড়ি আগুন বা কোন দুঘর্টনা হলে জরুরী নিগর্মনের জন্য সর্বদা উন্মুক্ত থাকবে। আর ভবনের উচ্চতা যদি ৫৫০ মিটার থেকে ১ হাজার মিটার হয় তাহলে ভবনে ৩টি সিড়ির ব্যবস্থা থাকতে হবে। পাশাপাশি হোস রিল (পানির সহজলভ্য রির্জাভার পাইপ) প্রতিটি ফ্লোরে থাকা, ফায়ারস্টিংগুয়েশার, অটো ডিটেক্টর, নির্দিষ্ট সংখ্যক পাম্প ও জলাধারও থাকতে হবে। কিন্তু এনিয়ে অনুসন্ধানসুত্রে জানা গেছে, নগরীর উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক এলাকা হচ্ছে সদর রোড, চকবাজার, গীর্জামহল্লার বহুতল ভবনগুলো অগ্নি ঝুঁকিপূর্ণ। যা তৈরী করা হয়েছে অপরিকল্পিত ভাবে। বরিশাল নগরীর সদর রোডে রয়েছে, এস.এস টাওয়ার, ল্যাবএইড ডায়গনষ্টিক সেন্টার, হোটেল সেডোনা। এছাড়া আরো বহুতল ভবন যাদের দু একটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাকিগুলো প্রতিষ্ঠানে নেই কোন অগ্নি ঝুঁকি রোধের ব্যবস্থা, অগ্নিকান্ডের সময় নেই কোন দ্রুত বের হওয়ার ব্যবস্থা। সরেজমিনসূত্রে, নয় তলাস্থ হোটেল সেডেনোর ব্যবস্থাপক মানিক শরিফ বলেন আমাদের এখানে জরুরী সিড়ি নেই। সম্প্রতি ইঞ্জিনিয়ার এসে দেখে গেছে। পিছন থেকে একটি সিড়ি বের করার জন্য কাজ চলবে। আর ফায়ার সার্ভিসের টিম এসে দেখে গেছে। সদররোডস্থ সাততলাস্থ এসএস টাওয়ারটিতে (ডাচবাংলা ব্যাংক) কোন জরুরী সিড়ি নেই। এব্যপারে ভবনটির স্বত্ত্বাধিকারী মো: শাহদাত বলেন, আমাদের কোন জরুরী সিড়ি নেই। কিন্তু প্রতি তলায় ফায়ার স্টিংগুয়েশার রয়েছে। জরুরী সিড়ি না থাকার ব্যপারে জানতে চাইলে কোন সদুত্তর দিতে সমর্থ হননি। সাত তলাস্থ ল্যাবএইড হাসপাতাল ও ডায়গণস্টিক সেন্টারেও জরুরী বের হওয়ার কোন সিড়ি নেই। ফায়ার স্টিংগুয়েশারেই শেষ কথা অগ্নি নিরাপত্তার বিষয়ে। এব্যপারে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার জলিল সিকদার বলেন, আমাদের এখানে কোন জরুরী সিড়ি নেই। তবে লিফট আছে। কিন্তু অগ্নিকান্ডের সময় লিফট তো কাজ নাও করতে পারে তখন জনবল ও অন্যান্য ভিজিটর কিভাবে বের হবে জানতে চাইলে কোন সদুত্তর মেলেনি। শুধু তাই নয় ফায়ার কোড অনুযায়ী ভবন নির্মানের প্লান পাস হওয়ার পর নির্মাণ শেষে ভবনটি প্লান অনুযায়ী অগ্নি নির্বাপনের জন্য উপযুক্ত কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য ফায়ার সার্ভিস থেকে ব্যবহারিক সনদ নিতে হবে। অথচ কোন ভনের মালিকই তা নেয়নি। বিলাসবহুল এভবনগুলোতে কোন অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থার কঠোরতা দেখা যায়না কেন? বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল ফায়ার সার্ভিস দপ্তরের (এডি) মো: মতিন বলেন, আমরা ভবন মালিকদেরকে নোটিশ করি। এমনকি ভবন ব্যবহারের আগে ফায়ার সার্ভিস থেকে যে ব্যবহারিক সনদ নিতে হয অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা পুরোমাত্রায় নিশ্চিত করার জন্য তাও তো কোন ভবন মালিক নেয়নি। সেবিষয় কিধরণের ব্যবস্থা নেবেন জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, আমরা ইতিমধ্যে ঢাকা রিপোর্ট পাঠিয়েছি। পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া আমরা প্রায় সারা বছরই পরিদর্শন শেষে ঘাটতি বিষয়গুলো নিয়ে নোটিশ করি। কিন্তু এতেও তারা পরিবর্তন হয়না। এখন আমরা উর্ধ্বতন দপ্তরে যোগাযোগ করে অভিযান পরিচালনার চিন্তা করছি।